Breaking

Thursday, February 7, 2019

বিশ্ব শান্তির অভিনব বার্তা দুই ধর্মগুরুর


বরাবরই তিনি নিয়মতন্ত্রের বেড়াজালে আটকে থাকতে অভ্যস্ত নন। কখনও রাজপথে এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করেন তিনি। কখনও আবার নিজের বক্তৃতার মাঝে শিশুদের দাপাদাপিকেও হাসি মুখে সহ্য করেন তিনি। ভ্যাটিকান সিটির কড়া নিয়মশৃঙ্খলা প্রথম থেকেই মানেননি খ্রীস্টিও ধর্মাবলম্বীর সর্বোচ্চ শ্রদ্দার পোপ ফ্রান্সিস। ধর্ম নিয়ে সমস্ত রকম গোড়ামির বিরুদ্ধে তিনি। এমন উদারপন্থী পোপ খ্রীষ্টধর্মের ইতিহাসে আগে কখনও এসেছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। আর তাই সৌদি আববের যুবরাজ শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আলকে আমন্ত্রণ করে ভ্যাটিকানে এনেছিলেন। আবার সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে তিনি নিজেই ছুটে গিয়েছেন মুসলিম সাম্রাজ্যে। 

    আর সেখানে গিয়ে বিশ্বশান্তি কামনা মিশরের গ্র্যান্ড ইমাম আল আলজহার-শেখ-আহমেদ-আল তায়েব’কে পবিত্র চুম্বন করে শপথ নিলেন যুদ্ধ বিদ্ধস্তদের রক্ষা করতে হবে। আবুধাবিতে দুই সম্প্রদায়ের দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের মিলনে ধরা দিল বিশ্বশান্তির এক অভিনব চিত্র। পোপ প্রান্সিস এবং ইমাম আল তায়েব যৌথভাবে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে একটা চুক্তিতে সহ করলেন। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘যুদ্ধ অরাজকতা, অবিচারের শিকার সব মানুষই-মানুষ। তাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। সকলের জন্য সমান সহমর্মিতা বোধ নিয়ে বিশ্বের সমস্ত প্রান্তে কাজ করতে হবে। আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছি, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে কোনওরকম ভাবে অত্যাচারিত মানুষের মধ্যে বিভাজন করা হবে না। কোথাও সন্ত্রাস, রক্তপাত এবং হিংসা হতে দেওয়া যাবে না।’ 

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ধর্মযুদ্ধেরও আশঙ্কা করছেন দুই সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুরা। বিশেষত ইজরাইল এবং প্যালেস্তাইনের দ্বন্দ্বে প্রতিবেশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষষের মধ্যে সম্পর্কে যে অবনতি হচ্ছে সেই কথা অকপটে স্বীকার করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। আবুধাবিতে সৌদি যুবরাজের উদ্যোগে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের সামনে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিলেন পোপ এবং ইমাম। সুন্নি সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ইমাম আল তায়ের শান্তি সম্মেলনে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের খ্রীষ্টান ভাই-বোনেরা আমাদের সহ নাগরিক, সহকর্মী। তাদের সঙ্গে অন্তরের যোগ বাড়াতে হবে।’ আর পোপ ফ্রান্সিসের মতে, ‘বিশ্বের কোনও জায়গা আলাদা করে কোনও সম্প্রদায়ের জন্য নয়। সর্বত্র সকলের অবাধ বিচরণ হওয়া উচিত।’ 

    প্রায় এক দশক আগে মিশরের সেনা অভ্যুত্থানের সময় বহু সমালোচিত হয়েছিলেন তায়েব। অতীতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের দায়িত্বও সামলেছিলেন তায়েব। কিন্তু সেই সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের এক শ্রেণির মানুষের মুখ থেকে তায়েবের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল ‘হয় ইসলাম, নয় মৃত্যু।’ কিন্তু সময় এখন বদলেছে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবরাজ বিন জায়েদ আল দুই ধর্মাবলম্বীর শীর্ষ ধর্ম গুরুদের পাশাপাশি রেখে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিলেন তা সত্যি অভিনব।


No comments:

Post a Comment