Breaking

Wednesday, February 6, 2019

জাপানে আবার দেখা মিলল রিউগু, ফের সুনামির আতঙ্ক


২০১১ সালে জাপানের বিভিন্ন উপকুলের দেখা মিলেছিল ‘রিউগু নো সুকাই’ নামে এক বিশেষ ধরনের মাছের। জাপানিরা এই মাছকে সমুদ্র দেবতার দূত বলেই মনে করে। তাদের বিশ্বাস, সমুদ্র দেবতা যখন রুষ্ঠ হন, তখনই তিনি নাকি জল ছেড়ে ডাঙায় উঠে আসেন। আর তখনই বিপযর্য় দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে। 

    বৈজ্ঞানীক ভাবে যদিও এর কোনও ব্যাখ্যা মিলছে না জীববিদদের কাছে, তবুও সুনামির আতঙ্ককেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সমুদ্র বিজ্ঞানীমহল। ২০১১ সালে সুনামিতে জাপানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ‘র্সূয ওঠার দেশ’ এর মানুষেরা এখনও বিশ্বাস করেন, এই মাছ যদি পর পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে তাহলে সমুদ্র দেবতা রুষ্ঠ হয়েছেন বোঝা যায়। আর তখনই রুষ্ঠ দেবতার কোপে পড়ে গোটা দেশ। এখনও পযর্ন্ত জাপানের বিভিন্ন উপকূল জুড়ে মোট আটটি রিউগু মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার জাপানিরা যেহেতু এই মাছকে সমুদ্রের দেবতা বলে মনে করে তাই এই মাছ কখনওই খায় না তারা। 

    প্রায় ৩.২ মিটার লম্বা এই মাছের বাসস্থান টোয়ামা সাগরে। বিজ্ঞানীরা এই মাছকে ‘ওয়ার ফিশ’ বলে শনাক্ত করেন। সমুদ্রের উপরিতল থেকে ৮০০ কিংবা হাজার মিটার নিচে এই মাছ দেকা যায় বলে সমুদ্র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সমুদ্রের নিচে উষ্ণতার পরিবর্তন হলেই এই মাছ সমুদ্রের গভীর থেকে ক্রমশ উপরের দিকে উঠে আসতে থাকে। টোয়ামা সাগরে যে কটি রিউগু মাছ ধরা পড়েছে, সেই জেলেদের সঙ্গেও কথাবার্তা বলেছেন সমুদ্র বিজ্ঞানীরা। জেলেরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের উপরিবাগ থেকে মাত্র ১০০ মিটার নিচেই জেলেদের পাতা জালে ধরা পড়েছে রূপালি রঙের বিরল প্রজাতির এই মাছ। ধরা পড়া মাছগুলির কোনও কোনওটি আবার চার মিটারের বেশি লম্বা। সমুদ্রের নিচে উষ্ণতার পরিবর্তন ক্রমশ চিন্তায় ফেলেছে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের। তাদের আশঙ্কা যদি জলস্তরের উষ্ণতার এইভাবে পরিবর্তন ঘটে তাহলে পাত সঞ্চালন হতে বাধ্য। অর্থাৎ আবার একটি সুনামির আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জাপান এবং আমেরিকার সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা।

    যদিও জীববিজ্ঞানীরা এর পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যতা খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা সমুদ্রের তলদেশে উষ্ণতার পরিবর্তনকে দায়ী না করে সমুদ্র দূষণকেই দায়ি করেছেন। তারা বলেছেন, সমুদ্রের নিচে যেহেতু দূষণের মাত্রা বেড়েছে তাই জলের অম্ল এবং ক্ষারের তারতম্য ঘটছে। আর সেই জন্যই জলের গভীরতা ছেড়ে এই মাছ ক্রমশ উপরের দিকে উঠে আসছে। বিশ্বায়নের ফলে বিরল প্রজাতির ওয়ার ফিশের সংখ্যা ক্রমশ কমছে বলেও দাবি জীববিজ্ঞানীদের। 

    বিজ্ঞান যাই বলুক না কেন জাপানিরা এখনও রিউগু মাছের মড়ক দেখে আতঙ্কের প্রহর গুণছেণ। টোয়ামা উপকূলভাগ ছেড়ে দূরে সরে যাচ্ছেন ধীবর সম্প্রদায়ের মানুষরাও।

No comments:

Post a Comment