Breaking

Saturday, February 2, 2019

রমরমিয়ে মৃতদের অ্যাকাউন্ট চলছে ফেসবুকে, শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা


ফেসবুক তো নয়, যেন ভার্চুয়াল গণকবর! ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য পাচারের মতো অভিযোগ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্যোশ্যাল মিডিয়ার গায়ে আগেই লেগেছিল। এ বার ভারতীয় সাইবার বিশেষজ্ঞদের শিরঃপীড়া বাড়াল, মার্ক জুকেরবার্গের সাধের ফেসবুকে মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট। সাইবার বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি দেখেছেন, শুধু ‘ফেবু’কে এক দোষ দিয়ে লাভ নেই, গোটা ডিজিটল প্ল্যাটফর্ম জুড়েই রমরম করছে মৃতদের অ্যাকাউন্ট। 

    সব মিলিয়ে কেবল ফেসবুকেই মৃতদের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কম-বেশি আট হাজার! প্রতিদিন এই সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন দিন আসছে যেদিন জীবিতদের চেয়ে মুতদের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ফেসবুকে বেড়ে যাবে।

    এ দেশের বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, ফেসবুকের বর্তমান গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের আলাদা গোপনীয়তা নীতি রয়েছে, যা ফেসবুকে নেই। তাই কোনও ফেসবুক গ্রাহকের মৃত্য হলেও তার অ্যাকাউন্টটি একই ভাবে ‘সচল’ থেকে যায়। 

    হয় সেই মৃত ব্যাক্তির নিকট কোনও আত্মীয় সেই অ্যাকাউন্টের দখল নেন অথবা সেটি পুরোপুরি হ্যাকারদের কব্জায় চলে যায়। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়ে এই মুহূর্তে প্রায় পাঁচ কোটি অ্যাকাউন্ট চলে গিয়েছে হ্যাকারদের দখলে। এর মধ্যে অধিকাংশ অ্যাকাউন্টের গ্রাহকই মৃত।

    জাতীয় সাইবার দলের অন্যতম শীর্ষকর্তা পবন দু্গ্গলের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যাবহার করেন এমন গ্রাহকের মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে তার অ্যাকাউন্টের দখন নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে অনুমতি নিতে হয়। 

    সাধারণ গ্রাহকের স্ত্রী-সন্তান বা কোনও নিকটাত্মীয় অথবা অভিভাবকের সেই অধিকার থাকে। এই প্রক্রিয়াকে সাইবার দুনিয়ায় বলা হয় ‘ডিজিটাল উত্তরাধিকার’। যেহেতু ফেসবুকের পলিসির ক্ষেত্রে কোনও জোরদার নিয়মকানুন নেই, তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অ্যাকাউন্ট অবৈধ ভাবে ‘জবরদখল’ হয়ে যায়।

    মৃত গ্রাহকের নাম ভাঁড়িয়ে অপরাধমূলক কাজ হয়েছে, এমন উদাহরণও কম নেই। পবন দুগ্গল জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে লগ ইন করা সম্ভব নয়। কোনও গ্রাহকের মৃত্যু হলে ই-মেইল করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। অনুমতি সাপেক্ষে তবেই অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। টুইটারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একই রকম। কোনও গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট সচল থাকলে অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা রেখে দিয়েছে টুইটার। মৃত গ্রাহকের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় সে ক্ষেত্রে ওই টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাতে পারেন। তবে তার জন্য দিতে হয় সচিত্র পরিচয়পত্রের প্রমাণ। 

    মার্ক জুকেরবার্গের সহপাঠী অ্যারন গ্রিনস্প্যান সম্প্রতি দাবি করেছেন, ১০০ কোটি জাল অ্যাকাউন্ট রয়েছে ফেসবুকে, যা ফেসবুকের মোট গ্রাহকের প্রায় ৫০ শতাংশ।

    ‘রিয়্যালিটি চেক’ নামে ৭০ পাতার একটি রিপোর্টও পেশ করেছেন গ্রিনস্প্যান। সেখানে তিনি বলেছেন, নকল অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে গ্রাহকদের কত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা এতদিন ফেসবুক স্পষ্ট করে জানায়নি। ফেসবুকের যত প্রোফাইল রয়েছে, তার ৫০ শতাংশই ভুয়ো।

    ওই জাল প্রোফাইলের মাধ্যমে ফেসবুকের অনেক গ্রাহকই প্রতারিত হয়েছেন। নকর খবর ছড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রশাসন পযর্ন্ত ভুয়ো ফেসবুকের ফাঁদে পড়েছে।

No comments:

Post a Comment