Breaking

Wednesday, February 13, 2019

অবৈধ নির্মাণে গুঁড়িয়ে গের লতা মঙ্গেশকরের ফ্ল্যাট


৩৫ বছর পর ৩৫ তলার প্রতিভা হাউজিং ধুলোয় মিশলো

মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি এরাকা ১৯৮৪ সালে একটি বহুতর নির্মান করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর সেই অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বৃহত্তর মুম্বাই পুরসভা (বিএমসি)। পুরসভার এই সিদ্ধান্তে ভাঙা পড়ল একাধিক অনাবাসী ভারতীয়দের ফ্ল্যাট, এমনকী ভারতরত্ন সম্মানে ভুষিত লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের ফ্ল্যাটও ভাঙা পড়ল। 

    ব্রিচ ক্যান্ডি এবং পিডার রোড থেকে অনতি দূরে সোফিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিভা হাউজিং সোসাইটি নামে একটি বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে। সেই সময় ওই বহুতল নির্মাতা বিএমসির কাছে জমির যে খসড়া জমা দিয়েছিলেন তাতে উল্লেখ করা ছিল ৯২৮২ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে বাড়িটি তৈরি হবে। প্রস্তুতকারক সংস্থার নথির ভিত্তিতে বিএমসি’র তৎকালীন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সারদ কাঁটে ওই এলাকায় ৩৫ তলা বাড়িটির অনুমোদন দেয়।

    কিন্তু এই অনুমোদনের মাত্রা চার বছরের মধ্যেই অরুন ভাটিয়া নামে বিএসসি’র বিল্ডিং বিভাগের এক কমিশনার এর তদন্তে নামেন। আর তখনই দেখা যায়, প্রতিভা হাউজিং সোসাইটির জন্র যে ৯২৮২ বর্গ মিটার জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। ওই প্রস্তুতকারক সংস্থাটির হাতে জমির পরিমাণ মাত্র ৭১৯৭ বর্গ মিটার। অর্থাৎ ২৭ হাজার বর্গ ফুট এলাকাকে অতিরিক্ত দেখিয়ে অবৈধ ভাবে ন’টি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের মে মাসে এই অভিযোগটি অরুণ ভাটিয়া বিএমসি’তে জানায়। যদিও তার ঠিক দু’সপ্তাহের মধ্যেই অরুণকে বিল্ডিং দপ্তর থেকে বদলি করে দেওয়া হয়। 

    বিলাসবহুল এই এলাকাটিতে যে সোসাইটি গঠন করা হয়েছিল, তাতে একাধিক অনাবাসী ভারতীয় যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন লতা মঙ্গেশকার এবং আশা ভোঁসলেও। ১২ জুলাই ১৯৮৪ সালে বিএমসি প্রতিভা হাউজিংয়ের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। বিএমসি’র তথ্য অনুসারে প্রতিভার বেআইনি নির্মাণ কাজটি নথিবদ্ধ হয়েছে ১৯ জুন, ১৯৮৪।

    ব্রিচ ক্যান্ডি ওই এলাকায় জমির দাম বিশাল। প্রতিভা হাউজিংয়ের প্রতিটি তলায় ২ হাজার বর্গ ফুট জুড়ে এক-একটি ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে এক-একটি ফ্ল্যাটের দাম ছিল ১০-১২ কোটি টাকা। ৭ আগস্ট ১৯৮৪ সালে বিএমসি’র তরফে নির্দেশ জারি করে বলা হয়, প্রতিভা হাউজিংয়ের ন’টি তলা অবৈধ। ফলে ৩৫ তলা নয়, ২৬ তলাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে ওই হাউজিং সোসাইটিকে। কিন্তু ততদিনে ৩৫ তলা প্রতিভা হাউজিংয়ের বাড়িটি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই বিএমসি ওই ন’টি তলাকে ভাঙার নির্দেশ দেয়। পুরসভার এই নির্দেশ মানতে চাননি হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা। ৬ আগস্ট ১৯৮৪ সালে বিষয়টি নিয়ে মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা দাখিল করেন হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা। সেখানে লতাজি এবং আশাজি’র তরফ থেকে তাদের কৌসুলিরাও উপস্থিত ছিলেন। টানা চার বছর মামলা চলার পর মুম্বাই হাইকোর্ট প্রতিভা হাউজিংয়ের ওপরের ন’টি তলকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে এবং তা দ্রুত ভাঙার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুসারে ১১ মার্চ ১৯৮৪ সালে ওপরের ন’টি তলা ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যায়।

    এর প্রায় ১৮ বছর পর হাউজিং সোসাইটির তরফ থেকে বিএমসি’তে পুনর্নিমাণের আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনে সোসাইটির সম্পাদক জয়ন্ত ভোরা জানায়, ‘সোসাইটি গঠনের নিয়ম অনুসারে প্রতিটি সদস্যের জন্য সমপরিমান জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ন’টি তলা ভেঙে দেওয়ার ফলে সোসাইটির ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন কোনও জায়গা পাননি। তাই বাড়ির পুনর্নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হোক।’ 

    কিন্তু বিএমসি’কে নতুন করে আর বিতর্কে জড়াতে হয়নি। এর আগেই কোর্টের নির্দেশ অবৈধ সুযোগ আদায়ের অভিযোগে সারদ কাঁটেকে জেলে ঢুকতে হয়েছিল। ২০১২ সালে ২৬ তলার প্রতিভা হাউজিংকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জয়ন্ত। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল সেই সময় ৯০০ কোটি টাকা দেবে বলেও জানিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই সোসাইটির তরফ থেকে ১২০০ কোটি টাকা হাসপাতালের কাছ থেকে দাবি করা হলে, বিক্রি প্রক্রিয়াটিও স্থগিত হয়ে যায়। সোসাইটি প্রথমে পরিকল্পনা করেছিল, বাড়ি বিক্রির টাকা সমান অনুপাতে ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ভাগ করা হবে। কিন্তু বিক্রি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতেই ২০১৬ সালে সোসাইটির তরফ থেকে বিএমসিতে বাড়িটি ভাঙার আবেদন জানানো হয়। শেষ পযর্ন্ত চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বিএমসি সেই আবেদন মঞ্জুর করে। মঙ্গলবার বিলাসবহুল প্রতিভা হাউজিং ধুলিসাৎ হয়ে গেল।

No comments:

Post a Comment