Breaking

Monday, January 14, 2019

ফিদেল কাস্ত্রোর নাতির আড়ম্বর জীবন-যাপন নিয়ে আলোড়ন


অনেক দিন আগেই ধারা পাল্টে ফেলেছে মাও সে তুঙের চিন। রাশিয়াও সে রাশিয়া নেই। তবে কিউবাও যে ভিতরে ভিতরে এতখানি পাল্টে গিয়েছে, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা সাম্প্রতিক কিছু ছবি সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে। 


    জ্যোতি বসু তখন পশ্চিমবঙ্গের দোর্দন্তপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই সময়ই তার পুত্র চন্দন বসু ছিলেন বিপরীত মেরুর বাসিন্দা। চন্দনের ব্যাবসা নিয়ে অনেকেই তখন কটাক্ষ করে বলতেন, ‘কমিউনিস্ট ফাদারস ক্যাপিটালিস্ট সন ।’ তবে সে ছিল প্রাক সোশ্যাল মিডিয়া যুগ। আজকের যুগ একদম পাল্টে গিয়েছে। এখন কোনও কিছু বেচাল দেখলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন পড়ে যায়।

    কিউবার সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর চলছে। এই সময় কিউবার ‘জনক’ ফিদেল কাস্ত্রোর নাতির পোস্ট করা কয়েকটি ছবি ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে এমন সব ছবি তিনি পোস্ট করেছেন, যা কমিউনিজমের আদর্শ্ ও ভাবধারার পরিপন্থী । অথচ তার ঠাকুরদা, ফিদেল কাস্ত্রো, কিউবার প্রবাদপ্রতিম জননেতা। কিউবার বিপ্লবের পুরোধা পুরুষ। আজীবন সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেকা ও সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা বিশ্ববরেণ্য এক রাজনীতিক। প্রতিবাদী কন্ঠের মূর্ত প্রতীক। প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কিউবার রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন ফিদেল। প্রয়াত হন ২০১৬ সালে। ফিদেল আজীবন পুঁজিবাদের বিরোধিতা করে এসেছেন। আজীবন ছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কঠোর শাসকদের চোকে চোখ রেখে কিউবায় সমাজতন্ত্র করেছিলেন ফিদেল। মার্কিন হম্বিতম্বির সামনে কোনও দিন মাথা নত করতে দেখা যায়নি ফিদেলকে। ২০০৩ সালে ফিদেলের সঙ্গে কিউরায় এসে দেখা করেছিলেন প্রাক্ত্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তা নিয়ে সমালোচনা হলেও নিজের নীতিতে অবিচল ছিলেন ফিদেল। তার অবর্তমানে অবশ্য ফিদেলের  ভাই রাউল কাস্ত্রো ভূতপূর্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিউবা যে খুব সূক্ষ্ম ভাবে বদলের রাস্তা ধরতে চাইছে, ওই ঘটনার পর থেকেই তা বোঝা যেতে শুরু করে। 

    সেই ফিদেলের নাতি টোনি কাস্ত্রো এ বার সংবাদের শিরোনামে। বছর কুড়ির টোনির টানা কাজকর্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় তুলেছে। অবশ্য পুরোটাই স্বয়ং ফিদেলের নাতির সৌজন্যে। এমনিতে এত বছর ধরে ফিদেল বা তার পরিবারের ব্যক্তিগত যাপনের কাহানি সে ভাবে কখনওই প্রকাশ্যে আসেনি। কাস্ত্রো পরিবারের ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ছবি তো দূরের কথা, তাদের ভালমন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথাও কখনও জনসমক্ষে আসেনি। টোনি কাস্ত্রোর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি মাস কয়েক আগেও অবশ্য ‘পাবলিক’ করা ছিল। কিন্তু কিউবান সরকারের প্রচ্ছন্ন নির্দেশে টোনি নিজের প্রোফাইলটি ‘প্রাইভেট’ করেন। সেখানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৩০০। তাতে কী! সম্প্রতি টোনির পোস্ট করা ছবিগুলি নিয়ে সবিস্তারে সংবাদ পরিবেশন করেছে আমেরিকার দক্ষিণ ফ্লোরিডা থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্র। একটি ছবিতে তাকে দেখা যাচ্ছে, নীল জলধির সামনে খালি গায়ে হাফ প্যান্ট পরে মাদ্রিদে ইয়টে চেপে বর্ষবরণে মেতে ফিদেলের নাতি।

    অন্য একটি চবিতে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নির্জনে এক তরুণীর সঙ্গে হাসিঠাট্রা করছেন। আর একটি চবিতে কেতাদুরস্ত পোশাকে আলো ঝলমলে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দেখে মনে হচ্ছে, বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে রয়েছেন তিনি। ছবিগুলি আপলোড করলে যে এতটা বিতর্ক হতে পারে, সম্ভবত বুঝতে পারেননি টোনি। এর আগে গত বছর স্পেনের বার্সেলোনা এবং মেক্সিকো সফরে নিজের একধিক ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন টোনি। তার আগে, ২০১৭ সালে প্রকাশ্যে আসা একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল টোনি চালাচ্ছেন একটি বিএমডাব্লিউ গাড়ি। 

    যদিও ব্যক্তি পরিসরের অধিকার প্রতিটি মানুষের রয়েছে। অন্যকে বিরক্ত না করে প্রতিটি মানুষের নিজের মতো করে জীবন যাপনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু টোনি নন, তিনি ফিদেল কাস্ত্রো বংশধর। তাই কিউবার বহু নাগরিকও টোনি কাস্ত্রোর জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

    অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, এই ছবিগুলি প্রমাণ করছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল কাস্ত্রো পরিবারের হাতের পুতুল মাত্র। আবার অনেকে মন্তব্য করেছেন, যখন খিদে, যন্ত্রণা ও আর্থিক কষ্টে জর্জরিত হয়ে রয়েছে দেশের বহু সংখ্যক মানুষ, তখন টোনি কাস্ত্রোর এই ছবিগুলি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো। অধিকাংশের বক্তব্য, উশৃঙ্খল জীবনে মেতে উঠেছেন ফিদেল কাস্ত্রোর নাতি।

No comments:

Post a Comment