Breaking

Thursday, January 3, 2019

শিবমন্দিরে পুজো দিলেন রাজস্থানের মুলিম মন্ত্রী


সম্প্রীতির নজির! ‘পরিবর্তন’-এর ছোঁয়া এ বার রাজস্থানের নবনির্বাচিত অশোক গেহলত সরকারেও। গেহলত মন্ত্রিসভার সদস্য সালে মহম্মদ হিন্দু রীতি-নীতি মেনে পোকরানের শিবমন্দিরে পুজো দিলেন।


    রাজনীতির বাইরেও সালে মহম্মদের বংশগত একটি উল্লেখযোগ্য পরিচয় রয়েছে। তিনি হলেন মুসরিম ধর্মগুরু গাজি ফকিরের পুত্র। রাজস্থানের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত। রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই সম্প্রতি জয়সলমীর জেলার পোখরানের শিবমন্দিরে পুজো দিতে যান তিনি। মন্দিরে তাকে যেতে দেখে স্থানীয় লোকজন অবাক হয়ে যান।


    এই মন্দিরের পুরোহিত হলেন মধু চাঙ্গানি। তিনি জানান, সালে মহম্মদ আগেও এই মন্দিরে এসেছেন। চাঙ্গানির কথায়, ‘এই শিবমন্দিরের সঙ্গে ওঁর আগে থেকেই যোগাযোগ রয়েছে। হিন্দু রীতি-নীতি মেনে এদিন তিনি পুজো দেন। ওঁর পুজোর জন্যে মন্দিরে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শিবমূর্তিতে কাঁচা দুধ ও মধু অর্পন করে সালে মহম্মদ প্রায় এক ঘন্টা ধরে তিনি পুজো দেন। মন্দির থেকে পুজো দিয়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সালে মহম্মদ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকে মন্দিরে এসেছিলাম। পশ্চিম রাজস্থানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ অনেক পুরনো। এখানকার বাবা রামদেবের যে মন্দির, হিন্দু ও মুসলমান দুই ধর্মের মানুষই সেই মন্দিরকে শ্রদ্ধা করেন।’

    যদিও স্থানীয় লোকজন বলেছেন, তারা সালে মহম্মদকে এর আগে দেখেননি। কিন্তু প্রধান পুরোহিত মধু চাঙ্গানি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ভোটের প্রচারে এসেও উনি মন্দিরে এসেছিলেন।’ এই পোখরানেই রয়েছে বাবা রামদেবের মন্দির। স্থানীয়রা সহজ কথায় তাকে রামদেবের মন্দির বলেই উল্লেখ করেন।

    গত মাসে ভোট হয় রাজস্থানে। পোখরান অঞ্চলে ভোটের সময় মেরুকরণের চেষ্টা হয়েছিল। ওই এলাকার গাজি ফকিরের ভক্তের সংখ্যা প্রচুর। সেখান থেকেই তার ছেলে সালেকে প্রার্থী করেছিল কংগ্রেস। তার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন স্বামী প্রতাপ পুরী। তিনি রাজস্থানের বারমেঢ় জেলার তারাতারা মঠের প্রধান মহন্ত। রাজস্থান বিধানসভায় কান ঘেঁষে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের পরেই মরু রাজ্যের কয়েকটি জেলায় আঞ্চলিক উপনির্বাচন ছিল। যেখানে কংগ্রেসের চেয়ে ভাল ফল করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির পেয়েছে ৮টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন।বিজেপি আলোয়ার জেলা পরিষদে একটি আসন পেয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির ১৩টি আসনের মধ্যে পেয়েছে ৭টি । নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এক নির্দল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। ওই আসনগুলিতে ভোট হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর। কিন্তু বিধানসভা ভোটের জন্য তা পিছিয়ে যায়। 

    রাজস্থানের রামগড় বিদানসভা আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ২৮ জানুয়ারী। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আনন্দ কুমার বলেন ‘কাল, ৩ জানুয়ারী ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। ওই কেন্দ্রে বহুজন সমাজপার্টির প্রার্থী লক্ষ্মণ সিং গত ২৯ নভেম্বর মারা যান। তাই কেন্দ্রের ভোট পিছিয়ে যায়।’ ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় গত ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হয় ১৯৯ টি আসনে। কংগ্রেস পায় ৯৯টি আসন। বিজেপি জিতেছে ৭৩টি আসনে। বিএসপি-র ৬টি এবং ১৩টি জন নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। আগামী ১০ জানুয়ারী পযর্ন্ত মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। ১১ তারিখ ওই মনোনয়ন খতিয়ে দেখা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ তারিখ। রামগড় বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে সকাল সাতটা থেকে বিকাল পাঁচটা পযর্ন্ত।

No comments:

Post a Comment