Breaking

Saturday, January 5, 2019

২.৩০ কোটি টাকার বাতিল নোট বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে


কী কান্ড! দু’বছর আগে দেশ থেকে বাতিল হয়েছে তখনকার ৫০০, ১০০০ টাকা মূল্যের কাগজের নোট। দোনপাটে এই নোট ধরাতে গেলে আপনাকে পুলিশেও ধরতে পারে। কিন্তু ঈশ্বরের কাছে সে সব বিধিনিষেধ নেই।


    হয়তো এই কারণেই জম্মুর কাটরায় বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে প্রণামী হিসাবে এখনও দেদের জমা হচ্ছে পুরনো বাতিল ওই নোট। যেহেতু বাতিল নোটগুলি এখন আর কাজে লাগানোর কিংবা বদলানোর সুযোগ নেই তাই নষ্ট হচ্ছে ওই নোট। মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ওই নোটের স্তুপ হয়েছে র্কাযত গলার কাঁটা।

    না পারছেন ময়লো ফেলার বাক্সে ফেলতে, না পারছেন জমিয়ে রাখতে। যা দেখে এক বিদেশি পযর্টক সংবাদ মাধ্যমের সামনে রসিকতা করে বলেও ফেলেন, ‘মানুষ পা েনা এমন কিছু নেই। সে ঈশ্বরের সঙ্গেও যে চালাকি করতে পারে, এই দৃশ্য না দেখলে বুঝতে পারতাম না।’

    মন্দির সূত্রে খবর, ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর মধ্যরাত থেকে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর থেকে এ পযর্ন্ত মন্দিরে অনুদান হিসাবে জমা পড়েছে প্রায় আড়াই কোটি বাতিল নোট।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোটবন্দির ঘোষনার এক মাসের মধ্যেই বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে জমা পড়েছিল ১ কোটি ৯০ টাকার বাতিল নোট। যদিও সেই পরিমান ক্রমশ কমছে, তবু বন্ধ হয়নি।

    ভক্তরা এখনও প্রণামীর থালায় দিয়ে যাচ্ছেন বাতিল ৫০০ এবং ১০০০ টাকার লাল নোট। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল, এক বছরে ৪০ লক্ষ টাকার বাতিল নোট জমা পড়েছে মন্দিরে। সব মিলিয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে বাতিল নোট জমার পরিমান ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। শ্রীমাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দির বোর্ডের সিইও সিমরনদীপ সিং এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাতার বহু ভক্ত এখনও অচল নোটগুলি মন্দিরে দান করে যাচ্ছেন। আমাদের অগোচরেই তারা ওই নোটগুলি দান করছেন। পরিমাণটা আগের চেয়ে কমে এলেও এখনও বন্ধ হয়নি।’

    তিনি জানান, আরবিআই আগেই জানিয়ে দিয়েছে, পুরনো নোটগুলি তারা আর বদল করবে না। ফলে তাদের সমনে একটাই রাস্তা, আরবিআইয়ের রূপরেকা মেনে পুরনো নোটগুলিকে নষ্ট করে দেওয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সালে এই মন্দিরে জমা পড়েছিল মোট ১৫৪ কোটি টাকা। ২০১৮-তে জমা পড়েছে ১৬৮ কোটি টাকা। জিএসটি বা নোটবাতিলের কোনও প্রভাবে বৈষ্ণোমাতার ভক্তদের মধ্যে পড়েনি বলেই দাবি করেছেন সিমরনদীপ সিং। মন্দির সূত্রে খবর, নরেন্দ্র মোদি নোটবন্দির ঘোষনার পরেই ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনুদানের টাকা সংগ্রহ করতে ‘সোয়াইপ মেশিন বসানো হয় মন্দিরের সামনে।


    তবে পুরনো নোট জমা দেওয়া আটকানোর উপায়? ‍সিইও বলেন ‘ভক্তদের হাত ধরে তো আর আটকানো যায় না! আমরা মন্দির চত্বরে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে তাদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন বাতিল কারেন্সি নোট প্রণামী হিসাবে না জমা দেন।’

No comments:

Post a Comment