Breaking

Thursday, January 24, 2019

অক্সফ্যামের রিপোটে উদ্বেগ অ্যানিমিয়ায় ভুগছে ৬০ শতাংশ ভারতীয় শিশু


২৪ ঘন্টা আগেই আন্তর্জাতিক স্তরের নামজাদা স্বেচ্ছাসেবী অক্সফ্যামের প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক বৈষম্যের এক ভয়ঙ্কর চেহারা। এ বার ‘ইকনোমিক্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি’-র সাম্প্রতিক সংখ্যার প্রতিবেদনে উঠে এল দেশের কচি কচি শিশুদের স্বাস্থ্য ও অপুষ্টির উপরে এক উদ্বেগের রিপোর্ট। দেশের করুণ চেহারাটা কাযর্ত বেআরু করে দিয়েছে এই প্রতিবেদন। 

    ভুপেন হাজারিকার জনপ্রিয় গানের একটি লাইন ছিল ‘আমি দেখেছি অনেক গগনচুম্বি অট্টালিার সারি, তার ছায়াতেই দেখেছি অনেক গৃহহীন নরনারী।’ সেই ‘ছবি’টার একেবারে পরিসংখ্যান সহ ধরা পড়েছে সোমবার প্রকাশিত অক্সফ্যামেরে রিপোর্টে। আমাদের দেশের শিশুদের নিয়ে যে সমীক্ষা রিপোর্টটি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, অক্সফ্যামের রিপোর্টের চেয়ে তা কম কিছু উদ্বেগের নয়। ‘বার্ডেন অফ চাইল্ড ম্যালনিউট্রিশন ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনটির লেখকই নিজেদের পেশায় স্বনামধন্য। লেখকেরা হলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতত্ত্ব বিভাগের অক্ষয় স্বামীনাথন, বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভেরিয়াল সায়েন্স’ বিভাগের অধ্যাপক রকলি কিম, হার্ভার্ড-েএর ‘সেন্টার ফর পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ বিভাগের ।অধ্যাপক ইয়াং জুন এবং এস ভি সুব্রমানিয়াম, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফিক অ্যানালিস্ট জেফ্রি সি ব্লসোম এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগের আধিকারিক অলোক কুমার প্রমুখ। বস্তুত, গোটা সমীক্ষাটি এঁরা সকলে মিলে করেছিলেন। সমীক্ষায় প্রকাশ ভারতবর্ষে ৫ বছরের নিচে যত শিশুর বাস, তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ শিশুর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। সেই সঙ্গে দেশের তৃতীয়াংশ শিশুর দৈহিক ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম। পাশাপাশি এক তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশুর শারীরিক বিকাশই হয়নি। আর ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শিশু ভুগছে রক্তাল্পতায়। যার মধ্যে ৫৭ শতাংশ শিশুর রক্তাল্পতার সমস্যা গুরুতর। 

    দেশের গরিষ্ঠ শিশুর সমস্যা হচ্ছে, তাদের আকৃতি স্বাভাবিক নয়। বয়সের তুলনায় যতটা লম্বা হওয়া উচিত ছিল, তা তারা হয়নি। অর্থাৎ খর্বকায় শিশুর সংখ্যাই বেশি। মূলত উত্তরপ্রদেশের স্রাবস্তী, কৈশোরগঞ্জ এবং বাহরিক এলাকায় এই ‘ছবি’টি সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই এলাকাকাগুলিতে প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুর কোনও স্বাভাবিক বিকাশই হয়নি। এ বার আসা যাক শিশুদের ওজনহীনতার প্রসঙ্গে। সমীক্ষা বলছে, খর্বকাহীনতার প্রসঙ্গে। সমীক্ষা বলছে, খর্বকায়তার মতোই ওজনহীনতায় ভুগছে দেশের বিশাল সংখ্যক শিশু। উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশে ‘আন্ডাওয়েট’ শিশুর সংখ্যা দেশের অন্যান্য রাজ্যের থেকে অনেক বেশি। এর সঙ্গে অবশ্যই জুড়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পরুলিয়া জেলার করুণ চিত্র। ঝাড়খন্ডের সিংভূম ও পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুর ওজন স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে অনেক কম।

    এর সঙ্গে আরও একটি ‘বিষয়’ জড়িয়ে রয়েছে দেশের রুগ্ন শিশুদের সঙ্গে। সেটি হল ক্ষয়রোগ। মধ্য ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি বিশেষত মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় ও ঝাড়খন্ডে ‘ওয়েস্টিং’ অর্থাৎ ক্ষয়রোগের শিকার বিশাল সংখ্যাক শিশু। ঝাড়খন্ডের জামশেদপুর, যে এলাকার রেলস্টেশনের নাম টাটানগর, সেখানকার ৪০.৬ শতাংশ শিশু, পশ্চিমবঙ্গের ৩৪.৬ শতাংশ ও মহারাষ্ট্রের নান্দুরবারে ৩৪.৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে তুগছে। 

    আসা যাক ভারতীয় শিশুদের রক্তাল্পতা নিয়ে কী জানিয়েছে এই রিপোর্ট? মধ্য ভারতের প্রায় সব অঞ্চলের শিশুই রক্তাল্পতার শিকার। মধ্য প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যে সর্বাধিক শিশু অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত। আর জেলা ওয়াড়ি ঝাড়খন্ডের সিংভূমে ৮০ শতাংশ ও মধ্যপ্রদেশের খারগোনের ৭৯.১ শতাংশ শিশুর মধ্যে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার আধিক্য দেখা গিয়েছে। তবে রাজ্যভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের শিশুদের মধ্যে ক্ষয়রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা সর্বাধিক।

    অন্যদিকে সবচেয়ে কম কেরল ও গোয়ায়। জম্মু-কাশ্মীর ও কেরলে সবচেয়ে কম সংখ্যক শিশু ওজনহীনতার ভুগছে। অন্যদিকে ঝাড়খন্ড ও বিহারে ওজনহীতায় ভোগা শিশুর সংখ্যা সর্বাধিক বলে উল্লেখ করেছে সমীক্ষা রিপোর্ট।

No comments:

Post a Comment