Breaking

Wednesday, January 16, 2019

খেলোয়াড়দের নেমন্তন্ন করে নিজের টাকায় খাওয়ালেন ট্রাম্প


দেশে চলছে শাটডাউন, সাদা বাড়ির রাঁধুনিরাও ছুটিতে। অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকবে? 

    কখনওই নয়! শাটডাউন হয়েছে তো কী হয়েছে? তাই বলে কি নিরম্ভু থাকতে হবে? নিজের না-পসন্দ্ সমস্ত কিছুই ধাতে সয় না মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রেসিডেন্ড চান দেশে সব কিছুেই তার মর্জি মাফিক ঘটে চলুক। রাজনীতির ময়দান থেকে শুরু করে কুটনীতি। এমনকী তা সে উদরপূর্তির বিষয়ই হোক। তাই আমেরিকার শাটডাউনের ২৫ তম দিন ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির ফুটবল টিমকে (ক্লেমসন টাইগারস) হোয়াইট হাউজে সাদরে নিমন্ত্রণ করে ‘ইস্ট রুম’-এ পেল্লাই ভোজের আয়োজন করেছিলেন ট্রাম্প স্বয়ং। ওয়ার্শিংটন ডিসির এই সাদা বাড়িটার রাঁধুনিরা সকলেই আপাতত কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু তাতে কি আর প্রেসিডেন্টের অভিপ্রায় আটকায়? তাই নিজের গাঁটের কড়ি খসিয়ে খেলোয়াড়দের ভোজের থালায় প্রেসিডেন্ট জড়ো করেছিলেন ম্যাকডোনাল্ড থেকে কেনা হ্যামবার্গার থেকে পিৎজা। সেই সঙ্গে রেড ও হোয়াইট ওয়াইনের ফোয়ারা। রুপোর তালায় খাবার পরিবেশন করা হয় নিমন্ত্রিতদের। এই ঘটনার পরে বিরোদরা টিপ্পনী কেটেছেন, কর্মীদের বেতন দিতে না পারলেও এলাহি বোজের আয়োজনে ত্রুটি রাখেননি মাননীয় প্রেসিডেন্ট। 

    ক্লেমসন টাইগার ইউনিভার্সিটির খেলোয়াড়রা সকলেই গায়ে কালো ব্লেজার চাপিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন হোয়াইট হাউজের সুবিশাল কনফারেন্স রুমে। প্রেসিডেন্ট কর্তৃক তাদের জামাই আদরে নিমন্ত্রণ জানানোর হেতু, কারণ তারা সদ্যই ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে এসেছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই কারনেই ভোজসভার আয়োজন। পাশাপাশি নিজের প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের দিকে তির্ষক ভঙ্গিতে তাকিয়ে ট্রাম্পোচিত ভ্রূ নাচিয়ে তিনি বার্তা দেন, ‘এ-সব আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নিজের পয়সায় কেনা আমেরিকান ফাস্ট ফুড। এগুলো সবই আমার প্রিয় খাবার। খেলোয়াড়দের কাছে এর চেয়ে বড় কিছু উপহার হতেই পারে না!’ 

    ট্রাম্প বনাম ডেমোক্র্যাটদের দড়ি টানাটানিতে গত পঁচিশ দিন ধরে শাটডাউন চলছে। ১৯৯৫-৯৬ সালের ২১ দিনের রেকর্ড বাদ দিলে আধুনিক আমেরিকায় এটাই এখনও পযর্ন্ত দীর্ঘতম শাটডাউন। ফেডেরাল সরকারের একধিক দপ্তরের দরজা বন্ধ। প্রায় ৮ লক্ষ কর্মী বেতন পাচ্ছেন না। কিন্তু ট্রাম্প গোঁ ধরেছেন, মেক্সিকো প্রাচীর তুলতে ডেমোক্র্যাটরা রাজি না হলে তিনিও শাটডাউন তুলবেন না। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তারাও মাথা নোয়াবেন না। চুপ করে থাকার বান্দা তিনি নন, ট্রাম্পও পাল্টা ঝেড়ে কেশে বলে দিয়েছেন, তিনিও ‘না’ শোনার পাত্র নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজেতা খেলোয়াড়দের নিজের বাসায় ভোজসভায় ডাকার বিষয়টি অনেকটা ছিল খুঁটিয়ে ঘা করার মতো। যেন ভোজের আয়োজন করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে, তিনি চাইলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

    ভোজসভাও মামুলি ছিল না। রীতিমতো মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরাটাকার সব প্যাকেটবন্দি ফার্স্ট ফুড হাজির করা হয়েছিল টেবিলে। ৩০০ রকমের ‘বিগ ম্যাক’ হ্যামবার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস। সঙ্গে মহার্ঘ ওয়াইন তো ছিলই! তৃপ্তির হাসি হেসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সমস্ত কিছুই আমেরিকান স্টাফ, আমার পছন্দের।’

    ঘটনা হল, জ্বালানির দাম কমানো সহ একগুচ্ছ আর্থিক সংস্কারের দাবিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরর ঘুম কেড়ে নিয়েছে সেখানকার ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। অন্যদিকে আমেরিকায় সবুজ জ্যাকেট পরে হোয়াইট হাউজ অভিযানে নেমেছেন ফেডারেল সরকারি কর্মচারিদের একটা বড় অংশ। তারা স্লোগান তুলেছেন, ‘ছুটি নয়, কাজ চাই। বেতন চাই।’ শাটডাউনের রেকর্ড সৃষ্টি করতে চলা মার্কিন অধিপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তবু অনড়। সোজাসোপটা জানিয়ে দিয়েছেন, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তুলতে প্রয়োজনে তিনি দেশে জরুরী অবস্থা জারি করবেন। 

    ডেমোক্র্যাটদের তরফ থেকে যতই বাধা আসুক তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য হচ্ছে, মেক্সিকো সীমান্তে ৫৭০ কোটি ডলার খরচা করে দেওয়াল তুলে দিলে অবৈধ অভিবাসন আটকানো যাবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ডেমোক্র্যাট নেত্রী ন্যান্সি। তার মতে, এত করদাতাদের অর্থ কিছুই হবে না।

    কূটনৈতিক মহলের একংশের দাবি, কংগ্রেসকে এড়াতেই প্রেসিডেন্ট তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে জরুরি অবস্থা জারি করতে চাইছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেওছেন, ’৩০-৩৫ বছর ধরে আমেরিকা এই বোঝা বয়ে চলেছে। তাই আমি দেওয়াল তুলে স্থায়ী সমাধান চাইছি।’

No comments:

Post a Comment