Breaking

Tuesday, January 15, 2019

শেষ দিনে ঠান্ডা গোলকে পরিণত হবে র্সূয। বিজ্ঞানী ট্রেম্বলের বক্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব


যৌবন এবং প্রৌঢ়ে কী তেজি ছিলেন মানুষটি! কিন্তু জীবনের উপ্রান্তে এসে তিনিই পরিণত হলেন শান্ত এক জবুথবু অস্তিত্বে। 

    মানুষের ক্ষেত্রে যেমনটি হয়, গনগনে সূর্যের ক্ষেত্রেও তেমনটি হতে চলেছে। তেজদীপ্ত র্সূয নিস্তেজ হতে হতে একদিন ঠান্ডা স্ফটিকের বলে পরিণত হবে! প্রখ্যাত বিজ্ঞানী পিয়ের ট্রেম্বলে সম্প্রতি এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। ব্রিটেনের ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসাবে তাকে মনে করা হয়। অতএব, তার এই বক্তব্যের পর বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    র্সূয যে ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে, বিজ্ঞানীরা অনেক দিন আগেই তা জানিয়ে দিয়েছেন। আর সূর্যের সঙ্গেই ফুরিয়ে আসছে জীবজগতের আয়ুষ্কাল। কারণ র্সূয ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের কথা ভাবাই যায় না। র্সূয জীবজগতের কাছে আক্ষরিক অর্থেই ‘প্রাণশক্তি’। সম্প্রতি পিয়ের ট্রেম্বলে বলেছেন, সূর্যের আয়ুর শেষ দিনে, যে দিন পৃথিবীরও শেষতম দিন, র্সূয একটি ঠান্ডা স্ফটিকের বলে পরিণত হবে। স্বভাবতই ট্রেম্বলের এই বক্তব্য বিশ্বজোড়া আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ পিয়ের ট্রেম্বলে কোনও সাধারণ বিজ্ঞানী নন। সুতরাং, গবেষণায় নিশ্চিত না হয়ে তিনি কখনও আলটপকা মন্তব্য করতে পারেন না। তিনি বলেছেন, সূর্যের আয়ুর শেষ দিনে র্সূয একটি ঠান্ডা স্বচ্ছ বলে পরিণত হবে। সেই দিন কী হবে? ট্রেম্বলের বক্তব্যের পরে বিজ্ঞানী মহলে এটাই প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। 

    কী ভাবে জন্ম হয়েছিল সূর্যের? সেূৗরজগতের আশেপাশে থাকা এক বা একধিক সুপারনোভা বিস্ফোরণে সম্ভবত তৈরি হয়েছিল আমাদের মাথার উপর প্রজ্জ্বলিত র্সূযদেব। সুপারনোভাগুলিতে বিস্ফোরণ মহাকাশে থাকা প্রকান্ড গ্যাসীয় মেঘকে সঙ্কুচিত করে নতুন নক্ষত্র তৈরি করে। একই ভাবে তৈরি হয়েছে র্সূয-ও। সূর্যের বয়স জানার প্রত্যক্ষ কোনও উপায় নেই। বিজ্ঞানীরা তাই পরোক্ষ ভাবে সূর্যের বয়স জানার চেষ্টা করেছেন। তবে কোনও বিজ্ঞানী সূর্যের বয়স জানার প্রক্রিয়াটিকে অভ্রান্ত বলে দাবি করেননি। কার্বন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পাথর তথা উল্কাপিন্ডের বয়স আনুমানিক ৪৬০ কোটি বছর। এর থেকেই বিজ্ঞানীর অনুমান করেন যে, ওই সময়েই সৃষ্টি হয়েছে সৌরজগত। সে ক্ষেত্রে সূর্যের বয়স তার চেয়ে কিছুটা বেশি।

    বিজ্ঞানীরা র্সূযকে বলেন ‘পপুলেশন ওয়ান’ নক্ষত্র। আমাদের এই সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশালাকার জ্বলন্ত নক্ষত্রটির নামই র্সূয। সুর্যের অবস্থান ‘মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫০০০ থেকে ২৮০০০ আলোকবর্ষ দূরে। এই দূরত্বে অবস্থান করে র্সূয ছায়াপথের কেন্দ্রকে সেকেন্ডে ২৯৭ কিলেমিটার গতিতে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। র্সূয নামের এই নক্ষত্র প্লাজমা বা আয়নিত পদার্থ দিয়ে তৈরি। সূর্যের প্রধান গঠনগত উপাদান হল হাইড্রোজেন। সূর্যের মোট যত ভর, তার তিন চতুর্থাংশই হল হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন ছাড়াও র্সূয তৈরি হয়েছে হিলিয়াম, অক্সিজেন, কার্বন, নিয়ন, লোহা প্রভৃতি দিয়ে। বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় র্সূয একটি ‘পপুলেশন ওয়ান’ নক্ষত্র, অর্থাৎ যে নক্ষত্রের মধ্যে বারী মৌলিক পদার্থের পরিমান বেশি। এ-হেন র্সূয কী ভাবে নিভে যাবে? পিয়ার ট্রেম্বলে কী বলেছেন? ট্রেম্বলের আগেই বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বরের টানে ক্রমশ ফেঁপে যাচ্ছে র্সূয। তবে এমন সব কথায় তত চাঞ্চল্য তৈরি হয়নি, যা হয়েছে সম্প্রতি ট্রেম্বলের কথার পর। তার কথায় গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীকূল চমকে গিয়েছেন। নিজের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে ট্রেম্বলে বলেছেন, ‘সমস্ত সাদা বামন নক্ষত্রগুলি তাদের বিবর্তনের কোনও এক দশায় স্ফটিক হয়ে যায়। এদের মধ্যে বড় শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলি আগে স্ফটিক গোলকে পরিণত হয়। তাই আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কোটি কোটি শ্বেত বামন নক্ষত্র ইতিমধ্যেই মহাকাশে স্ফটিক গোলকে রূপান্তরিত হয়ে ‍গিয়েছে। সূর্যেরও দশা তাই হবে। আর মাত্র ১০০০ কোটি বছরের মধ্যে ঠান্ডা এক স্ফটিক-গোলকে পরিণত হবে র্সূয।’ 

    বিজ্ঞানী ট্রেম্বলের এই গবেষণাপত্র সম্প্রতি ট্রেম্বলের এই গবেষণাপত্র সম্প্রতি ‘নেচারিভিরড’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘গাইয়া স্যাটেলাইট’ থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানী ট্রেম্বলে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলি তাদের জীবনের শেষ লগ্নে এসে কঠিন স্ফটিকের গোলকে পরিণত হচ্ছে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রেম্বলে নিশ্চিত, এই সূত্রে র্সূয-ও একদিন স্ফটিক গোলকে পরিনত হবে।

    এর পরের অনির্বায প্রশ্নটি হল, র্সূয নিভে গেলে পৃথিবীর কী হবে? কারণ পৃতিবীর আয়ু যে সূর্যের উপরেই বির্ভরশীল! বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, র্সূয নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌরজগত থেকে প্রাণের অস্তিত্ব মুছে যাবে। নিষ্প্রাণ হয়ে পড়বে সৌরজগত। অবশ্য এক হাজার কোটি বছর পর যখন এই ঘটনা ঘটবে, ততদিন পযর্ন্ত এই গ্রহে মানুষ আর জীবিত থাকবে না। কারণ আর মাত্র ৫০০ কোটি বছর পর র্সূয ‘রেড জায়ান্ট স্টার’ অর্থাৎ লাল দৈত্যে পরিণত হবে। সেটি আমাদের পৃথিবীকে গিলে নেবে। তখনই শেষ হয়ে যাবে প্রাণীজগতের অস্তিত্ব। বিশ্ববন্দিত, সমপ্রতি প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পস এক্স’-এর প্রদান এলন মাস্ক বারংবার বলেন, বিজ্ঞানীদের অন্য কোনও সৌরজগত খুঁজে বের করতে হবে। মানুষকে চিরতরে টিকিয়ে হলে সেখানে স্থাপন করতে হবে মানুষের বসতি। ট্রেম্বলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় িএলন মাস্ক বলেছেন, ‘সূর্যের স্ফটিক হয়ে পড়াটা নিশ্চয়ই বিজ্ঞানীরা দেখতে চাইবে। তবে সেটা দেকার জন্যেও তো একটা বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজে বের করতে হবে। কারণ র্সূয যখন স্ফটিকের বল হয়ে যাবে, সেদিন পৃথিবী আর পৃথিবী থাকবে না। বরফের বলে পরিণত হবে।’

No comments:

Post a Comment