Breaking

Saturday, January 5, 2019

দু’হাজার টাকার নোট ছাপা বন্ধ করে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক


নতুন বছরের শুরুতেই ২০০০ টাকার নোট আর ছাপা হবে না বলে জানিয়ে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। গত বছর ৩০শে সেপ্টেম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়ে দিয়েছিল, ২০০০ টাকার নোটের মুদ্রণের সংখ্যা কমানো হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক কর্মকর্তা জানান, বাজারে যোগান থাকা অর্থ যতটা, তার ভিত্তিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং সরকার ঠিক করে, কত নতুন টাকা ছাপা হবে। 

    ৮ সভেম্বর, ২০১৬-র নোট বাতিল বা বিমুদ্রাকরণের ছাপার হার কমিয়ে ‘ন্যূনতম’ সীমায় নিয়ে এসেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। শুক্রবার অর্থ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়ে দিলেন, নতুন করে আর ২০০০ টাকার নোট ছাপা হবে না। তবে খোলা বাজারে যে পরিমান ২০০০ টাকার নোট রয়েছে তা বাতিল করা হচ্ছে না।


    দু’বছরের কিছু আগে আচমকাই ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট সরকারিভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর পুনর্মূদ্রাকরণের স্বার্থে বিজার্ভ ব্যাঙ্ক নতুন ২০০০টাকার নোট এবং পরিবর্তিত ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে। নতুন ২০০০ টাকার নোট চালু করার সময়েই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়, পরবর্তীতে এই নোট ছাপার হার কমিয়ে আনা হবে, যেহেতু বেশি মূল্যের নোটের প্রদান উদ্দেম্য ছিল পুনর্মূদ্রাকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।


    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মার্চ মাসের শেষে বাজারে ২০০০ টাকার নোটের সংখ্যা ছিল ৩২,৮৫০ লক্ষ। তার এক বছর পর, অর্থ্যাৎ ২০১৮ সালের মার্চ মাসের শেষে সেই সংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩,৬৩০ লক্ষে। ওই সময়ে বাজারে যোগান অর্থের পরিমাণ ছিল ১৮,০৩,৭০০ কোটি টাকা। যার ৩৭.৩ শতাংশ ছিল ২০০০ টাকার নোটে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মার্চ মাসের শেষে ২০০০ টাকার নোটের পরিমান ছিল ৫০.২ শতাংশ। প্রসঙ্গত, ২০১৬-র নভেম্বরে বাতিল হয়ে যাওয়া ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের পরিমান সেই সময়ে বাজারে যোগান অর্থের ৮৬ শতাংশ ছিল।

    যখন ১০০০ টাকার নোট এবং ৫০০ টাকার নোট বাতিল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তখন তিনি বলেছিলেন, ‘বড় অঙ্কের নোটে কালো টাকার পরিমাণ বাড়ে।’ কিন্তু নোট ছাড়া কেন্দ্রের হাতে বিকল্প কোনও অস্ত্র ছিল না। মাস খানেকের মধ্যেই নতুন ৫০০ টাকার নোট বাজারে এন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল মোদি সরকার।


    তার কিছুদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ২০০০ টাকার নোটের পরিমাণ কমাতে হবে। সেই নিরিখে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে যেখানে ৩২৮৫০ লক্ষ ২০০০ টাকার নোট চাপা হয়েছিল, তা পরের বছর নেমে গিয়ে দাঁড়ায় আটশো লক্ষেরও নিচে।

No comments:

Post a Comment