Breaking

Monday, January 28, 2019

কৃত্রিম পা নিয়েই বাস্কেটবলের আঙিনা মাত করছে ষোড়শী


    ফুটফুটে মেয়েটার বয়স তখন সবে মাত্র তিন। তার আগে থেকেই বাঁ পায়ের হাঁটুর জায়গাটা একটু বেশিই ফোলা ছিল। ডাক্তার দেখালেন। একগুচ্ছ পরীক্ষা নিরীক্ষা হল। ওই ফোলা অংশেই ধরা পড়ল ক্যানসার। এক টানা ১৪ দফায় কেমোথেরাপি চলল। অবশেষে বাঁ পায়ের ঊরুর নিচ থেকে পায়ের পাতা পযর্ন্ত কেটে বাদ দিতে হল। সেই মেয়েই এখন মার্কিন মুলুকে কৃত্রিম পা নিয়েই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাস্কেটবলের আঙিনা। 

    বিশেষ ভাবে শারীরিক সক্ষম হয়েও যে বাস্কেটবলের মতো দৌড়ঝাঁপের খেলায় সফল হওয়া যায়, গোটা দুনিয়ার কাছে সেই নজির সৃষ্টি করেছে আমান্দা মেরেল। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও লড়াইড়ের জেরে এখন হান্টিংটাউন জুনিয়র বিশ্ববিদ্যালয় বাস্কেটবল দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সদস্যা, ঝোল বছরের আমান্দা।

    যতটা সহজে লেখা হল, ততটা সহজে আসেনি সাফল্য। অনির্বায ভাবেই তার দু’পায়ের জোর সমান নয়। তাই মাথার উপরে বাস্কেটের দিকে বল ছোড়ার সময় শুধু ডান পায়ের উপর ভর দিয়ে লাফিয়ে ওঠে আমান্দা। দৌড়নোর সময়েও বাঁ পা’টি টেনে টেনে নিয়ে যায় সে। তবু কোর্টে কারও চেয়ে পিছিয়ে থাকে না এই কিশোরী। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে দু’বার কোর্টে পড়ে গিয়েছিল আমান্দা। মেয়ে তবু হাল ছাড়েনি। জীবনের অতি বড় বিপযর্য়ও যে মেয়েকে কাবু করতে পারেনি, সামান্য পড়ে যাওয়ায় সে কী না থাকবে থমকে! তাই দু’বার পড়ে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে পর পর তিন বার উঁচু ঝুড়িতে বল জড়িয়ে দিয়েছিল আমান্দা। হ্যাঁ, সেই শুরু। এ ব্যাপারে হান্টিংটাউন জুনিয়র ভার্সিটি বাস্কেটবল দলের কোচ কেভিন জোনস বলেন, ‘দু’বার নয়, আমান্দা পড়ে গিয়েছিল তিন বার। ওর সতীর্থ একটি মেয়ে ওকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যায়। একটু পরেই ওই মেয়েটি বুঝতে পারে, আমান্দা কারও সাহায্য নেওয়ার পাত্রী নয়, সে একাই একশো।’ 

    এরপর থেকে এখনও আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কারও সহানুভূতিরও প্রয়োজন হয়নি। সতীর্থদের থেকে পিছিয়ে তো নয়ই, বরং একদম সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্ব দিতে চায় আমান্দা। কোচ কেভিন জোনসের বক্তব্য, ‘আমান্দার মধ্যে নেতৃত্বগুণ সহজাত। একদিন ও অলিম্পিকে আমেরিকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

    আমান্দর বাবা-মা কোনওদিন ভাবতেও পারেনি যে তাদের আদরের মেয়েটা এ ভাবে জীবনে ফিরে আসতে পারবে। তিন বছর বয়সে একটি পা বাদ যাওয়ার পর ফিরে আসার কী প্রচন্ড লড়াই চালিয়েছে ছোট্ট মেয়েটি, খুব কাছ থেকে দেখেছেন বাবা-মা। সে সব দিনের কথা মনে পড়লে তারা আজও আবেগমথিত হয়ে পড়েন। প্রতি বছর কৃত্রিম পা’টি ছোট একটি অস্ত্রোপচার করে পাল্টাতে হয়। সব মিলিয়ে খরচা পরে ২০ হাজার ডলার। আমান্দার বাবা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ডাক্তার যেদিন আমাদের বললেন যে ওর বাঁ পাটা বাদ দিতে হবে, সেদিনই ওকে (আমান্দ) আমরা বলেছিলাম, তোমর এই পা-টার বদলে ডাক্তাররা একটা নতুন পা এনে দেবেন। ও তখন খুব ছোট। কিছু না বুঝেই এক গাল হেসে সায় দিয়েছিল। নার্সদের আনন্দে বলে উঠেছিল, জানো- আমার নতুন পা হবে! ও আন্দাজও করতে পারেনি, জীবন ওকে কোন পথে নিয়ে যেতে চলেছে! তখন ওর বয়স মাত্র তিন।’ 

    এরপর কেটে গিয়েছে অনেকগুলি বছর। ‘নতুন’ সে ‘পা’ যে কী বস্তু, সে এখন জানে। এবং তা নিয়েই উঠে দাঁড়াবার রহদও সে নিজেই খুঁজে বের করেছে। এখানেই শেষ হয়ে যায়নি তার সাফল্যের খতিয়ান। তার আগামী লক্ষ্য প্যারা অলিম্পিক। সেদিকে তাকিয়েই নিজেকে তৈরি করছে আমান্দা। কেবল অংশ নেওয়া নয়, দলের হয়ে গলায় সোনার লকেট ঝোলাতে চান তিনি। আমান্দার বক্তব্য, ‘আমি চাই আমাকে দেখে অন্তত আমার মতো যারা, তারাও এগিয়ে আসুক।’

No comments:

Post a Comment