Breaking

Monday, January 14, 2019

ভিনগ্রহীরা কি বন্ধুত্ব করতে চায়? ব্রহ্মান্ড থেকে ছিটকে আসছে রহস্যময় আলো


ভিনগ্রহীরা কি আলো পাঠিয়ে মানুষের সঙ্গে দোস্তির সঙ্কেত পাঠাচ্ছে? এই প্রশ্নে বিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রবল আলোড়ন।


রহস্যময় আলে –
Ø ভিনগ্রহীদের আলোকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’ বা এফআরবি বলে।
Ø ২০১৫ সালে, পোর্তো রিকোর অ্যারেসিবো রেডিও টেলিস্কোপে প্রথম আলোর ঝলকানি দেখা গিয়েছিল।
Ø ২০১৮ সালে দু’মাসে ১৩ বার এফআরবি টেলিস্কোপে ধরা পড়ল আলোর ঝলকানি।
Ø আতসবাজির মতো উজ্জ্বল আলো ক্ষণস্থায়ী হলেও, কয়েক লহমায় সূর্যের তাপশক্তির কয়েক হাজার গুণ তাপশক্তি ছড়িয়ে দেয় মহাকাশে।

সৌরজগতের দুদূরতম প্রান্তের কোনও এক কক্ষপথ থেকে ছিটকে পৃথিবীর দিকে আসছে এক রহস্যময় সঙ্কেত। সে আসছে আলোর রূপে। এক বার নয়, বার বার। গত দু’মাসে মোট ১৩ বার! কানাডার একটি টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সেই আলোর সিগন্যাল। কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার অক্যানাগান ভ্যালিতে রাখা ‘কানাডিয়ান হাইড্রজেন ইন্টেনসিটি ম্যাপিং এক্সপেরিমেন্ট’ টেলিস্কোপে এই আলোর সিগন্যাল সম্প্রতি ধরা পড়েছে। 

  গবেষকরা বলেছেন, এর আগে ইতিহাসে মাত্র একবারই পৃথিবীতে এস পড়েছিল এই ধরনের মহাজাগতিক আলোর সিগন্যাল সিগন্যালের কথা সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সায়েন্স ম্যাগাজিন ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাথিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যা হওয়ার তাই হয়েছে। চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তবে কি ভিনগ্রহের কোনও প্রাণী পৃথিবীর উদ্দেশে এই সঙ্কেত পাঠাচ্ছে! কৌতুহল তৈরি হয়েছে, তবে কি ভিনগ্রহী বা এলিয়েন্স সঙ্কেত পাঠিয়ে মানব সভ্যতার অনুপ্রবেশ করতে চাইছে।

  বস্তুত, মহাবিশ্বের কোথাও প্রাণের সম্ভাবনা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। কারণ, গত দু’মাসে ১৩ বার রেডিও তরঙ্গের আলোর ঝলকানি ধরা পড়েছে। গোটা কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে এক বাঙালি বিজ্ঞানীর নামও। তিনি আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অদ্যাপক শর্মী চট্রোপাধ্যায়। তার সঙ্গে রয়েছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অনাবাসী ভারতীয় শ্রীহর্ষ তেন্ডুলকর।

  এই বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আতসবাজির মতো সেই আলো যতই ক্ষণস্থায়ী হোক, কয়েক লহমার মধ্যে তা যে পরিমাণ তাপশক্তি ছড়িয়ে দেয় মহাকাশে, সারা বছর আমাদের কাছে পৌঁছনো সূর্যের আলোর রশ্মি একসঙ্গে যোগ করলেও এই তাপের কাছে তা নস্যি। এই ভিনগ্রহীদের আলোকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’ বা এফআরবি। বিষয়টি নিয়ে এখনও নানাবিধ ধারণা রয়েছে বিজ্ঞানী-মহলে। একদল বিজ্ঞানী মনে করেন, ওই আলোর ঝলসানিগুলির ‘কারিগর’ আদতে ভিনগ্রহীরা। তারাই সম্ভবত প্রকান্ড সব আতসবাজি ফাটাচ্ছে! সেই বিস্ফোরণ এতই শক্তিশালী যে উজ্জ্বল আলোর ঝলক তৈরি হচ্ছে ব্রহ্মান্ডে। 

  এই রেডিও তরঙ্গ কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা মত থাকলেও অন্য প্রাণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কেউ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ ছাড়া অন্য কোনও প্রাণী এই ধরনের রেডিও তরঙ্গ তৈরি করতে পারে না। তবে কি মানুষ অথবা মানুষের ‘মতো’ কোনও প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে মহাবিশ্বে? এই আলোর সূত্র ধরে সেই উৎসের খোঁজে নেমে পড়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার হার্ভার্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এর বিজ্ঞানী এভি লোয়েব বলেছেন, এলিয়েন স্পেসক্র্যাফট থেকেও এই সঙ্কেত এসে থাকতে পারে।

  টেলিস্কোপে এই রেডিও ওয়েভ ধরা পড়েছে, সেটি রয়েছে কানাডার কলম্বিয়ার ওক্যানাগান ভ্যালিতে। একশো মিটার দীর্ঘ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী এই টেলিস্কোপ প্রতিদিন উত্তর দিকের গোটা আকাশ পযর্বেক্ষণের ক্ষমতা ধরে। জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের বক্তব্য, যে গ্যালাক্সি থেকে ভেসে এসেছে এই রহস্যময় সিগন্যাল সেটি পৃথিবী থেরে দেড়শো কোটি আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। ইউনিভাসিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার জ্যোতিবিজ্ঞানী ইনগ্রিড স্টেয়ার্স এই সম্পর্কে বলেন, ‘এই ধরনের সঙ্কেত যত আমরা পাব, ততই মহাজাগতিক ধাঁধার উৎস সম্পর্কে জানতে পারব, বুঝতে পারব।’ কানাডার অনাবাসী ভারতীয় জ্যোর্তিবিজ্ঞানী অধ্যাপক শ্রীহর্ষ তেন্ডুলকর জানিয়েছেন, সঙ্কেতগুলি একই ধরনের। তার কথায়, ‘এফআরবি হচ্ছে ছোট ছোট উজ্জ্বল রেডিও গয়েভ। যেগুলি মহাবিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে আসছে।’

  এফআরবি, এ-ও এক অনাদি অনন্তের গোলক ধাঁধা। এফআরবি আদতে একটি শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গ। যা গোটা ব্রহ্মন্ডে ছড়িয়ে রয়েছে। আতসবাজি ফাটানো হলে যেমন হয়, তেমনই খুব শক্তিশালী। অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোর ঝলক। একে বলা হয় ‘লাইট ফ্লাশেস’। প্রতিদিন ব্রহ্মান্ডে এমন আলোর ঝলকানির ঘটনা ঘটে গড়ে পাঁচ থেকে দশ হাজারটি। কিন্তু ব্রহ্মন্ডের অনেক দূরের সেই আতসবাজির ঝলক আমাদের চোখে খুব একটা ধরা পড়ে না। ২০০৭ সালে তা প্রথম বিজ্ঞানীদের নজরে পড়ে। যদিও সেই মহাজাগতিক রেডিও তরঙ্গ টেলিস্কোপে প্রথম ধরা পড়ে ২০১৫ সালে, পোর্তো রিকোর অ্যারেসিবো রেডিও টেলিস্কোপে। ইতিহাসে সেই প্রথম। দ্বিতীয় বার এফআরবি টেলিস্কোপে ধরা পড়ল সম্প্রতি।

No comments:

Post a Comment