Breaking

Saturday, December 1, 2018

ওজন ৮০০ কিলো, ৯ ফুট লম্বা, ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া শ্রীমদ্ভাগবৎ গীতা


দেড় কোটিটাকার বৃহত্তম গীতা মিলান থেকে আসছে ভারতে

শ্রীমদ্ভাগবৎ গীতা। হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ। হিন্দু গৃহস্থের বাড়ির ঠাকুর ঘরে গীতা ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। তবে সে গ্রস্থ শীর্ণ, বুক পকেটেই দিব্যি এঁটে যায়।



কিন্তু এ গীতা সে গীতা নয়। এ গ্রন্থের মাপ আমাদের পরিচিত গ্রন্থের সঙ্গে মেলে না। অতিকায় বললেও একে কম বলা হয়। সুদূর ইটালির মিলান শহরে গত বছর থেকেই সে গীতা ‘তৈরি’র প্রস্তুতি চলছে। যেটি হতে চলেছে গীতার বৃহত্তম সংস্করণ। গজনে হবে আটশো কিলো। গ্রস্থটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে দেড় কোটি টাকা। আগামী সপ্তাহেই মিলান থেকে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে এসে পৌঁছবে মহার্ঘ গ্রন্থটি। ইসকন এ গ্রন্থের মালিক। তারাই মিলানে এটি তৈরি করাচ্ছে। পবিত্র গ্রন্থটি রাখা থাকবে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে ইসকনের নির্মায়মাণ কৃষ্ণ অর্জুন মন্দিরে।

শ্রীমদ্ভগবৎ গীতা নিয়ে বিশ্বে বহু রেকর্ড হয়েছে। তবে আজ পযর্ন্ত দেড় কোটি ব্যায়ে আটশো কিলোগ্রামের গীতা তৈরি হয়নি কখনও। প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক একটি বইয়ের এমন বিপুল দর কেন? ইসকন সূত্রে খবর, প্লাটিনাম, সোনা ও রূপা দিয়ে কারুকাজ কর হয়েছে বইটিতে। আগামী সপ্তাহে মিলান থেকে জাহাজ পথে এটি ভারতে এসে পৌঁছবে। শুধু দেড় কোটি টাকার ধর্মগ্রন্থই নয়, কুরুক্ষেত্রের নির্মীয়মাণ কৃষ্ণ অর্জুন মন্দিরে যে রথের উপর দিন্ডায়মাণ পান্ডব বীর অর্জুন, সেই রথ তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ৪ কোটি টাকা ওই রথ তৈরি হচ্ছে চিনে। খুব শীঘ্রই সেটিও মন্দিরে এসে পৌঁছবে। কুরুক্ষেত্রের ইস্কন মন্দিরের প্রধান সাক্ষীগোপাল দাস মহারাজ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মিলানে আটশো কিলোর গীতা গ্রন্থটির চাপার কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।



গ্রন্থটি আকারে ৯ ফুট লম্বা, উচ্চতা ১০ ফুট এবং গ্রন্থটি চওড়ায় ৬ ফুট। মহারাজ জানান, ‘বইটিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এর দু’টি মলাট ধাতব বস্তু দিয়ে বানানো হয়েছে। বিশ্বের মহার্ঘতম সিন্থেটিক কাগজে ছাপা হয়েছে বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা্। যে পাতার জল পড়লেও কোনও ক্ষতি হবে না। পদ্মপাতার মতোই পিচ্ছিল বইয়ের পাতাগুলি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, বইটিতে রয়েছে ৬৭০টি পৃষ্ঠা। এক-একটি পৃষ্ঠা উল্টানোর জন্য তিন থেকে চারজন মানুষের প্রয়োজন পড়বে।

মহারাজ বলেন, ‘খুব শীঘ্রই আমাদের এই বই গিনেজ বুকে নথিভুক্ত হতে চলেছে। কারণ ভূ-বারতে এত বড় মাপের শ্রীমদ্ভাগবৎ গীতা নেই।’

আগামী ২০শে ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির ইসকন মন্দিরে বৃহত্তম গীতা গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে ইসকন সূত্রে জানানো হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দিল্লি ইসকন মন্দিরের প্রদান গোপালকৃষ্ণ গোস্বামী মহারাজ। বারতে এসে পৌঁছানোর পর বৃহত্তম গীতা গ্রন্থটি আপাতত থাকবে দিল্লির ইসকন মন্দিরে। পরে এটি স্থাপন করা হবে কুরুক্ষেত্রের মন্দিরে।

১৯৬৬ সালে ইসকন প্রতিষ্ঠা করেন অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। যিনি স্বামী প্রভুপাদ নামে জগৎবিখ্যাত। ২০১৬ সালে গৌরবময় পঞ্চাশ বচর পূর্ণ করেছে ইসকন। প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যেই কুরুক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণ অর্জুন মন্দির। পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপের পাশে মায়াপুরে তৈরি হচ্ছে ইসকনের সর্ববৃহৎ মন্দির।



কুরুক্ষেত্রের নির্মীয়মাণ মন্দিরটি সম্পর্কে সাক্ষীগোপাল দাস মহারাজ বলেন, ‘আসলে এই মন্দির নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বামী প্রভুপাদ। তিনি চেয়েছিলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঠিক যে জায়গায় দাঁড়িয়ে অর্জুনকে ভাগবৎ গীতা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন, সেখানেই তৈরি সেই স্বপ্ন্ সাকার হতে চলেছে।’

কুরুক্ষেত্রে ইসকনের বর্তমানেও একটি মন্দির রয়েছে। তবে সেটিকে মন্দির না বলে প্রেক্ষাগৃহ বলাই সমীচিন। সেটিও আবার অস্থায়ী। ছয় একর জমির উপরে যে প্রকান্ড কৃষ্ণ অর্জুন মন্দির তৈরির কাজ চলছে, ২০২১-এর মধ্যে তা শেষ হয়ে যাবে বলে মহারাজ জানান। ২০১৫ সালের আগস্টে প্রস্তাবিত মন্দিরটির শিলান্যাস হয়েছিল।

No comments:

Post a Comment