Breaking

Friday, December 7, 2018

বিশ্বে প্রথম ৩২ কিমি দূরে বসে রোবটের সাহায্যে সফল হার্ট অপারেশন কররেন


বিশ্বে প্রথম ৩২ কিমি দূরে বসে রোবটের সাহায্যে সফল হার্ট অপারেশন কররেন এক চিকিৎসক


    অক্ষরদাম মন্দির থেকেই রচিত জল ইতিহাস।গান্ধীনগরের স্বামীনাথন মন্দির অক্ষরদাম। গুজরাটের প্যাটেল সম্প্রদায়ের কাছে এই মন্দিরই শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক-স্থল। সেই মন্দির চত্বরেরেই একটি ঘরে বসে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন গুজরাটের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তেজস প্যাটেল।

     মেডিক্যাল সায়েন্সের দুনিয়ায় নয়া কীর্তি স্থাপন করলেন গুজরাটের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তেজস প্যাটেল। রোগীর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে বসে কম্পিউটারের মাধ্যমে রোবট চালিয়ে সফল ভাবে হার্ট অপারেশন (অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি) করলেন। সেই সঙ্গে সারা পৃথিবীর সামনে নিঃশব্দে গড়ে ফেললেন এক নজির। পৃথিবীতে এই প্রথম  রোগীর থেকে দূরে বসে কোনও চিকিৎসক কম্পিউটারের মাধ্যমে রোবট চালিয়ে সফল ভাবে হার্টের অস্ত্রোপচার করলেন। আর রোগী ছিলেন আমদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে। বুধবার আমদাবাদের অ্যাপেক্স হার্ট ইনস্টিটিউট-এ ছিলেন রোগী। রোগী এক মধ্যবয়স্ক মহিলা।


    ওই মহিলার ধমনীতে ৯০ শতাংশ ‘ব্লকেজ’ থাকার কারণে শরীরে রক্ত চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। আর সেই অস্ত্রোপচারই করলেন তেজস প্যাটেল, তাও আবার রোগীর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে গান্ধীনগরের অক্ষরধাম মন্দির থেকে। কম্পিউটারের মাধ্যমে রোবট চালিয়েই এই অপারেশন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞানকে নিয়ে গেলেন অনেক দূরে। করণ, এই ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই প্রথম। ডাক্তারি পরিবাষায় এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে ‘টেলোরোবটিক করোনারি ইন্টারভেনশন’।


    অত্যাধুনিক রোবটিকসের মাধ্যমে এমন অসাধ্য সাধন করা সম্ভব বলে ডাক্তার প্যাটেল জানিয়েছেন। কী ভাবে সম্ভব এই অস্ত্রোপচার? ডাক্তার প্যাটেল জানান, এটি আক্ষরিক অর্থেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। রোগী যে ওটিতে থাকবেন, সেখানে থাকবে ‘ক্যাথ ল্যাব’ এবং ইন্টারনেট ব্যবস্তার সঙ্গে সংযুক্ত ‘রোবটিক আর্ম’, যাকে দূরে বসে কম্পিউটারের মাধ্যমে রিমোর্ট কন্ট্রোলে চালনা করবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। তবে রোগী  যেখানে থাকবেন, তার পাশে থাকতে হবে একাধিক বিশেযজ্ঞ চিকিৎসক এবং নার্স। কারণ, অস্ত্রোপচার চলাকালীন কোনও রকম প্রতিকূল অবস্থা তৈরি হলে সেই চিকিৎসকদের সাহায্য লাগবে। আমদাবাদের সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে খবর, আর্টারিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে মধ্যবয়স্কা ওই মহিলার কয়েক দিন আগে হার্ট অ্যাটাক হয়। তৎক্ষণাৎ তাকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। খুব দ্রুত তার হৃদপিন্ডে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়। তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। এর পর মঙ্গলবার অন্য একটি ধমনীতে ‘ব্লকেজ’ ধরা পড়ে। সেই ব্লকেজ-ই টেলিরোবটিক সার্জারির মাধ্যমে পরিস্কার করে দিয়েছেন ডাক্তার প্যাটেল।

    এই ঘটনার পর তেজস প্যাটেলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রত্যন্ত কোনও গ্রামে চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক প্যাটেল। সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে ২০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা ছিল। এমন দ্রুত গতির ইন্টারনেট পরিষেবা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রোগীকে না সরিয়েও সফল ভাবে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এই সুবাদে ভারতের গ্রামীন স্বাস্থ্য পরিষেবা আমূল বদলে যেতে পারে। তার কথায়, ‘শুধু হৃদরোগের ক্ষেত্রেই নয়, শরীরের অন্য অংশ অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী হয়ে উঠতে পারে ই ধরনের প্রযুক্তি-নির্ভর অস্ত্রোপচার।

    তবে রোগী যেখানে থাকবেন, সেখানে একদল দক্ষ চিকিঃসকের থাকাটা অতীব জরুরি এবং সর্বোপরি থাকতে হবে বিশ্বাসযোগ্য ইন্টারনেট পরিষেবা।’

No comments:

Post a Comment