Breaking

Thursday, November 29, 2018

ঝাঁকে ঝাঁকে তিমি নিউজিল্যান্ডের সৈকতে, মৃত ১৪৫


অপরূপ সমুদ্র সৈকতে প্রায় থিক থিক করছে তিমি মাছ। না, এরা কেউই জীবিত নয়, মৃত। কিংবা মৃতপ্রায়। কেউ অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে। কেউ ছটপট করছে। ধীরে ধীরে নিথর হয়ে যাচ্ছে সকলের দেহ।



   স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি, সংখ্যায় তারা ১৪৫। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য নিউজিল্যান্ডের সৈকতে আগেও দেখা গিয়েছিল। এ বার ধেখা গেল যেন তারই ‘অ্যাকশন রিপ্লে’। ফের নিউজিল্যা্ন্ডের সৈকত ভিসে গেল পাইলট তিমিদের মৃতদেহে। দেশের প্রাণী সংরক্ষণ দপ্তর সূত্রে খবর, গত শনিবার রাত থেকেই নিউজিল্যান্ডের স্টুয়ার্ট দ্বীপের ধারে বহু তিমিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। এমন কিছু একটা ঘটতে চলেছে বলে তখনই আশঙ্কা করছিলেন পরিবশ কর্মীরা। সেই মতো উদ্ধারকারী দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়। রবিবার সকালেই দেখা যায় সেই মর্মান্তিক দৃশ্য। এক এক করে শতাধিক মৃত তিমি ভেসে আসছে সৈকতে। সোমবার পযর্ন্ত তাদের মধ্যে ১৪৫টি তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের অবস্থাও গুরুতর। স্টুয়ার্ট দ্বীপের প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের মুখ্য আধিকারিক রেন লিপেন বলেছেন, ‘এই ঘটনা আমাদের কাছে অনভিপ্রেত নয়। প্রতি বছরই এমনটা ঘটে চলেছে। খুবই দুঃখজনক হলেও এটা ঘটছে। সৈকতে আটকে পড়া কিছু তিকে আমরা জলে ফেরত পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে আবার ১০টি তিমি ফিরে এসেছে।

    নিউজিল্যান্ডের এমন দৃশ্য বিরল নয়। প্রতি বছরই নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন সৈকতে একধিক তিমি আটকে পড়ে। যাদের মধ্যে একটি অংশ জলে ফিরে যায়। যারা ফিরতে পারে না তারা মরে যায়। প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য বলছে, ১৯৯৮ সালে স্টুয়ার্ট দ্বীপের এই সৈকতেই ১০০০টি তিমি উঠে এসেছিল। ১৯৮৫ সালে অকল্যান্ডের সমদ্র সৈকতে এসে জমেছিল ৪৫০টি তিমি। এর আগে চলতি বছরেই নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন সৈকতে উঠে আসা তিমিদের মধ্যে মারা গিয়েছিল ৮৫টি তিমি। তবে স্টুয়ার্ট দ্বীপে এখন যেমন ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে তিমিগুলি, এর আগে তেমনটা হয়নি। ঝাঁকে ঝাঁকে মাঝ সমুদ্র থেকে সৈকতে ভেসে এসে তিরিা মারা যাচ্ছে কেন, তা নিয়ে পরিবেশবিদদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে নির্দিষ্ট করণটি এখনও অজানা। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, তিমি বা ডলফিন জাতীয় প্রাণীদের মধ্যেই এমন প্রবণতা বেশি। এ-হেন রহস্যমৃত্যুর নেপথে অবশ্য বিজ্ঞানীরা কিছু কারন ব্যাখ্যা করেছেন।



    বিজ্ঞানীরা বলছেন, গভীর জলে খাবারে চান পড়লে তিমিরা সৈকতের দিকে ভেসে আসতে চায়। িএকবার অগভীর জলে এসে পড়লে তাদের অনেকেই আর গভীর জলে ফিরে যেতে পারে না। তখন দমবন্ধ হয়ে সৈকতের বালিতেই মারা যায় সৈকতে তিমিদের ভেসে আসার আরও একটি করণ হচ্ছে, তুলনামূলক ভাবে কম গভীর জলে তিরিা সন্তান প্রসব করতে আসে। কিন্তু সৈকতের বেশি কাছাকাছি এসে পড়লে তার আটকে যায়। যেহেতু তাদের বিশাল শরীর, ফলে কম জলে তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সাঁতার কাটতেও অসুবিধা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ওযন অনেকটা জাহাজকে অগভীর জলে নিয়ে এলে যেমন অবস্থা হবে।

    বিজ্ঞানীরা আরও বলেছেন, এই দুই কারণ ছাড়াও হিমশৈল অথবা ডুবোজাহাজে ধাক্কা খেয়ে তিমিদের সৈকতের দিকে ভেসে আসাটাও আশ্চর্যের নয়। প্রাণী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তিমিদের স্বাভাবিক প্রবণতা অনেকটা জঙ্গলের হাতিদের মতো – দলের নেতাকে অনুসরণ করা। নেতা যদি পথে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা দিক ভুল করে, সে ক্ষেত্রে বাকি তিমিরাও বেকায়দায় পড়ে যায়। এর বাইরে তিমিদের সৈকতমুখী হওয়ার কারণটি হল, সমুদ্র দূষণ এবং উষ্ণায়ন। জলের তাপমাত্রা উষ্ণ হয়ে গড়লে তিরিা দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ে।


    বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তিরিা সাধারণত ভূচুম্বকীয় রেখা অনুসরণ করে। যার ফলে জলযান-সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির শব্দে তাদের পথের দিক গুলিয়ে যায়। দিক ভুল করে তারা ক্রমশ অগভীর জলের দিকে সাঁতরাতে শুরু করে। এছাড়াও দেখা যায়, স্বজাতিদের বিপদে পড়তে দেখলে তাদের বাঁচাতে সৈকতের দিকে চলে আসে তিমিরা। প্রাণী বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, একটি তিমি কোনও কারণে সৈকতে আটকে পড়লে সাহায্যর জন্য গভীর জলে বাকি তিদের কাছে সঙ্কেত পাঠায়। যা শুনে তাদের দলের বাকিরা সৈকতের দিকে চলে আসে। অতএব, সকলেই দল বেঁধে এসে আটকে পড়ে সৈকতের বালিতে।

No comments:

Post a Comment