Breaking

Monday, November 26, 2018

৮২ বয়সেও নৃত্যে বিস্ময় বৈজয়ন্তীমালার


সংখ্যা বলছে তিনি ৮২ বছরের প্রবীণা। কিন্তু মঞ্চে তার নৃত্যশৈলী ও বিভঙ্গ বলছে এখনও তিনি নবীনা। আর পারফরম্যান্স? অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। প্রতি মুহুর্তে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি আক্ষরিক অর্থেই চির শ্যামল। চুইটার, ফেসবুক ছেয়ে গিয়েছে প্রশংসায়। 


    হয়তো বার্ধ্য ছুঁয়েছে তার দেহ। তাতে কী! বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, সম্প্রতি তা হাড়েহাড়ে প্রমাণ করে দিলেন একদা বলিউড কাপানো নায়িকা, প্রাক্তন সাংসদ বৈজয়ন্তীমালা বালি। উৎসাহ আর প্র্তিভা মিলেমিশে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে। অশীতিপর বৈজয়ন্তীমালার নাচের শৈলী দেখে শুধু আচ্ছন্নতা নয়, আর বিস্ময়ে চেয়ে থেকেছেন দর্শক। 


    বৈজয়ন্তীমালা ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী, সেই সঙ্গে একেবারে প্রথম সারির ভারতনাট্যম শিল্পী। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় জগৎ থেকে দূরে সরে গেলেও নৃত্য শিল্পকে তিনি যে আজও আকড়ে রয়েছেন, দর্শকদের বুঝিয়ে দিলেন বৈজয়ন্তীমালা। সচরাচর যে বয়সে এসে মানুষ গরকানো হয়ে পড়েন, মুখে বলিরেখা পড়ে, চলৎশক্তি র্কাযত হারিয়ে যায়, সেই বয়সে একক অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতিয়ে তোলা কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তার নাচের সেই ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, অভ্রান্ত ছন্দে, অনবদ্য নৃত্যশৈলী আজও তাকে ঠিক আগের মতোই জড়িয়ে রেখেছে। আবহে বাজছে ভাতেনাট্যমের বোল। মঞ্চে তার দীপ্তি চোঁখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে দর্শকদের। ভিডিওটি দেখেই বহু প্রবীণ মানষ হাঁটতে শুরু করেছেন ডাউন মেমরি লেনে। 


    ১৯৮৯ সলে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তামিল ছায়াছবি ‘বাজখাই’-তে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল বৈজয়ন্তীমালার। সেই সূত্রে বলিউডে তার প্রথম ছবি ‘নাগিন’। ‘মন দোলে মেরা তন দোলে’ – গানের তালে তার অপরূপ নাচে আবিষ্ট হয়েছিল গোটা দেশ। সে গান এটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে পরবর্তী সময়ে সে গানের কতবার যে ‘রিমেক’ হয়েছে উয়ত্তা নেই। আধুনিক প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছেও এ্ে িগান সমাদৃত। ‘নাগিন’ ছবির পর থেকেই তার কেরিয়ারের গ্রাফ চর্চর করে বাড়তে থাকে। দিলীপ কুমারের সঙ্গে তার অনস্ত্রিন রসায়ন দর্শককুলকে মোহাবিষ্ট করে দেয়। হিন্দি, তামিল ও তেলগু – তিন ভাষাতেই চুটিয়ে ছবি করেছেন তিনি। পরবর্তী কালে ভারতনাট্যমে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পেয়েছেন সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার। পারফর্মিং শিল্পে দেশে এটাই সর্বোচ্চ সম্মান। নাচের পাশাপাশি কর্নাটকি ধ্রুপদ সঙ্গীতেও তালিম রয়েছে তার। উদারমনস্ক সনাতনী তামিল সিনেমার নায়িকা ছিলেন। শৈশবেই নাচের হাতেখড়ি হয়েছিল তার। তখন থেকেই ভারতনাট্যমে তার দক্ষতা ও নৈপুণ্য দেখে বাড়ির বড়রা বিস্মিত হয়ে যেতেন। ১৯৪০ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে রোমের ভ্যাটিকান সিটিতে মায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে পোপ দ্বাদশ পায়াসের সামনে নাচের অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সাত বছরের একরত্তি শিল্পীর নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন ভ্যাটিকানের দর্শক। সেখান থেকে দীর্ঘ আট দশক পরেও দর্শকদের মুগ্ধতার রেশ জিইয়ে রেখেছেন বৈজয়ন্তীমালা।

No comments:

Post a Comment