Breaking

Monday, November 26, 2018

অলৌকিক! পুতুল ভেবে সাগর থেকে তুলতেই হেঁসে দিল শিশু


মাছ ধরতে সমদ্রে নামবেন বলে রি হচ্ছিলেন একদল জেলে। হঠাৎই তাদের নজরে পড়ে, ঢেউয়ে ভাসছে একটি বরসড় পুতুল। নিছক কৌতুহল থেকেইসুন্দরপুতুলটিকে তুলে আনবেন বলে কাছে গেলেন কয়েক জন। এরপর ওই মৎসজীবীদের সমনে যা অপেক্ষা করছিল তা হল অপার বিস্ময়। ধীবরদের দেখেই হেঁসে ফেলল পুতুল 

ঘটনা গত মাসের ২৬ তারিখের। তবে প্রচারের আলোয় এসেছে অতি সম্প্রতি। ঘটনাটিকেমিরাক্যুলাসতথা অলৌকিক বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বস্তুতই এটি একটি দুর্ঘটনা, যা কাকতালীয় ভাবে উদ্ধারের গল্পে বদলে গিয়েছে গাস হাট নামে এক ধীবরের কল্যাণে


ঠিক কী হয়েছিল? সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে গ্যাস হাট জানিয়েছেন, তখন সকাল ৭টা ১৫ মিনিট। তারা মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলেন। ঘটনাস্থল নর্থ আইল্যান্ডে প্লেন্টি সগরের মাটাটা সৈকত। জলে চোখ পড়তেই তারা দেখেন, বড়সড় আকারের একটি সুন্দর পুতুল জলে ভাসছে। ঢেউয়ের তালে উঠছে নামছে। গাস হাটের কথায়, ‘ভেবেছিলাম একটা সুন্দর পুতুল। নেহাত কৌতূহল  থেকেই ওর দিয়ে এগিয়ে যাই। ওর হাতটা ধরি। তখনও কিছু মনে হয়নি। মুখটিও এদম পোর্সেলিনের মতো মসৃণ লাগছিল। দুই চোখ ছিল পুতুলের মতোই অপলক। শাথা ভর্তি ছোট ছোট চুল। ঠান্ডা শরীর। কিছুটা দূর থেকেই ওই পুতুলের দেহ থেকে ক্ষীণ একটা চিঁ-চিঁ শব্দ শুনছিলাম। আমি জল থেকে তলতেই ওই পুতুল একটা হাঁসি দিল। আমি হতবাক! কী! পুতুল নয়, জীবন্ত একটি শিশু!


কিছুক্ষণ বাদে তিনি বোঝেন, পুতুল ভেবে আঠারো মাসের এক অসহায় শিশুকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছেন গাস হাট। এমনমহতীকান্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন স্রেফ অজান্তেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেড় বছরের শিশুপুত্রটির নাম মালাচি রিভ। বাবা-মায়ের সঙ্গে গত মাসে বিচ ক্যাম্পে এসিছিল সে। সকলের অলক্ষ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী ডিঙিয়ে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে টলমল পায়ে কখন যেন সমুদ্রের পাড়ে চলে গিয়েছিল সে। কেউ জানতেও পারেনি। এক পা, দুপা করে এগোতে এগোতেই জলে ভেসে যায় সে। জলে হাবুডুবু খায় বেশ কিছুক্ষণ। তার পরেই নিস্তেজ হয়ে পডে। হালকা শরীর বলে চট করে জলে ডুবে যায়নি। ওই অবস্থাতেই আর্শ্চযজনক ভাবে গাস হাটের চোখে পড়ে যায় রিভ। ভাগ্যিস পড়েছিল! গাস হাটের কথায়, শিশুটি জলের স্রোতে ওঠা-নামা করতে করতে ভেসে যাচ্ছিল। আরকয়েক মিনিট দেরি হলেই হয়তো ওকে আর বাঁচাতে পারতাম না। কাকতালীয় ভাবে বেঁচে গেল সে। দয়ালু ঈশ্বর সর্বশক্তিমান! খুবই ভাগ্যবান শিশু। 


কিছুক্ষণের মধ্যেই সৈকতে পুলিশ আসে। তারাই রিভের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছুটে আসেন তারা। মা জেসিকা হোয়াইট এসে দেখেন, ঠান্ডা জলে ভিজে একরত্তি ছেলের শরীর নীল হয়ে গেছে। তাকে আরও ছোট দেখাচ্ছে। ওষুধপত্র নিয়ে এসে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা হয়। জেসিকা জানান, রিভ তার ছোট ছেলে। গত ২৫ শে অক্টোবর তারা এই সৈকতে একটি ক্যাম্প ফায়ারে যোগ দিতে এসেছিলেন। আঠারো মাসের রিভ অনাদি অনন্ত নীল জলরাশি দেখেই মুগ্ধ হয়ে যায়। বারবারই তার কাছে জলে নামার জন্য বায়না করতে থাকে। বাবা-মা আটকে রেখেছিলেন তাকে। তাই পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেষ্টনী খুলে সকলের অলক্ষ্যে সমুদ্রের ধারে চলে এসেছিল সে



নিউজিল্যান্ডেরওয়াটার সেফটি চিফ এক্সিকিউটিভজন্টি মিলস বলেনমিলাচির ঘটনাটা যে কোনও সময় দুর্ভাগ্যজনক হতে পারত। গত বছর এই জায়গায় কয়েকটি শিশু ডুবেও গিয়েছিল। জলে পড়ে গিয়ে বিপদ ঘটাতে একটা শিশুর এক মিনিটও লাগে না। ক্ষেত্রে বড়দেরই প্রতি মুহুর্তে সচেতন থাকতে হবে, আগলে রাখতে হবে সর্বদা।আর ছুটির দিনে ওই ক্যাম্প ফায়ারের আয়োজক সংস্থার কর্ণধার রেবেকা সল্টার সংবাদ সংস্থা এপি-কে বলেন, ‘অলৌকিক ঘটনা। ওই শিশুটির মতো আমরাও সৌভাগ্যবান। সবই ঈশ্বরের করুণা।


No comments:

Post a Comment