Breaking

Saturday, November 24, 2018

ক্যানসার ছড়াচ্ছে স্যামসাঙ-এর কারখানা, মেনে নিলেন শিল্পকর্তা


স্যামসাঙয়েরর ইলেকট্রনিক্স কারখানায় কাজ করতে গিয়ে গত ৩৩ বছরে ২৪০ জন শ্রমিক এবং তাদের পরিবার মারণরোগ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ জনের মৃত্যুও হয়েছে। ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছে স্যামসাঙ কর্তৃপক্ষ। আর এজন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি আক্রান্ত শ্রমিকদের ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরন দিতেও রাজি হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভের পারদ চড়ছে।
 

    ১৯৮৪ সালে সিওলের দক্ষিণপ্রান্তে সুওনে মোবাইল চিপ প্রস্তুতের জন্য শিল্পটি স্থাপন করে স্যামসাঙ কর্তৃপক্ষ। ২০০৭ সালে প্রথম এই কারখানারই এক শ্রমিক পরিবারের ১২ বছরের মেয়ে লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তখনই বিশ্বের একাদশতম বৃহৎ সংস্থাটির বিরুদ্ধে তেজক্রিয় দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেইসময় বিষয়টিকে কোনও ভাবেই গুরুত্ব দেয়নি সংস্থার কর্তারা। পরবর্তীকালে শেষ ১১ বছরে প্রায় ২৪০ জন শ্রমিক এই মারণরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরই শ্রমিক সংগঠনের তরফ থেকে শ্রমিক স্বার্থরক্ষা এবং সুরক্ষা বিঘ্নিতকরণের অভিযোগ আনা হয় স্যামসাঙ সংস্থার বিরুদ্ধে।

    সম্প্রতি ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই সংস্থার উপ-অধিকর্তা কিম-কি-নাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি তার বার্তায় জানিয়েছেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত। কারখানার কাজ করতে গিয়ে যেসব শ্রমিক এবং তাদের পরিবার মারণরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের জন্য আমি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং সকল শ্রমিক পরিবারের পাশে থাকারও অঙ্গীকার করছি।’ কিমের এই বার্তা প্রকাশের অল্প ক্ষণের মধ্যেই সংস্থার তরফে ক্ষতিপূনের বিষয়টি ঘোষনা করা হয়। সংস্থার তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ১.৩৩ লক্ষ্য মার্কিন ডলার বা দের কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) ক্ষতিপূরন দেওয়া হবে।



    কিম হয়তো আশা করেছিলেন, ক্ষতিপূরণের বার্তা দেওয়ার পরই হয়তো শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ কিছুটা হ্রাস করা যাবে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ ঘোষনার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করে। ২০০৭ সালে যে শ্রমিক পরিবারের মেয়েটি নিউমোনিয়ায় মারা গিয়েছিল তার পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়েছে। ‘কর্তৃপক্ষ কী আমাদের পরিবারের যন্ত্রণা অনুভব করতে পারবে? সামান্য টাকা দিয়ে শ্রমিকদের স্বার্থ হরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এখনও পযর্ন্ত ৮০ জনের মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে। আর প্রত্যেকে ক্যানসারেই মারা গিয়েছেন বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এর আগেও সিওলের এই সংস্থাটি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পরেছিল। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে আর্থিক বেনিয়মের মতো বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল স্যামসাঙ ইলেকট্রনিক্সকে কেন্দ্র করে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল এবং চিপ প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় থোরিয়াম, অ্যান্টিমনি নিয়ে কাজ করার ফলে শরীরে তেজস্ক্রিয় দূষণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরের লোহিত রক্তকণিকার দ্রুত হ্রাস হয়। আর তার জন্য রক্ত ক্যান্সার ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অংশে ক্যান্সারের মারণ বিষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, গর্ভপাতের মতো ঘটনার জন্যও তেজস্ক্রিয় দূষণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 

    কিম জানিয়েছেন, শুধু ক্যান্সার নয়, গর্ভপাত সহ শরীরের ১৬টি রোগের মোকাবিলায় অর্থ সাহায্যে প্রস্তুত স্যামসাঙ ইলেকট্রনিক্স। কিন্তু শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে শ্রমিক ক্ষোভ হ্রাস করতে পারবেন কিনা স্যামসাঙ কর্তা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সিওলের দক্ষিণ প্রান্তে সিওলে যে আর্থিক উন্নতি হয়েছে তার কৃতিত্ব দাবি করতে পারে স্যামসাঙ সংস্থাই।

No comments:

Post a Comment