Breaking

Tuesday, November 20, 2018

মুচকি হাসি থেকে ভ্রু কোঁচকানো, মানুষের মতো রোবট জাপানে


তুই কি রোবট নাকি। মুখে কোনও তা-উত্তাপ নেই? রোবট অর্থাৎ যন্ত্রমানব। তার আবার চোখে-মুখে অভিব্যাক্তি থাকে নাকি? কম্পিউটারে তাকে যে ভাবে ‘প্রোগ্রামিং’ করা হবে, সে ভাবেই সে যন্ত্রের মতো কাজ করে যাবে। কিন্তু, এ বার জাপান তৈরি করে ফেলেছে এমন অভিনব রোবট, যার চোকে-মুখে অবিকল মানুষের মেতোই আবেগের অভিব্যক্তি ফুটে উঠবে। এখন দেখার, রোবটের পথিকৃত জাপান কবে এই ধরনের রোবটকে নিয়ে আসে বাস্তবের দুনিয়ায়।



     কলকারখানার পাশাপাশি হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে জাপানে অনেক দিন আগেই রোবটের প্রচলন শুরু হয়েছে। মানুষের অনেক কাজিই করে দিচ্ছে ওই সব যন্ত্রমানব। এক জোড়া মোটা মোটা হাত আ পা, প্রকান্ড একটি মাথা-এটুকু বাদ দিলে মানুষের চলাফেরার অবিকল মানুষের মতো রোবট তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যে রোবটের মুখে কেবল আবেগই খেলা করবে তা নয়, সে মানুষের সঙ্গে ভাব বিনিময়ও কবতে পারবে। এমনকী, প্রশ্ন শুনলে প্রত্যুত্তর দিতে পারবে। সর্বোপরি, মানুষের কথায় কষ্ট পেয়ে কেঁদেও ফেলবে। এক কথায়, রোবট কিন্তু যার মধ্যে আছে মানবিক অভিব্যক্তি।



     জাপানের প্রখ্যাত শিক্ষায়তন ওসাকা ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক সাত বছর আগেই ‘মানুষের মতো’ রোবট বানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। টোকিওর জাতীয় শিল্পমেলায় সেটি প্রদর্শিতও হয়েছিল। যে রোবটের মাথাটি ছিল অবিকল শিশুর মতো। সে-ও শিশুর মতো মুখভঙ্গি করে দেখিয়েছিল। যন্ত্রটির প্রযুক্তিগত নাম ছিল ‘অ্যান্ড্রয়েড রোবট’। আর পোশাকি নাম ছিল – অ্যাফেট্রো’। ২০১১ সালে অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তির প্রথম প্রজন্মের সেই রোবট প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়। এ বার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের যে ‘অ্যাফেট্রো’ তারা আবিষ্কার করেছেন, সেটির অভিব্যাক্তি আরও প্রখর, আরও অব্যর্থ। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িক পত্র ‘ফ্রন্টিয়ার’ –এ ‘রোবাটিক্স অ্যান্ড আই’ শিরোনামে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। জাপানি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের এই অ্যান্ড্রয়েড রোবট মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় ভাবে মিশে যেতে পারবে।



     গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক তথা বিজ্ঞনী মিনোরু আসাদ বলেছেন, ‘অ্যান্ডয়েড রোবটের ক্ষেত্রে মুশকিল হচ্ছে তার বর্হিরঙ্গের বিকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ এই ধরনের রোবটের মুখের সিন্হেটিক ত্বক হয় খুব মোলায়েম। ফলে সামান্য আবেগের মুহুর্তে সেখানে অতিরিক্ত অঙ্গবিকৃতি ঘটে যাওয়াটা স্বাভাবিক। একে নিয়ন্ত্রন করে সঠিক ভাবে চালনা করাই আমাদের কাছে ক্রকৃত চ্যালেঞ্জ ছিল।’ তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আনন্দিত যে সেই কাজে আমরা সফল হয়েছি। আমরা দ্বিতীয় প্রজন্মের এই রোবটের ভাবাবেগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। রোবটের ১১৬টি ফেশিয়াল পয়েন্টের উপর গবেষণা চালিয়েছিলাম। সমীক্ষা চালিয়েছিলাম মুখের ১১৬টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের ত্রিমাত্রিক গঠন নিয়ে। চোখের পাতা এবং ঠোঁটের অঙ্গভঙ্গিকে নিয়ন্ত্রণে আনাটা মো্টেই সহজ কাজ ছিল না। গণিতের সাহায্য নিয়ে অঙ্ক মিলিয়ে কাজটি করতে হয়েছে আমাদের। গবেষণাপত্রের সহ-লেখক, বিজ্ঞানী হিসাশি ইশিহারা বলেছে, ‘মানুষের মুখের অভিব্যক্তির মতোই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম মোচড় রয়েছে অ্যাফেট্রোর দ্বিতীয় সংস্করণে। মানুষের মতেই সে পরিস্থিতি অনুযায়ী মুচকি হাসতে অথবা ভ্রু কোঁচকাতে পারে।’

No comments:

Post a Comment