Breaking

Sunday, November 11, 2018

বিশ্বে প্রথম, আকাশে কৃত্তিম চাঁদ ঝোলাতে চলেছে চিন


আকাশে চাঁদ-ও হবে এবার ‘মেইড ইন চায়না’। হ্যাঁ, চিন-ই বিশ্বের প্রথম দেশ হতে চছে যারা বিকল্প চাঁদ বানেয়ে, তাকে কৃত্রিম ভাবে আকাশে ‘লটকে’ দিয়ে নিজের দেশকে তো আলোকিত করবেই, সেই সঙ্গে চমকে দেবে গোটা দুনিয়াকে। বিষয়টি খোলসা করা যাক। অমাবস্যার রাতে কখনও চাঁদ দেখেছেন, বা দেখার কথা কল্পনা করেছেন? কিংবা ধরুন পূণিমার আকাশে একাধিক পূর্ণশশী? এ পযর্ন্ত শুনে হেয়ালি মনে হতেই পারে। না, কোনও হেয়ালি নয়। বাস্তবে এমনটাই ঘটতে চলেছে চিনে।



    আকাশে কৃত্রিম চাঁদ বানিয়ে রাতের আঁধারকে আলোকিত করার চেষ্টা করছে চিন। বিশ্বে তারাই প্রথম দেশ যারা কাযর্ত দুঃসাধ্য এই প্রয়াসে ব্রতী হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য দেশে রাস্তার আলোর ব্যবহার বন্ধ করে বিদ্যুতের খরচ কমানো। ড্রাগনের দেশের বক্তব্য, স্রেফ এই কারণেই তারা কৃত্রিম চাঁদ তৈরীর কাজ চালাচ্ছে। ‘চায়না ডেইলি’ সংবাদপত্রে অতি সম্প্রতি এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশ, সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে ২০২০ সলের মধ্যেই সে দেশের বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম চাঁদ তৈরী করে ফেলবেন। চিনের সিচুয়ান প্রদেশের শিচাং স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে আকাশে ‘পাড়ি’ দেবে ওই চাঁদ।



    শুনতে চাঁদ হলেও আদতে এটি ‘নাইটল্যাম্প’, যা দেখতে হবে অবিকল দাাঁদের মতো। পৃথিবীর বুকে সূর্যের যে আলো এসে পড়ে, সেই আলোতেই আলোকিত হবে এই চাঁদ। প্রাথমিক ভাবে চিনের চেংদু শহরে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম চাঁদটি বসানো হবে। সেই প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে ২০২২-এর মধ্যে আকাশে আরও তিনটি চাঁদ ‘ঝোলাবে’ চিন। দেংদু অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মাইক্রোইলেকট্রনিক্স সিস্টেম রির্সাচ ইনস্টিটিউট-এর চেয়ারর্পাসন উ চুনফেং ইই কথা সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন। তারাই গোটা প্রকল্পের কাজটি করছেন বলে জানিয়েছেন উ। তিনি বলেছেন, ‘আসল চাঁদের আলোতেই (য আলো আদতে সূর্যেরই) আলোকিত হবে কৃত্রিম চাঁদ। তবে প্রকৃত চাাঁদের থেকে কৃত্রিম চাঁদের আলো হবে আট গুণ বেশি জোরাল।’ তার কথায়, ‘কৃত্রিম চাঁদ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরূ হয়েছিল বছর দু’য়েক আগেই। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।’ প্রশ্ন হল, এমন ভাবনাচিন্তা কার মক্তিষ্কপ্রসূত? চুনফেং বলেন, ‘একজন ফরাসি শিল্পীর পরিকল্পনা থেকেই আমাদের মাথায় কৃত্রিম চাঁদ বানানোর ভাবনাটি আসে।’



    চায়না ডেইলি-র রিপোর্টে প্রকাশ, একেবারে আয়নার মতোই কজ করবে এই কৃত্তিম চাঁদ। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৫০০ কিলোমিটার উপরে থাকবে এই চাঁদ। এত সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে যে আলোর সৃষ্টি হবে, সেটাই চিনের শহর-আধা শহরগুলিকে আলোকিত করবে। এখানেও প্রশ্ন জাগে, এই কৃত্রিম চাঁদের আলোয় জীববৈচিত্রের ক্ষতি হবে কি না? চুনফেন বলেছেন, ‘এই চাঁদ মানুষের হাতের তৈরী। সুতরাং আলোর ওঠানামার প্রাবল্য মানুষই নিয়ন্ত্রন করবে।’ সংবাদপত্রের রির্পোট অনুযায়ী, গোটা চিন দেশের রাতের আকাশকে আলোকিত করার ক্ষমতা থাকবে না কৃত্রিম চাঁদের। আলোর প্রতিফলন কোথায় কোথায় পৌছবে তা সবটাই নিয়ন্ত্রণ করবে চিনের বিজ্ঞানীরা। চেনফুং জানিয়েছেন, চাঁদ ‘ঝুলানো’র প্রকল্পটি সফল হলে শুধু ৩১ বর্গ কিলোমিটার বিস্ত্রত চেংদু শহরেই বছরে বিদ্যুতের খরচ বাঁচবে ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার।


সংবাদটি কেমন লাগল কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ

No comments:

Post a Comment