Breaking

Thursday, November 15, 2018

অনলাইনে কেনা আলমারিতে ৭৮ লক্ষ টাকা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন যুবক


ধরুন আপনি ইন্টারনেট ঘেঁটে ‘ওএলএক্স’ থেকে একটি পুরনো আলমারি কিনলেন। কিনতেই পারেন! যদি কেনার পর বাড়ি এনে দেখেন যে তার ভিতরের গেপান লকারে রয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা? কল্পনাতেও কখনও এমন দৃশ্য দেখেছেন?



     কল্পনা নয়, বাস্তবেই এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘছেছে রোমানিয়ায়। রোমানিয়ার টিমিস কান্ট্রির বাসিন্দা বছর তেত্রিশের এক যুবক আমাদের ওএলএক্স বিংবা কুইকার-এর মতো ‘অ্যাডেবারুল’ সাইট থেকে স্টিলের একটি সেকেন্ড হ্যান্ড আলমারি কিনেছিলেন। আর তার ভিতরেই পেয়েছেন গুপ্তধন। ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যারাডের এক ব্যাক্তির থেকে তিনি সেটি কিনেছিলেন। বছর তেত্রিশির যুবকের ইতিমধ্যে চারটি সন্তান রয়েছে। সব মিলে তার পরিবারে বাচ্চাদের সংখ্যাই ১২। বেলজিয়ামের একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজ করেন ওই যুবক। অ্যারাড থেকে আলমারিটি কিনে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। কেনার সময় নিজে আলমারিটি খুলেও দেখেছিলেন তিনি। তখন তার চোখে কিছু পড়েনি। বাড়িতে আনার পর আলমারি খুলে দু’টি লকার ঘাঁটতে ঘাঁটতে একটি ধাতব বাক্স খুঁজে পায় তার এক ছেলে। সেই বাক্স খুলে ভিতরে পাওয়া যায় ৯৫ হাজার ইউরো। ভারতীয় মুদ্রায় কম-বেশি ৭৮ লক্ষ টাকা



     কথা হল, টাকা পেয়ে তিনি কী করলেন? কোথাও বিনিয়োগ করলেন, নাকি দেদার কেনাকাটা শুরু করলেন? না, তিনি এর কিছুই করলেন না। টাকার বাক্স নিয়ে যুবক আসল মালিকের সন্ধান শুরু করলেন। মাথায় উঠল আনন্দ, উল্টে তাকে গ্রাস করল চিন্তা। ভয় একটাই, যদি বিষয়টা জানাজানি হয়ে যায়! যদি কোনও দুষ্কৃতী এসে সব কিছু কেড়ে নেয়! অন্যের সাধের টাকা মেরে দেওয়াতে যদি ক্ষতি হয়ে যায়! কাজের এক বন্ধুকে গোটা বিষয়টা তিনি জানান। বন্ধুকে তিনি জানান, বিনা শ্রমে অর্জিত অন্যের ধন ভোগ করতে তিনি অপারগ। তারপর দুই বন্ধু মিলে অ্যারাডে গিয়ে আসল মালিককে খুঁজে বার করেন তারা।

     টাকা পেয়ে ওই ব্যাক্তি যার-পর-নাই কৃতজ্ঞ। খুশি হয়ে ৯৫,০০০ ইউরো থেকে ৯৫,০০ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা) ওই যুবককে দিয়ে দেন টাকার আসল মালিক। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে ওই যুবকের মহানুভবতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাতে অযাচিত লক্ষ্মী পেয়েও কেন ফিরিয়ে দিলেন তিনি? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যুবক বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, অন্যের অতগুলো টাকা নিজের আলমারিতে দেখার পর সারা রাত অতঙ্কে ঘুমোতে পারিনি। কেবল মনে হচ্ছিল, এই বুঝি আমার বাড়ির সমনে ডাকাত বোঝাউ কোনও গাড়ি এসে দাঁড়াল।’


     আর ওই আলমারির প্রকৃত মালিক যিনি, সেই ব্যাক্তি জানিয়েছেন, সম্প্রতি তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি বাবার বাড়িটি হাতে পেয়েছেন। সেই বাড়িরই পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি করে দিচ্ছিলেন তিনি। ফলে ওই ৯৫,০০০ ইউরো তারও রোজগারের) নয়, তার বাবার টাকা।

No comments:

Post a Comment