Breaking

Monday, November 12, 2018

বিস্ময় প্রতিভা! ১১ বছর বয়সে বি-টেক, এম টেকের পড়ুয়াদের কোচিং


গলার বোতাম আটকানো ফুলস্লিভ শার্ট। বুদ্ধিদীপ্ত দু’টি চোখের উপর মোটা ফ্রেমের চৌকো চশমা। ক্লাস সেভেনের ছাত্র। মহম্মদ হাসান আলি। বয়স মাত্র ১১।



     এ-হেন খুদে ছাত্রটি থুড়ি ‘মাস্টারমশাই’-এর কোচিং সেন্টারে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩০। যারা সকলে বি টেক অথবা এম টেক পাঠক্রমের পড়ুয়া! হায়দরাবাদে রীতিমতো নিয়ম করে হবু প্রযুক্তিবিদদের টিউশন পড়াচ্ছে এগারো বচরের হাসান।

     হায়দরাবাদের হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই ছাত্র আক্ষরিক অর্থেই দেশের এক বিস্ময় প্রতিভা। নিজের চেয়ে বয়সে দ্বিগুণ বড় ছাত্রছাত্রীদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের পাঠ পড়াচ্ছে। না, টিউশনের জন্য একটি পয়সাও ‘সিনিয়র’ ছাত্রদের থেকে নেয় না সে। হায়দরাবাদ কেন, গোটা দেশের ইউ বিস্ময় প্রতিভার একটি স্বপ্নও রয়েছে। সেটি হল, ২০২০ সালের মধ্যে বি-টেক ও এম টেকের ১ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়ানো।



     প্রশ্ন জাগে হাসান আলি তবে নিজের পড়াশোনা করে কখন? সহপাঠীদের মতো সে-ও প্রতিদিন স্কুলে যায়। মন দিয়ে ক্লাস করে। স্কুল শেষে মাঠে গিয়ে খেলাধুলোও করে। এ-সবই চলে তার সন্ধ্যা ৬টা পযর্ন্ত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত হাসান নিপাট ছাত্র। কিন্তু ৬টা বেজে গেলেই সে আদ্যন্ত শিক্ষকে রূপান্তরিত হয়ে যায়। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে হাসান আলি বলে, ‘গত বছর থেকে বি-টেক, এম-টেকের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং করাচ্ছি। তাই বলে নিজের পড়ায় কোনও ঘাটতি নেই। সকালে স্কুলে যাই। তিনটের সময় বাড়ি ফিরি। কিছু খেয়েই হোম ওয়ার্ক শেষ করি। তার পর একটু মাঠে গিয়ে খেলি। সন্ধ্যা ৬ টায় যোগ দিই কোচিং ইনস্টিটিউটে।’ কী পড়ায় সে? কুদে বিস্ময়ের অকপট উত্তর, ‘আমার কোচিংয়ে পড়াছেন সিভিল, মেকানিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্সের ছাত্রছাত্রীরা।’ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রটি কী ভাবে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের পড়ায়? বিশ্বের বিভিন্ন নামী শিক্ষায়তন থেকে বি-টেক, এম টেক পাশ করে যে সব কৃতীরা উন্নত দেশগুলিতে সাফল্যের সঙ্গে চাকরি করছেন, তাদের প্রস্তুতি থেকে ছাকরির ধরন – সব কিছু ইন্টারনেটে ভিডিও দেখে নিজেকে তৈরী করেছে হাসান। তার কথায়, ‘স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে আগে ইন্টারনেটে আমি ওদের (বিদেশে কর্মরত কৃর্তী প্রযুক্তিবিদ) সম্পর্কিত প্রচুর ভিডিও দেখতাম। সেটা দেখেই মনে হয়েছিল, আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ারদের খামতির জায়গাটা কোথায়? বুঝতে পরি, আমাদের এখানে গলদটা একদম গোড়ায়। টেকনিক্যাল এবং কমিউনিকেশন – দুট জায়গার বুনিয়াদি শিক্ষাতেই আমাদের এখানে গড়পড়তা ছাত্রছাত্রীদের গলদ রয়েছে। সেখান থেকেই নানাবিধ বইপত্র পড়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করি।

     হাসানের ইনস্টিটিউটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী জি সুষমার বক্তব্য, ‘মূলত সিভিল সফটওয়্যার শিখতে মাস দেড়েক আগে নিজের অর্ধেক বয়সি স্যারের তত্ত্বাবধানে ক্লাস শুরু করেছি। আমাদের সকলের চেয়ে ও বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু যখন পড়ায় তখন একেবারে অন্য মানুষ। মেধা যেন ঠিকরে পড়ে। কঠিন বিষয়কে জলেন মতো সহজ করে বোঝানোর এক ঔশ্বরিক দক্ষতা রয়েছে ওর।’ হাসানের আর এক ছাত্রী, এম টেক উর্ত্তীণ সাই রেবতী বলেন, ‘এম টেক পাশ করার পর এক মাস হল আমি হাসারেন ছাত্রী হয়েছি। নানা বিষয় ও আমাকে পড়ায়। যেগুলি পরবর্তী ক্ষেত্রে আমার চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’


     আর সে? এত ‘জ্ঞান’ কোথা থেকে অর্জন করে? বিজ্ঞের মতো গম্ভীর স্বরে হাসান বলে, ‘আমার শিক্ষার মূল উৎস ইন্টারনেট।’ তার ইচ্ছা ‘দেশের জন্য কিছু করা’। সব মিলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তিন শাখার ৩০  ছাত্রছাত্রীর কাছে কেরিয়ার গড়ার হাতিয়ার সে-ই, মহম্মদ হাসান আলি।

No comments:

Post a Comment