Breaking

Tuesday, November 20, 2018

হিমবাহ কেটে লাদাখে বিশ্বের উচ্চতম রাস্তা তৈরির কাজ প্রায় শেষ


উচ্চতা ১৯ হাজার শীতে তাপমাত্রা -৪০ ডিগ্রি। হিমবাহ কেটে লাদাখে বিশ্বের উচ্চতম রাস্তা তৈরির কাজ প্রায় শেষ


    হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার। শব্দটির মধ্যেই কেমন যেন অ্যাডভেঞ্চার। শীতলতম হিমবাহের ‘হাতে গরম স্বাদ’ পেতে হলে আপনাকে হতে হবে দক্ষ পর্বতারোহী।

    গত বছর থেকে সেই হিমবাহ কেটে রাস্তা হচ্ছে। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ এখন শেষের পথে। শীতের তিনটি মাস বাদ দিলে বাকি মাস পাঁচেকের মধ্যেই র্কাযত ‘অষ্টম আর্শ্চয’ তৈরি হয়ে যাবে।



    বিশ্বে এই প্রথম। না, সুইজারল্যান্ড অথবা রাশিয়ায় নয়, এমন অসম্ভব সম্ভব হতে চলেছে ভারতে। লাদাখে বিশ্বের মধ্যে এই প্রথম হিমবাহ কেটে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা ১৮ হাজার ফুট উঁচুতে। শীতকালে তাপমাত্রা যেখানে হিমাঙ্কের প্রায় ৪০ ডিগ্রির নিচে। প্রস্তাবিত রাস্তাটি পেরোবে উমলিঙ্গলা টপ হয়ে। সেখানকার উচ্চতা ১৯ হাজার ৩০০ ফুট। এমনই অসাধ্য সাধন শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখে, যা বিশ্বে প্রথম। কাজ শুরু হয়েছে গত বছর থেকে। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার।  থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে চিসুমলে থেকে ডেমচক গ্রাম পযর্ন্ত বিস্তৃত হবে এই রাস্তা। এই ডেমচক গ্রাম থেকে পাথর ছোড়া দূরত্বে চিন-ভারত সীমান্ত। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘হিমাঙ্ক’ প্রকল্পের অধীনে ভারতীয় সেনা বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারেরা কাশ্মীরের লাদাখে হিমবাহ কেটে রাস্তা তৈরির কাজে হাত লাগিয়েছেন।  এমন অসাধ্য সাধনে যে অজস্র বাধা আসছে তাতে আর সন্দেহ কী! আসছেও, জানিয়েছেন কর্মরত এক ইঞ্জিনিয়র। কারণ এই অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশ্য মারাত্মক গ্রীষ্মে এখানে গড় তাপমাত্রা থাকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রকল্প শেষের জন্র মূলত সেই সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের খবর, ৫৬ কিলোমিটার রাস্তা ইতিমধ্যে তৈরী হয়ে গেছে। আর চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ কাতে বদ্ধপরিকর সরকার। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শীত শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজ সাময়িক ভাবে ব্ধ রাখা হয়েছে। নির্মাণকর্মীদের জন্য এখানে বিশেষ ভাবে চিকিৎসা পরিষেবার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রাস্তা তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনার শাখা সংস্থা ‘দ্য বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন’ (বিআরও)। সংস্থার চিফ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডিয়ার ডি এম পূর্বিমাথ বলেন, ‘ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৯,৩০০ ফুট করাটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। নির্মাণকর্মীদের প্রতি মুহূর্তে প্রানের ঝুঁকি থাকে। পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি বলে নয়, আসল কারণ অক্সিজেনের অভাব। স্বাভাবিক জায়গার চেয়ে এত উঁচুতে ৫০ শতাংশ কম অক্সিজেন থাকে। ফলে মেশিন নিয়ে যারা নির্মাণ কাজ করছেন, একটানা ১০ মিনিট কাজ করার পরেই অক্সিজেনের জন্য তাদের নিচে নেমে আসতে হয়।’



    কষ্ট কেবল কর্মীদের একারই নয়, এমন উঁচুতে কাজ করার ফলে প্রতি মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মেশিনপত্র। তাই ব্রেকডাউন নিত্যসঙ্গী। তাকে সময় মতো মেরামত করা আরও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। পূর্বিমাথ বলেন, ‘ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এত উঁচুতে কাজ করার ফলে শ্রমিকরা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অপ্রতুল অক্সিজেনে কাজ করার ফলে তাদের আচমকা স্মৃতিভ্রংশ হয়, চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করা এবং উচ্চ রক্তচাপের শিকার হতে হয়।’

    এমন দুর্গম এলাকায় রাস্তা বানানোর যৌক্তিকতা কী? পযর্টকদের আকর্ষণ করত? একবারেই তা নয়। কাণটি কৌশলী, দেশের নিরাপত্তাজনিত। লাদাখ সীমান্তে চিনা সৈন্যদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা। বিআরও-র ইঞ্জিনিয়ার প্রদীপ রাজ জানান, হাতে-কলমে কাজ শুরু করার আগে কর্মী-অফিসারদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। শারীরিক এবং মানসিক, উভয় দিক দিয়ে পূর্ণ সক্ষম শ্রমিকদেরই (পডুন সেনা জওয়ান) রাস্তা তৈরির কাজে নিয়োগ করা হয়। তিনি জানান, ইতিমধ্যে খারদং লা পাস (উচ্চতা ১৭,৯০০ ফুট) থেকে চাংসা পাস (উচ্চতা ১৭,৬৯৫ ফুট) হয়ে লেবি এবং সেখান থেকে শীতল মরুভুমি নোবরা ভ্যালি ও দুরবুক ভ্যালি পযর্ন্ত রাস্তা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

No comments:

Post a Comment