Breaking

Wednesday, November 28, 2018

৩,৮৪০ কোটি ডলারের মালিক জ্যাক মা, বিশ্বের ধনীতম কমিউনিস্ট


বঙ্গজ কমিউনিস্টরা একদা বলতেন ‘চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’। মওয়ের ‘রেডবুক’-এ একবার চোখ না বোলালে রাতে ঘুম আসত না তাদের। ‘পুঁজিবাদ নিপাত যাক’ বদলে গিয়ে এখন সেই চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অঘোষিত স্লোগান-পোজিবাদ জিন্দাবাদ। 


তিনি চিনের ‘মুকশ আম্বানি’। ড্রাগনের দেশের ধনীতম ব্যক্তি। ই-কমার্স দুনিয়ার বেতাজ বাদশা। কোটি কোটি ডলারের মালিক। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের অন্যতম। তিনি ই-কমার্স দৈত্য ‘আলিবাবা’-র কর্ণধার জ্যাক মা। আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তথা র্কাযনির্বাহী চেয়ারম্যান।

এহ বাহ্য। এই সবের বাইরেও তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। যা এদিন গোপন ছিল, প্রকাশ্যে এসেছে অতি সম্প্রতি। তিনি চিনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। যাকে বলে ‘পার্টি মেম্বার’ (পিএম)। একদা শ্রমিক শ্রেণির দল বলে কথিত কমিউনিস্ট পার্টি দল িএখন শিল্পপতিদের জন্যেও দরজা খুলে দিয়েছে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ। এই সুত্রে জ্যাক মা এখন বিশ্বের ধনীতম কমিউনিস্ট। তার সম্পত্তির পরিমাণ ৩,৮৪০ কোটি মার্কিন ডলার। 


চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘পিপলস ডেইলি’-র পক্ষ থেকে গত সোমবার খবরটি নিশ্চিত করা হয়। তবে ঠিক কবে শাসক দলের সদস্যপদ তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তা জানানো হয়নি। এতদিন লোচক্ষুর অন্তরালে থাকা বিষয়টিকে হঠাৎ কেনই বা প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হল, কীসের প্রয়োজনে তা নিয়েও উচ্চবাচ্য করেনি দলীয় মুখপত্র। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও আগ্রাসী হতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে পাশে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জ্যাক মা। সেই কারনেই দলীয় মুখপত্রের তরফে বিষয়টিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। সবটাই করা হয়েছে জ্যাক মা-র সুবিধার্থে।

ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে চিনে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হয়েছিল। যার আওতায় পুঁজিপতিদের দাবিয়ে রাখার চিরাচরিত কমিউনিস্ট ধ্যান-ধারণা ছেড়ে বেরিয়ে আসার সংকল্প নেওয়া হয়। স্থির হয়, মাওৎসে তুং জমানার রুদ্ধদ্বার নীতি ত্যাগ করে বেসরকারি উদ্যোগকে সেই থেকে স্বাগত জানানো হবে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মোট ১০০ জনকে সদস্যপদ দিয়ে সম্মান জানাচ্ছে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি। এদের মধ্যে জ্যাক মা ছাড়াও রয়েছেন টেনসেন্ট হোল্ডিং লিমিটেডের সিইও পনি মা, বায়দু ইনকর্পের সিইও রবিন লি, বাস্কেটবল তারকা ইয়াও মিং, ভলিবল কোচ ল্যাং পেং। এছাড়াও নাম রয়েছে মহাকাশচারী, বিজ্ঞানী ও শিল্পীর। বর্তমানে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা ৮ কোটি ৯০ লক্ষ। দলের আদর্শ অনুযায়ী, পুঁজিবাদী ব্যবসায়ীরা যেখানে বরাবর ব্রাত্য। বস্তুত, ২০১৩ সালে শিং জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুঁজিপতিদের সঙ্গে পার্টির দূরত্ব কমতে শুরু করে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, কমিউনিস্ট পার্টিকে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেছেন, এক সময় পার্টি বেসরকারি উদ্যোগকে পছন্দ করত না। কিন্তু এখন সরকারের সঙ্গে শিল্পপতিদের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বেজিং-এর মারব্রিজ কনসালটেন্সির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মার্ক ন্যাটকিনের এ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া, পার্টি সদস্য মানে হল দলের সামনে মাথা নত করা। দলই যে দেশের বৈধ শাসক, র্কাযত তা স্বীকার করে নেওয়া। তবে পার্টি করতে গেলে যে সবসময় রাজনেতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে তার কোনও মানে নেই। জ্যাক মা-ই একা কমিউনিস্ট পার্টির ধনকুবের সদস্য নন। রিয়েল এস্টেট দৈত্য জু জিয়াইকন এবং ওয়ান্ডা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং জিয়ানলিনের মতো কোটিপতি ব্যবসায়ী আগেই চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য হয়েছেন।

গত এক বছর ধরে জ্যাক মা দেশের প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিঙের যাবতীয় পদক্ষেপকে উদ্ধাহু হয়ে সমর্থন জানিয়ে চলেছেন। ২০১৬ সালে তিনি বলেছিলেন, দেশের মানুষের উপর নজরদারি চালিয়ে পিনপিং সরকার সঠিক কাজ করছে। এর ফলে যে তথ্য ভান্ডার তৈরি হবে, তা অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজে লাগবে। গত বছর প্রেসিডেন্ট শি বলেছিলেন, দেশে আশঙ্কাজনক ভাবে অসাম্য বাড়ছে। এই অসাম্য দূর করতে অর্থনীতির আরও বৃ্দ্ধি দরকার। এই কথার প্রেক্ষিতে জ্যাক মা তৎক্ষণাৎ বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট একদম সঠিক বলেছেন। যারা ধনসম্পত্তি অর্জন করেছেন, তাদের উচিত অন্যদের উন্নতিতে সাহায্য করা।’ অন্য একটি প্রসঙ্গে জ্যাক মা বলেছেন, ‘আমার সংস্থায় যারা বিনিয়োগ করেন, তারা আমার কাছে গুরুত্বের তালিকায় ৩ নম্বরে। ১ নম্বরে রয়েছেন গ্রাহকেরা। ২ নম্বরে আমার কর্মীরা।’ 


আলিবাবা কোম্পানির বর্তমান মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশী। এই সংস্থা বিশ্বের প্রথম ১০টি দামি কোম্পানি মধ্যে অন্যতম। এদিকে জ্যাক মা সম্পর্কে সোমবার ‘পিপলস ডেইলি’ লিখেছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে তার। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা এবং ইউরেপের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্প-এর সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট শি। সেখানেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন জ্যাক মা। প্রশ্ন হল তার কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য হওয়া প্রসঙ্গে সংস্থার কী প্রতিক্রিয়া? সংস্থার কোনও আধিকারিক রাজনীতিতে যুক্ত হলেও সংস্থার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের উপর তার কোনও প্রভাব পড়বে না। ডিজিটাল যুগে সকলে যাতে সহজে ব্যবসা করতে পারেন, সেই সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

No comments:

Post a Comment