Breaking

Monday, November 26, 2018

কঙ্গোতে সদ্যজাতরা ইবোলার শিকার, দাবি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা। অন্তত এমনই দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। গত তিনদিনের যে রিপোর্ট হু সামনে এনেছে তাতে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ জন শিশু। যার মধ্যে ৭ জন সদ্যজাত। দু’বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২। ১৭ বছরের বয়সের মধ্যেও ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন একজন গর্ভবতীও। সব মিলিয়ে শেষ তিনদিনে ২৬ জনের ইবোলা আক্রান্তের খবর মেনে নিয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রশাসনও। 


    গত তিনমাস ধরেই কঙ্গোতে যেভাবে ইবোলা ভাইরাসের দাট জাঁকিয়ে বসছে তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের। প্রশাসনের তরফ থেকেও কোনও রাখ-ঢাক না করেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শেষ তিনদিনে ৩৩৬ জন ইবোলাতে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ১৭৫ জনের মৃত্যুও হয়েছে। শেষ তিনমাসের মৃতের তালিকা পেশ করতে গিয়ে কঙ্গো প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতের তালিাকয় ৭ জন রাষ্ট্রসংঘের শান্তিবার্তা প্রচার দলের সদস্য ছিলেন আ ১২ জন ছিলেন রিাপত্তআ পর্ষদের সদস্য। 


    বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর পরে কঙ্গো প্রশাসন আরও সমস্যায় পড়েছে। হু’র বিশেষজ্ঞরা মনে করছে শিশুদের মধ্যে মাতৃস্তন থেকে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হু’র বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তরলের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত এবং মৃতের রক্তের বিশ্লেষণ করতে উচ্চপর্যায়ের ফরেনসিক ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। কঙ্গোতে যেভাবে মহামারীর আকার ইবোলা ধরা পড়েছে তারপর আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থা প্রতিনিধিরাই সেখানে কাজ করতে যেতে রাজি হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চাইলে যত দ্রুত সম্ভব কঙ্গোর বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় টিকা সহ অন্যান্য ওষুধের ব্যবস্থা করা। 


    ইবোলাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ইবোলা হেমোরাজিক ফিভার ইএইচএফ। এই ভাইরাস আক্রমণের প্রতম লক্ষণ হল প্রচন্ড জ্বর, সেইসঙ্গে গলায় ব্যাথা। দু-এক দিনের মধ্যে বমি এবং ডায়েরিয়া, সেই সঙ্গে মাথার ব্যাথাও শুরু হয়। এই ভাইরাস মানব শরীরে মূলত কিডনি এবয় লিভারকেই আক্রমণ করছে। কঙ্গোতে যে কয়েকটি ক্ষেত্রে ইবোলা জীবাণু পাওয়া গিয়েছে, তাদের রক্তে পরীক্ষা করেও দেখা হচ্ছে এই ভাইরাসটি তার চরিত্র বদল করেছে কিনা। কর্বোপরি এই ধরনের ভাইরাস ঘটিত রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণ পৃথকীকরণের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হয়। কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হলেও পরিকাঠামোগত কারণেই সেই চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন হু’র স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকারিক জন পল। তিনি বলেছেন, ‘ইবোলা এতটাই মারাত্মক রূপ নিয়েছে যে, নিয়ন্ত্রণে হু’র প্রতিনিধিরাও কঙ্গোতে পা দিতে ভয় পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে অনুরোধ বার্তায় জানিয়েছে কঙ্গো থেকে কোনও ব্যক্তিকেই অন্য কোনও দেশে এই মুহুর্তে প্রবেশের অনুমতি যেন না দেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment