Breaking

Thursday, November 15, 2018

দুষ্প্রাপ্য গোলাপি হিরে! নিলামে দর ৩৬০ কোটি টাকা


হীরের রাজার দেশে গিয়ে হিরের চমক দেখে খুশিতে মন ভরে গিয়েছিল গুপী-বাঘার। কিন্তু সে হীরক-রাজ্যেও ছিল না কোনও গোলাপি হিরে। কারণ সে এতটাই বিরল। কেবল রঙে নয়, আকারেও সে ‘অস্বাভাবিক’ অতিকায়।



     এ বার নিলামে এক খন্ড গোলাপি হিরে বিক্রি হল। কত দাম উঠল? ৫ কোটি মার্কিন ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। যার অর্থ, এই হিরের টুকরোটি বেচে দিয়েই তিনি হয়ে ইঠতে পারেন একটি শিল্প প্রকল্পের মালিক।

     ১৮,৯৬ ক্যারেট ওজনের গোলাপি হিরে। পোশাকি নাম ‘পিঙ্ক লেগ্যাসি’। জেনেবায় ঐতিহাসিক মূল্যবান জিনিসপত্রের বিখ্যাত নিরামঘর ক্রিস্টি-তে অতি সম্প্রতি ঢাকঢোল পিটিয়ে এই হিরে নিলামে ৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে বিক্রি হয়েছে। কাচের টেবিলের উপরে সাজানো গোলাপি হিরে সকলের মন জয় করে নিয়েছিল। নিলামঘরে উপস্থিত এক ব্যাক্তি বলেছেন, ‘নিখুঁত চৌকো আকারে কাটা গোলাপি পাথরটি থেকে যেন হাজার ওয়াটের দ্যুতি ছিটকে বেরোচ্ছিল। অভিজাত এই হিরে কার ঝুলিতে যাবে, তা নিয়ে আমাদের সকলের মধ্যে অপার কৌতুহল ছিল। সেদিন নিলামঘরে সকলের পাখির চোখ ছিল পিঙ্ক লেগ্যাসি।’ অবশেষে সব কৌতুহল নিরসন হল। সমবেত জনতার চোখের সামনে হিরেটি নিজেদের ঝুলিতে ভরে নিল আমেরিকার গয়না প্রস্তুতকারক বিপণি হ্যারি উইন্সটন। ক্রিস্টিসের চেয়ারম্যান তথা রত্ন বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্কোসিস কুরিয়েল জানান, প্রতিযোগিতা ঘিরে মানুষের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। পাঁচ মিনিট ধরে নিলাম পর্ব চলে। ১১ টিরও বেশি সংস্থা ১০ লক্ষ ডলারের কিছু বেশি দর হেঁকেছিল। তবে হ্যারি উইন্সটনের হাঁকা ৫০ মিলিয়ন ডলারের হাঁকা দর সব রেকর্ড ছাপিয়ে যায়। কুরিয়েলের কথায়, ‘এর আগে এত মহার্ঘ ঐতিহ্যময় রত্ন কখনও নিলামে ওঠেনি।’ ক্রিস্টির আর্ন্তজাতিক গয়না বিভাগের প্রধান বাহুল কাডাকিয়া বলেন, ‘আমোরিকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে যাওয়ার পর এই হিরের নতুন নাম হয়েছে উইন্সটন পিঙ্ক লেগ্যাসি।’



     কাডালিয়া আরও বলেন, ‘এটাই যে বিশ্বের একমাত্র গোলাপি হিরে তেমন নয়। গোলাপি হীরকখন্ড আরও রয়েছে। কিন্তু পিঙ্ক লেগ্যাসির মতো বৃহদাকার, তার উপর নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল গেপারাপি হিরে বিরলতম। ১৯ ক্যারেটের হিরে বিক্রি হল ৫ কোটি ডলারে। তবেই বুঝুন যে এই হিরের ১ ক্যারেটের দাম কত।’ হিরের শ্রেণিবিবাজনে পিঙ্ক লেগ্যাসি ‘ক্যান্সি ভিভিড’ শ্রেণিভুক্ত। এই হিরের বঙের তীব্রতা সব চেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ লক্ষ আহরিত হীরকখন্ডের মধ্যে এমন তীব্র রঙের হিরে মেলে বড়জোর ১টি। সর্বোপরি এর আকার। সচরাচর খনি থেকে যে হিরে আহরিত হয়, পিঙ্ক লেগ্যাসি তার চেয়ে অন্তত ১০ ক্যারেট বড়। বিশ্বে সর্বপেক্ষা গোলাপি হিরে আহরিত হয় অস্ট্রেলিয়ার আর্গাইল খনি থেকে। যদিও প্রবল লোসানের কারণে ২০২০ সালে সম্ভবত খনিটি বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সারা বিশ্বে যত গোলাপি হিরে আহরিত হয়, আর্গাইল খনিতেই মেলে তার ৯০ শতাংশ।

     পিঙ্ক লেগ্যাসি-কে দক্ষিণ আফ্রিকা কোনও এক আকরিকের খনি থেকে প্রায় একশো বচর আগে পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করেন জেনেভার রত্ন বিশেষজ্ঞ জিন মার্ক লুনেল। তিনি জানান, এটিই এখনও পযর্ন্ত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হীরকখন্ড। ১৯২৯ সালে এই হীরকখন্ডটিকে কেটে ১৯ ক্যারেটের ওজন দেওয়া হয়। একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তা হল এতদিন পিঙ্ক লেগ্যাসির মালিক কে ছিল? কেনই বা তারা বিক্রি করল? ক্রিস্টি সেই তথ্য অবশ্য প্রকাশ্যে আনেনি। সংস্থর তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একদা এই হিরের মালিক ছিল সুইডেনের ওপেনহেইমার পরিবার, যারা তিন পুরুষ ধরে ‘ডি বিয়ার্স’ ডায়মন্ড কোম্পানির মালিক ছিল। ২০১১ সালে ওই পরিবার ডি রিয়ার্স খনি কোম্পানি বিক্রি করে দেয়।



     তবে গোলাপি হিরে হিসাবে দুনিয়ায় পিঙ্ক লেগ্যাসি সর্বকালীন সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হলেও হিরের জগতে এ পযর্ন্ত সবচেয়ে বেশি দরে বিক্রি হয়েছিল ২০১৭ সালের এপ্রিলে হংকংয়ে সোদবির নিলামঘরে। ৫৮.৬ ক্যারেটের র্কাযত দৈত্যাকার একটি হীরকখন্ড নিলামে বিক্রি ডলারে। সেই কাটা হিরের পোষাকি নাম ছিল ‘পিঙ্ক স্টার’। এর পর গত বছরের নভেম্বরে ‘পিঙ্ক প্রমিস’ নামে একটি হিরে ক্রিস্টি-র হংকংয়ের নিলামঘরে বিক্রি হয় ৩ কোটি ২৫ লক্ষ ডলারে। সেটি ছিল ১৫ ক্যারেটের হিরে। যার অর্থ এক-একটি ক্যারেটের দাম উঠেছিল ২০ লক্ষ ডলারেরও (২.১৭৬ মিলিয়ন ডলার) বেশি। সেখানে ক্যারেট পিছু পিঙ্ক লেগ্যাসির দর ২.৬৩৭ মিলিয়ন ডলার।

No comments:

Post a Comment