Breaking

Saturday, November 10, 2018

অবশেষে চালু হল চিনের প্রায় ৫৫ কিমির সমুদ্রসেতু, বিশ্বে দীর্ঘতম!


কল্পনা করুন, সমুদ্রের বুক চিরে লং ড্রাইভে যাচ্ছেন আপনি। ৫৪.৭ কিলোমিটার পথ পেরোচ্ছেন গাড়ি চালিয়ে। যেখানে আপনার দু’দিকে অপার বিস্তৃত নীল জলধি!



    না, আর কল্পনা নয়। নয় বছর ধরে তৈরীর পর মঙ্গলবার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গোটা বিশ্বকে চমকে দেওয়া এই সেতু গড়তে খরচ হয়েছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। এটিই এখনও পর্যন্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতু বা সি ক্রসিং ব্রিজ।



    দক্ষিন চিনের মূল ভূখন্ডের ঝুহাই শহরের সঙ্গে এ সেতুর মাধ্যমে জুড়ে গেল ম্যাকাও এবং হংকং। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এর ফলে আগে যেঝানে এই পথ গাড়ি দিয়ে প্রায় তিন ঘন্টা সময় লাগত, এখন সেখানে লাগনে মাত্র ৩০ মিনিট। ঝুকাই শহরে এসে মঙ্গলবার সেতুটির উদ্বোধন করেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।


    তবে কেবল দেখলেই হবে না, খরচাও আছে! এ সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি পারাপার করতে গেলে টোল ট্যাক্স দিতে হবে ভারতীয় মুদ্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। গোটা প্রকল্পটি তৈরী করতে ভারতীয় মুদ্রায় ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ সংবাদপত্রে প্রকাশ, এই অর্থের মধ্যে ১৫ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা লগ্নি করেছে হংকং। প্রযুক্তিও স্থাপত্যের দিক থেকে সেতুটি অনবদ্য হলেও এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও শুরু হয়েছে। নির্মাণের সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও চিনকে বিস্তর সমালোচনা হজম করতে হয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রে এই সেতুকে ‘ব্রিজ অফ ডেথ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এই ব্রিজ তৈরীর সময় নিহত হয়েছেন ১৮ জন শ্রমিক। যদিও বেসরকারী মতে সংখ্যাটি আরও বেশী। শক্তিশালী মাত্রায় ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্প প্রতিরোধী এই সেতু তৈরী করতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ লক্ষ টন ইস্পাত। যে পরিমান ইস্পাত দিয়ে নাকি ৬০টি আইফেল টাওয়ার নির্মান করা সম্ভব ছিল বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা। প্রায় ৩০ কিলোমিটার পার্ল নদীর উপর দিয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি জাহাজ চলাচল চালু রাখতে ৬.৭ কিলোমিটার জায়গা রাখা হয়েছে সমুদ্রের নিচের সুড়ঙ্গপথ। এখানেই শেষ নয়, এর দুটি অংশের মধ্যে সংযোগস্থলে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ। ১৪ মাইল এলাকার মধ্যে এমন দুটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরী কৃত্রিম দ্বীপ তৈরী করা হয়েছে। একদা ব্রিঠিশ কলোনি হংকং এবং একদা পতুর্গিজ কলোনি ম্যাকাও-সহ আরও নয়টি শহরকে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর সমুদ্র-এলাকা তৈরী প্রকল্পের অংশ হিসাবে এই বিস্ময়কর সেতু তৈরী করেছে চিন।



    তবে কেউ চাইলেই সেতুটি অতিক্রম করতে পারবেন না। যারা সেতু পেরোতে চাবেন, তাদের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং সমস্ত ধরনের যানবাহকেই দিতে হবে চোল ট্যাক্স। এ সেতুতে আলাদা করে কোনও গণপরিবহন থাকবে না। যদিও যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য চলবে শাটল বাস পরিষেবা। সেতু কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯,২০০ যান চলাচল করবে এর উপর দিয়ে। চিনের গ্রেটার বে এলাকায় অবস্থিত এই সেতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর ভূমিকম্প প্রতিবোধী ক্ষমতা। রিখটার স্কেলে ৮ তীব্রতার ভূমিকম্প হলেও এউ সেতু ভেঙ্গে পড়বে না, জানিয়েছেন হংকঙের কার্যনির্বাহী কাউন্সিলের উয়ং কুক কিন। তার কথায়, ‘চিনের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে হংকং, ম্যাকাও, গুয়াংদঙের মধ্যে অন্যতম বন্ধন হয়ে উঠবে এই সেতু।’ সেতুটি চালু হয়ে গেলে দেশের জিডিপি আরও বাড়বে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment