Breaking

Thursday, November 8, 2018

মোক্ষ লাভের আশায় চলত উপাসানা থেকে নরবলি


৩০০ শতকে তৈরি পিরামিডের নিচে মিলল বিশাল সুরঙ্গ।

পিরামিড এই শব্দেই যেন লুকিয়ে রয়েছে অপার রহস্য। প্রাচীন দুনিয়ার কত না অজানা রহস্য এই পিরামিড ঘিরে।

এ বার মেক্সিকোয় এমনই এক রহ্স্যব্রত সুরঙ্গ আবিস্কৃত হল, যার ভউগউলিক অবস্থান পিরামিডের নিচে। বিজ্ঞানীরা এই সুড়ঙের নাম দিয়েছেন ‘আন্ডারওয়াল্ড টার্নেল’। যার কাছাকাছি বাংলা প্রাতিশব্দ হতে পারে ‘অপরাধ জাগাতের সুরাঙ‘।



    মেক্সিকোর নেশ্যানাল ইনন্সিটিউট অফ অ্যানথ্রোপলজি অ্যান্ড হিস্ট্রি অব মেক্সিকো জিও ফিজিক্সের গবেষকরা কম্পিউটার চালিত টেমোগ্রাফির মাধ্যমে এই সুরঙ্গের অবস্থান চিহ্নত করেছেন। দিনেস আগারতো অসপিনো নামের এক বিজ্ঞানী গোঁটা প্রকল্পের অধিকরতা। তিনি জানিয়েছেন, ওই সুড়ঙ্গের নিচে গাছপালা রয়েছে। প্রায় ২৬ ফুট দীর্ঘ সুড়ঙ্গ রয়েছে পিরামিডের নিচে। এটির ব্যাস প্রায় ৪৯ ফুট। মেক্সিকোর তেওতিহুয়াকান নামে অধুনা বিলুপ্ত এক

শহরের প্রতিষ্ঠাতা কে তা আজও জানা যায়নি। তবে সেই সময় এই পিরামিড-ই ছিল শহরের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। 300 শতকে এটি তৈরি হয়েছিল। এক দল গবেষক দাবি করেছেন, সে সময়  একজনই এই সভ্যতার শাসক ছিল, যাকে ইতিহাসের পাতায় ‘স্পিয়ার থ্রোয়ার আউল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    মেক্সিকোর এই পিরামিডকে বলা হয় ‘চাঁদের পিরামিড’। একদল ইতিহাসবিদ দাবি করেছেন, এই গোপন সুড়ঙ্গটি উপাসনার জন্য ব্যবহার করা হতো। আজকের আধুনিক সমাজ ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’-এর যে সংঙ্গা নির্ধারণ করেছে, প্রাচীন আমলের সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক ছিল। প্রাচীন আমলে আন্ডারওয়ার্ল্ড-এর অর্থ ছিল উপাসনাগৃহ বা ঈশ্বর চর্চার স্থল। যার সঙ্গে অপরাধ-সংগঠনের কোনও সম্পর্কই ছিল না। ২০১৭ সালের জুলাই নাগাদ চাঁদের পিরামিডের নিচে গোপন সুড়ঙ্গটি আবিস্কৃার করা হলেও অতি সম্প্রতি গবেষকরা সরকারি ভাবে এটি জানিয়েছেন। এই সুড়ঙ্গ থেকে মেসোআমেরিকা সভ্যতার সূত্রপাতের ইতিহাস জানা যাবে বলে ইতিহাসবিদরা দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে কৃষি সভ্যতারও ইতিহাসের অনেক অজানা কাহিনি এই সূত্রে উঠে আসবে। এখনও পর্য়ন্ত যতটুকু সুড়ঙ্গের ভিতরে যাওয়া সম্ভব হয়েছে তাতে পাওয়া গেছে মানুষের মাথার খুলি, ফুলের পাপড়ির অবশেষ, গয়না ও সবুজ পাথর বসানো নানা সমগ্রী। উল্লেখ্য এই একই জিনিস পাওয়া ‍গিয়েছিল পিরামিডের ভিতরের সমাধিতেও। তবে এর বাইরে সামরিক কাজে লাগে এমন কোনও সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। এর ফলে বাইরের জগতের কাছে এই সড়ঙ্গের অস্তিত্ব তখন অজানাই ছিল।

    দিনেস আগার্তো এসপিনো জানিয়েছেন, ‘পিরামিড অফ দ্য মুন-এর সহস্যজনক সুড়ঙ্গটি এতটাই নিখুত ভাবে তৈরি, যা দেখে বর্তমান প্রযুক্তিবিদদেরও মাথা ঘুরে যাবে।’ গবেষকদের অনুমান, এই সুড়ঙ্গের ভিতরে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো, যা সমনে থেকে প্রত্যক্ষ করত প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) মানুষ। গবেষকরা বলছেন, তেওতিহুয়াকান শহরের সভ্যতা আচমকিই বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু ওই বিলুপ্তির কারণ কী এতদিন অজানা ছিল। এই সুড়ঙ্গ আবিষ্কারের সূত্র ধরে সেই সংক্রান্ত তথ্য এ বার  ‍সামনে আসবে বলে তাদের ধারণা। ওই সভ্যতা বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের ভিটে চাটি হয়। এতগুলি মানুষের কোথায় ঠাঁই হয়েছিল, নাকি তারা সকলে পর্যায়ক্রমে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল, এই সুড়ঙ্গের সূত্র ধরে তাও জানা যাবে বলে গবেষকরা দাবি করছেন। তারা বলেছেন, ‘পিরামিড অফ দ্য মুন’ বা চাঁদের পিরামিড নামটি দিয়েছিল অ্যাজটেকরা। সুড়ঙ্গের ভিতরের কেন্দ্রটি হল ‘প্লাজা দে লা মুন’ অর্থাৎ চাঁদের বাড়ি।



    ১৩০০ সালে অ্যাজটেকরা এই অঞ্চলে আসে। প্রতিটি পিরামিডের নামও তাদেরই দেওয়া। প্রাচীন কালে এই সুড়ঙ্গে উপাসনা করে মানুষ মোক্ষ লাভ করত, আবার মোক্ষ লাভের উদ্দেশ্যে মানুষকে বলিও দেওয়া হতো বলে মনে করা হচ্ছে। কালক্রমে অ্যাজটেক সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে তেওতিহুয়াকান শহর। সপ্তদশ শতক থেকে এখানে প্রত্নাতাত্ত্বিক সমগ্রীর খোঁজ শুরু হয়। মূল যে চাঁদের পিরামিড, সেখানে প্রায় ১২টি পিরামিডের প্লাটফর্ম রয়েছে। এটি একেবারে সূর্যের পিরামিডের বিপরীত অবস্থান। ওই সভ্যতায় মানুষ ও পশু বলি দেওয়ার রীতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইতিহাসবিদরা। পিরামিডের মাটিতে বিদ্যুৎ পাঠিয়ে সেখানে থাকা পদার্থগুলির ক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। সেখান থেকেই সুড়ঙ্গটির ২ ডি এবং ৩ ডি গঠন তৈরী করা হয়।

    ১৯৯৯ সালে এই পিরামিডে খননের সময় পাওয়া গিয়েছিল একধিক পশুপাখি ও সরকঙ্কাল। ইতিহাসবিদদের অনুমান, ১০০ থেকে ২০০ শতকের মধ্যে তাদের সমাহিত করা হয়েছিল। চাঁদের পিরামিডের পাদদেশ থেকে একটি রাস্তা চলে  গিয়েছে, একে বলা হচ্ছে ‘অ্যাভিনিউ অফ ডেড’।

No comments:

Post a Comment