Breaking

Friday, November 9, 2018

বোর্নিওতে আবিষ্কৃত চল্লিশ হাজার বছর আগের প্রথম গুহাচিত্র !!! শুনলে আতকে উঠবেন



মানব সভ্যতার ইতিহাসে্ এ পর্ষন্ত আবিষ্কৃত সর্বপ্রাচীন রূপক শিল্প কোনটি, তা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। এটি রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার এক পাহাড়েপ গুহায়। আদতে গুহাচিত্র। গবেষকরা বলেছেন, এই শিল্পকর্মের বয়স চল্লিস হাজার বছর। এটি রূপক শিল্প। অর্থাৎ এ পর্ষন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রথম ‘ফিগারেটিভ আর্ট’। যেখানে অস্ত্রশস্ত্র বা বিমূর্ত রেখাচিত্র নয়, স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়েছে কোনও প্রাণীর দেহের স্কেচ।



     প্রায় এক দশক আগে বোর্নিও-র দুর্গম এক পার্বত্য এলাকায় ইউরেনিয়ামের খোঁজে খননের সূত্রে আবিষ্কৃত হয়েছিল ওই গুহাচিত্রটি। পাথরে খুদাই করা রেখাচিত্র। পরবর্তী পর্যায়ে ওই গুহাচিত্রগুলির উপরে গবেষণা চালান অস্টেলিয়ার গিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ছবিতে বোঝা যাচ্ছে, স্থানীয় কোনও ব্ন্য গবাদি পশুর ছবি সেটি। ইউরেনিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে তেজক্রিয় ধাতু। প্রকৃতিতে সর্বোচ্চ ভরসম্পন্ন তেজক্রিয় ধাতব মৌল। সেই পাথরের গায়েই পাওয়া গিয়েছিল ওই রেখাচিত্র, গবেষণার সূত্রে জানা যায় যেটির বয়স আনুমানিক ৪০,০০০ বছর। এই আবিষ্কার আরও একটি প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দিয়েছে। তা হল, এতদিন পর্ষন্ত মনে করা হতো গুহাচিত্র শুরু হয়েছিল ইউরোপে। এখানে দেখা গেল, ইউরোপের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে আঁকা হয়েছিল এশিয়ার গুহাচিত্র। প্রত্ন গবেষক ম্যাক্সিম অবার্ট সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘বোর্ণিওর গুহাচিত্র আবিষ্কারের সূত্রে আমরা জানতাম, গুহায় পাথরের উপর খোদিত রূপক শিল্প ইউরোপের স্পেন, ইটালি এবং ফ্রান্সেরই নয়, কম-বেশি সমসাময়িক সময়ে শুরু হয়েছিল এশিয়াতেও।’


      এর আগে ২০১৪ সালে এই ইন্দোনেশিয়ারই সলায়েসির পাহাড়ে পাওয়া গিয়েছিল পাথরে খোদিত আরও একটি রূপক শিল্প। এই প্রসঙ্গে অবার্ট বলেন, ‘আমরা সেই গুহাচিত্র নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বুঝতে পারি, সেটি আঁকা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩৫,০০০ হাজার বছর আগে। তবে এই ছবিটির বয়স তার চেয়েও অন্তত পাঁচ হাজার বছরের পুরানো।’ 


     ম্যাক্সিম অবার্ট পেশায় অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। বহু দিন ধরেই তার নেতৃত্বে একদল গবেষক বোর্নিও-তে পূর্ব কালিমাটাং পার্বত্য এলাকায় আবিষ্কৃত গুহাচিত্রের উপর গবেষণা চালাচ্ছিলেন। আবার্টের পৌরোহিত্যে এই গবেষণাপত্রটি গত বুধবার বিশ্বখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধটির সঙ্গে ছাপা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় গত দশ বছর ধরে আবিষ্কৃত একাধিক গুহাচিত্র। হলুদ রঙ্গের কোনও পেন্সিল অথবা লাল রঙের পাথরের সূক্ষ ডগায় পরিভাষায় স্টেনসিল কেটে আঁকা হয়েছে কতগুলি বন্য জন্তুর ছবি। সর্বপ্রাচীন গুহাচিত্রটি ছাপা হয়েছে সবার শেষে। প্রথম যে গুহাচিত্রটি রয়েছে, সেটি মানুষের রেখাচিত্র। তবে ওই লাল রঙেই আঁকা। আর একটি গুহাচিত্রে রয়েছে একসঙ্গে মানুষ, নৌকা এবং সঙ্গে কিছু জ্যামিতিক রেখাচিত্র। এগুলি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে অবার্ট ও তার দল দাবি করেছেন, ‘সামাজিক জীবনে গবাদি পশুর প্রভাব ছিল চল্লিশ নয়, বাহান্ন হাজার বছর আগে। সর্বাধিক প্রাচীন যে ছবিটি, সেটি আকারেও সর্বাধিক।’




     অবার্টকে উদ্ধৃত করে গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ‘গুহাচিত্রের জনক কে? ইউরোপের ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন নাকি ইন্দোনেশিয়া? আমাদের গবেষণা এই মৌলিক প্রশ্নটি উস্কে দিল।’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের গবেষণা প্রমাণ করেছে নির্দিষ্ট ভাবে ইউরোপ নয়, প্রত্নপ্রস্তর যুগে ইউরোশিয়া ছিল রূপক শিল্পের আবিষ্কর্তা। সে যুগে শুরু হয়েছিল তুষারযুগ শেষ হওয়ার অব্যবহিত পরেই। তখন মান সভ্যতার বিস্তার ছিল মূলত একদিকে ইউরোপ, তার অপরদিকে ইন্দোনেশিয়া।

No comments:

Post a Comment