Breaking

Saturday, November 10, 2018

৫,৩০০ বছর প্রাচীন মমির দেহ অস্রোপচার করেন বিজ্ঞানীরা


তৈলাক্ত খাবারের প্রতি মানুষের প্রেম পাঁচ সহস্রাব্দ বছরের

৫,৩০০ বছর আগে মানুষ কী জাতীয় খাবার খেত জানেন? মূলত স্নেহজাতীয় খাবার। পাঁচ হাজার তিনশো বছরের এক প্রকৃতিক মমির ‘দেহ’ কয়েক বছর ধরে গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁচেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের দাবি, এই মমির সূত্রে তাম্র যুগে মানুষের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। স্নেহজাতীয় খাবার গড়পড়তা মানুষের অতি প্রিয়। এই মমি নিয়ে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ফ্যাট খাদ্যের প্রতি মানব-প্রেম আজকের নয়, পাঁচ হাজারের বছরেরও বেশি পুরানো।

      মমিটি উদ্ধার হয়েছিল ২৭ বছর আগে, ১৯৯১ সালে আল্পস পর্বতমালার ওটজালে। ইকদল জার্মান পর্য্যটকের নজরে আসে সেই প্রাকৃতিক মমি। পর্বতের হিমবাহের খুাঁজে সেটি আটকে ছিল। েএর পরেই ওই মমি নিয়ে শুরু হয় গবেষণা। মমিটির পরণে যে কোট, বেল্ট, লেগিংস ও জুতো, তা সবই ছিল ভিন্ন ভিন্ন পশুর চামড়া থেকে তৈরি। ওই মমি নিয়ে প্রাথমিক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, খ্রিষ্টপূর্ব ৩,৪০০ থেকে ৩,১০০ শতাব্দীর মধ্যে পৃথিবীতে বাস করেছিল এই প্রচীন মানব। সেই ‘আইসম্যান’ বা প্রকৃতিক মমি গত সাতাশ বছর ধরে বিজ্ঞানীদের উঃসাহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। সেই মমি থেকেই গবেষকরা জানার চেষ্টা করছিলেন, এটির বয়স কত। কী ভাবে মারা গিয়েছিল গই মানুষ। বিজ্ঞানীরা এই মমির নাম দেন ওৎজি দ্য আইসম্যান। তার পশমের চামড়ার কোট, ছাগলের চামড়ার পোশাক, দাঁতের অংশ, গোড়ালি ইত্যাদি নিয়ে শুরু হয় গবেষণা। জানা যায়, মমিটির বয়স ৫,৩০০ বছর। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা হদিশ পেয়েছেন, ওই মনিুষটি মৃত্যুর আগে কী খাবার খেয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সুষম হলেও সেই খাবারে উচ্চমাত্রায় ফ্যাট ছিল। হিমবাহের পাশেই মারা যায় ওৎজি দ্য আইসম্যান। সেখানেই পুরু বরফের খাঁজে হাজার হাজার বছর ধরে মৃতদেহটি সুরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে একদল গবেষক দাবি করেন, ওৎজিকে তার পরিচিত কেউ খুন করেছিল। ২০০১ সালে ওৎজির কাঁধে একটি তিরের ক্ষতচিহ্ন আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী গবেষণায় জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে ওৎজির ডান কাঁধেও আঘাত লাগে। তবে সেই আঘাতে তার মৃত্যু হয়নি। তিরটি তার কাঁধে আকস্মিক আঘাত হেনেছিল। এ পর্য্ন্ত মোটামুটি ঠিক ছিল। ধন্দ বাড়ে অনত্র, কারণ তার পাকস্থলী পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তারও হদিশ পান বিজ্ঞানীরা। পাকস্থীলতে পাওয়া পরজীবি থেকে তাদের ডিম নিয়ে প্রাচীন যুগের মানুষের খাদ্যাভ্যাস জানান চেষ্টা শুরু হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওৎজির পাকস্থলীতে বুনো ছাগলের মাংসের চর্বি ছিল। এ ছাড়াও ছিল হরিণের মাংস এবং প্রাচীন আমলের এক ধরনের খাদ্যশস্য। সেই সঙ্গে কিছুটা বিষাক্ত ফার্ন গাছের অংশ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওৎজির পাকস্থলীতে চর্বির পরিমাণ তাৎপর্র্যপূর্ন, ৫০ শতাংশ। আধুনিক খাদ্য তালিকায় খুব বেশি হলে ফ্যাটের পরিমাণ থাকে ১০ শতাংশ।



     ইটালির বোলজানোর ইউরাক বিচার্স ইনস্টিটিউট ফর মামি স্টাডিজের বিজ্ঞানী ড.ফ্রান্ক মেইস্কনার জানান, বরফ-যুগের মানুষটি সেখানে বাস করত, সেই স্থান নিয়ে তারা এখন গবেষণা চালাচ্ছেন। কারণ যে এলাকায় মানুষটি শিকার করেছিল, তার জন্য দেহের বাড়তি শক্তি দরকার। আর সেই শক্তি পেতে দরকার বারতি ফ্যাট। রুক্ষ পরিবেশে বেঁচে থাকতে প্রয়োজনীয় শক্তি একমাত্র ফ্যাট দিতে পারে বলে তিনি জানান।

     সম্প্রতি ‘কারেন্ট বায়োলজি’ পত্রিকায় গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রের সহ-লেখক অ্যালবার্ট জিঙ্ক বলেছেন, ‘ওই প্রাচীন মানুষটি বিলক্ষণ জানত যে ফ্যাট জাতীয় খাবারই তাকে শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়তি শক্তি জোগাতে পারে।’ এখানে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাম্র যুগে মানুষ কী খেত, এই মমি থেকেই তার ধাণা মেলে। বছর বছর ধরে তার দেহ প্রাকৃতিক ভাবেই মমিতে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণেই তার পাকস্থলী স্থান বদল কারেছিল। তবে তা ছিল দেহের ভিতরেই। গবেষকরা এই নিবন্ধে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ওৎজি যে খাবার খেয়েছিল তাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট ছিল।


     কাজেই সে খাবারকে সুষম বলা যায়। শেষে ওই ব্যাক্তি খেয়েছিল মাংস। ইউরোপিয়ান আল্পসে এক ধরনের বুনো ছাগল সে সময় বাস করত, যার নাম আলপাইন আলবেক্স। খুব সম্ভবত সেই প্রাণীর মাংস থেয়েছিল ওৎজি। তবে পাশাপাশি সেই মানুষটি সেদিন ভেষজ খাবারও খেয়েছিল। কারন তার পাকস্থলীতে পাওয়া গিয়েছে ব্র্যাকেন নামে এক ধরনের র্ফান। যা কিছুটা বিষাক্ত উদ্ভিদ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আবার এমন হতেও পারে যে ওই উদ্ভিদ নয় বরং ওই ফার্নের পাতায় করে প্রাচীন মানুষটি খাবার খেয়েছিল। সেই সময়ই তার পেটে কিছুটা র্ফান চলে যায়। ওৎজির ‘শরীরে’ আরও একটি আর্শ্চযজনক বস্তু ছিল, ট্যাচুর আধিক্য। যা সে দেহে তৈরী করেছিল প্রাচীন পদ্ধতিতে।

No comments:

Post a Comment