Breaking

Saturday, November 17, 2018

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রকে ফেলো হিসাবে নির্বাচিত করল রয়্যাল সোসাইটি


পটচিত্রের জন্য বিখ্যাত ধুবনি। বিহারের এই জেলা দেশকে নেহাত কম শিল্পী-সাহিত্যিক উপহার দেয়নি। এবার সেই মধুবনি আবার উঠে এল সংবাদ শিরোনামে। বিহারের এই জেলার সারাথ গ্রামের ১৮ বছরের এক কিশোরকে ফেলো হিসাবে নির্বাচিত করল ব্রিটেনের স্বানামধন্য ‘বয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’ (আরএএস)। এই সেই শিক্ষায়তন যেখান থেকে একদা ফেলো হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন স্যার আইজাক নিউটন, আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো মনীষী বিজ্ঞানী। এ বার সেই বন্ধনীতে চলে এল মধুবনির এক কিশোর।



     পাটনার দিল্লি পাবলিক স্কুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অমল পুষ্প। পাটনার সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স-এর সুপারিনটেন্ডেন্ট পদে কর্মরত সঞ্জয় কুমারের পুত্র অমল। মা পুষ্পা কুমারী গৃহবধু। অর্থাৎ তথাকথিত কোনও গবেষক পরিবারে না জন্মেও পাটনায় বসে মাত্র আঠারো বছরের এই গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্ব অর্জন করল অমল। মুখ্যত জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সৌর বিজ্ঞান চর্চা-কেন্দ্র আরএএস। গৌরবোজ্জ্বল এই শিক্ষায়তনে এখন সারা বিশ্ব থেকে সদস্য সংখ্যা চার হাজার। মহাকাশ বিজ্ঞানে উন্নততর গবেষণার উদ্দেশ্যে ১৮২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। লন্ডনের বার্লিটন হাউজে সোসাইটির সদর দপ্তর।

     স্টিফেন হকিংয়ের হাত ধরে পদার্থ বিজ্ঞানের অন্যতম চর্চিত বিষয় ব্ল্যাকহোল নিয়ে অমল উত্থাপন সম্পর্ণ ভিন্ন এক তত্ত্ব। সেই সূত্রেই তাকে ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত করেছে রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। ব্ল্রাহোল ব্রহ্মান্ডের এমন একটি বিষয় যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতুহল ও গবেষণার অন্ত নেই। এই বিষয়ে একটি পরিচিত উপপাদ্য হচ্ছে ‘নো হেয়ার থিয়োরেম’। এই তত্ত্বের মাধ্যমেই সমস্ত ব্ল্যাকহোলের ‘সম্পদ’ বিচার করা হয়। এই সম্পর্কিত স্বীকৃত এবং মোটের উপর প্রচলিত যে তত্ত্ব, অমল বলেছে তার ভিন্ন কথা। সম্পূর্ণ নতুন একটি মাপদন্ডের নিরিখে ব্ল্যাহোলের হিসাব মেলাতে চাইছে। কী বলেছে সে? সারা বিশ্ব জুড়ে যে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন ছড়িয়ে আছে, বিং ব্যাং তত্ত্ব বলছে, ব্রহ্মান্ডের ব্যাপ্তির সঙ্গে সেগুলি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়েছে। ক্রমে সেগুলি এখন অতি শীতল অবস্থায়, যেগুলির তাপমাত্রা গড়ে ২.৭ কেলভিন। এই রেডিয়েশনের কথা পদার্থ বিজ্ঞানীদের কাছে অতি পরিচিত বিষয়। বিশ্বব্রহ্মান্ডে ছেয়ে রয়েছে এই রেডিয়েশন। তবে এর তাপমাত্রা সর্বত্র এক নয়। জয়গা ভেদে সামান্য ফারাক রয়েছে।


     কিন্তু, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অমল পুষ্প বলেছে, সম্পূর্ণ ভাবে একই রকমের দুটি ব্ল্যাকহোল যদি দুটি আলাদা জায়গায় থাকে, আর সে দুটি জায়গায় উপস্থিত রেডিয়েশনের তাপমাত্রা যদি আলাদা হয়, তা হলে তার উপর নির্ভর করে ব্ল্যাকহোলে মাস, তাপমাত্রা এবং এনট্রপিও পাল্টে যাবে। অমল নির্ভূল অঙ্ক কষে দেখিয়েছে, কত তাপমাত্রার ফারাকে ব্ল্যাকহোলে কতখানি পরিবর্তন হবে। এই বিষয়ে লিখিত একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্রের দৌলতেই রয়্যাল অ্যাস্টোনমিক্যাল সোসাইটির ফেলো হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে বিহারের এই বিস্ময় কিশোর। মহাকাশ-পদার্থ বিজ্ঞানী মহল বলেছে, ব্ল্যাকহোল গবেষণার ইতিপূর্বে এই নতুন মাপদন্ড (প্যারামিটার) নিয়ে আর কেউ কাজ করেননি।

এর পরেই ঘটে যায় চমক। অমলের ওই পেপার চোখে পড়ে যায় রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সদস্য, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রিত অধ্যাপক, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী লর্ড মার্টিন রিজের। অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির তরফ থেকেই অমলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সোসাইটির ডেপুটি র্কাযনির্বাহী অধিকর্তা ড.রবার্ট মেসি চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন, অমল পুষ্পকে তারা ফেলো হিসাবে নির্বাচিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অমলকে ফেলো হিসাবে মনোনীত করার জন্য আমাদের কাছে সুপারিশ করেছিলেন স্বয়ং লর্ড মার্টিন রিজ। এটা কোনও পুরস্কার নয়, আমার তাকে সদস্য সোসাইটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করেছি।’


স্কুলে কেমন ছাত্র এই অমল? পাটনার দিল্লি পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল বি বিনোদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘অমল পুষ্প ছাত্র হিসাবে উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। কারণ, ও ফিজিক্সে ছাড়া অন্য কিছু পড়ে না। ফিজিক্সে ও ফুল মার্কস পায় ঠিকউ, তবে অন্য বিষয়গুলিতে পিছিয়ে পড়ছে।’ অমলের উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টজনক হবে বলেও তিনি মনে করেন না। এদিকে রয়্যাল অ্যাস্টোনমিক্যাল সোসাইটির ইতিহাস বলছে, ১৮ বচরের উপর হলেই যে কোনও কারও পেপার এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হতে পারে। তবে েএত দিন এই ফেলোশিপের জন্য অভিজ্ঞ গবেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকেরাই নির্বাচিত হয়েছেন। পার্থ ঘোষের প্রতিক্রিয়া বিজ্ঞানী মহলকে হতবাক করে দিয়েছে। যেখানে নম্বর নয়, মেধাকেই স্বীকৃতি জানানো হয়, সেখানে গবেষণার সুয়োগ পাচ্ছে আঠারো বছরের এক ভারতীয় কিমোর, আমার কাছে এর চেয়ে গর্বের বিষয় আর কি হতে পারে।’

No comments:

Post a Comment