Breaking

Wednesday, February 13, 2019

February 13, 2019

অবৈধ নির্মাণে গুঁড়িয়ে গের লতা মঙ্গেশকরের ফ্ল্যাট


৩৫ বছর পর ৩৫ তলার প্রতিভা হাউজিং ধুলোয় মিশলো

মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি এরাকা ১৯৮৪ সালে একটি বহুতর নির্মান করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর সেই অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বৃহত্তর মুম্বাই পুরসভা (বিএমসি)। পুরসভার এই সিদ্ধান্তে ভাঙা পড়ল একাধিক অনাবাসী ভারতীয়দের ফ্ল্যাট, এমনকী ভারতরত্ন সম্মানে ভুষিত লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের ফ্ল্যাটও ভাঙা পড়ল। 

    ব্রিচ ক্যান্ডি এবং পিডার রোড থেকে অনতি দূরে সোফিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিভা হাউজিং সোসাইটি নামে একটি বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে। সেই সময় ওই বহুতল নির্মাতা বিএমসির কাছে জমির যে খসড়া জমা দিয়েছিলেন তাতে উল্লেখ করা ছিল ৯২৮২ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে বাড়িটি তৈরি হবে। প্রস্তুতকারক সংস্থার নথির ভিত্তিতে বিএমসি’র তৎকালীন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সারদ কাঁটে ওই এলাকায় ৩৫ তলা বাড়িটির অনুমোদন দেয়।

    কিন্তু এই অনুমোদনের মাত্রা চার বছরের মধ্যেই অরুন ভাটিয়া নামে বিএসসি’র বিল্ডিং বিভাগের এক কমিশনার এর তদন্তে নামেন। আর তখনই দেখা যায়, প্রতিভা হাউজিং সোসাইটির জন্র যে ৯২৮২ বর্গ মিটার জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। ওই প্রস্তুতকারক সংস্থাটির হাতে জমির পরিমাণ মাত্র ৭১৯৭ বর্গ মিটার। অর্থাৎ ২৭ হাজার বর্গ ফুট এলাকাকে অতিরিক্ত দেখিয়ে অবৈধ ভাবে ন’টি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের মে মাসে এই অভিযোগটি অরুণ ভাটিয়া বিএমসি’তে জানায়। যদিও তার ঠিক দু’সপ্তাহের মধ্যেই অরুণকে বিল্ডিং দপ্তর থেকে বদলি করে দেওয়া হয়। 

    বিলাসবহুল এই এলাকাটিতে যে সোসাইটি গঠন করা হয়েছিল, তাতে একাধিক অনাবাসী ভারতীয় যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন লতা মঙ্গেশকার এবং আশা ভোঁসলেও। ১২ জুলাই ১৯৮৪ সালে বিএমসি প্রতিভা হাউজিংয়ের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। বিএমসি’র তথ্য অনুসারে প্রতিভার বেআইনি নির্মাণ কাজটি নথিবদ্ধ হয়েছে ১৯ জুন, ১৯৮৪।

    ব্রিচ ক্যান্ডি ওই এলাকায় জমির দাম বিশাল। প্রতিভা হাউজিংয়ের প্রতিটি তলায় ২ হাজার বর্গ ফুট জুড়ে এক-একটি ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে এক-একটি ফ্ল্যাটের দাম ছিল ১০-১২ কোটি টাকা। ৭ আগস্ট ১৯৮৪ সালে বিএমসি’র তরফে নির্দেশ জারি করে বলা হয়, প্রতিভা হাউজিংয়ের ন’টি তলা অবৈধ। ফলে ৩৫ তলা নয়, ২৬ তলাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে ওই হাউজিং সোসাইটিকে। কিন্তু ততদিনে ৩৫ তলা প্রতিভা হাউজিংয়ের বাড়িটি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই বিএমসি ওই ন’টি তলাকে ভাঙার নির্দেশ দেয়। পুরসভার এই নির্দেশ মানতে চাননি হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা। ৬ আগস্ট ১৯৮৪ সালে বিষয়টি নিয়ে মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা দাখিল করেন হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা। সেখানে লতাজি এবং আশাজি’র তরফ থেকে তাদের কৌসুলিরাও উপস্থিত ছিলেন। টানা চার বছর মামলা চলার পর মুম্বাই হাইকোর্ট প্রতিভা হাউজিংয়ের ওপরের ন’টি তলকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে এবং তা দ্রুত ভাঙার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুসারে ১১ মার্চ ১৯৮৪ সালে ওপরের ন’টি তলা ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যায়।

    এর প্রায় ১৮ বছর পর হাউজিং সোসাইটির তরফ থেকে বিএমসি’তে পুনর্নিমাণের আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনে সোসাইটির সম্পাদক জয়ন্ত ভোরা জানায়, ‘সোসাইটি গঠনের নিয়ম অনুসারে প্রতিটি সদস্যের জন্য সমপরিমান জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ন’টি তলা ভেঙে দেওয়ার ফলে সোসাইটির ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন কোনও জায়গা পাননি। তাই বাড়ির পুনর্নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হোক।’ 

    কিন্তু বিএমসি’কে নতুন করে আর বিতর্কে জড়াতে হয়নি। এর আগেই কোর্টের নির্দেশ অবৈধ সুযোগ আদায়ের অভিযোগে সারদ কাঁটেকে জেলে ঢুকতে হয়েছিল। ২০১২ সালে ২৬ তলার প্রতিভা হাউজিংকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জয়ন্ত। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল সেই সময় ৯০০ কোটি টাকা দেবে বলেও জানিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই সোসাইটির তরফ থেকে ১২০০ কোটি টাকা হাসপাতালের কাছ থেকে দাবি করা হলে, বিক্রি প্রক্রিয়াটিও স্থগিত হয়ে যায়। সোসাইটি প্রথমে পরিকল্পনা করেছিল, বাড়ি বিক্রির টাকা সমান অনুপাতে ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ভাগ করা হবে। কিন্তু বিক্রি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতেই ২০১৬ সালে সোসাইটির তরফ থেকে বিএমসিতে বাড়িটি ভাঙার আবেদন জানানো হয়। শেষ পযর্ন্ত চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বিএমসি সেই আবেদন মঞ্জুর করে। মঙ্গলবার বিলাসবহুল প্রতিভা হাউজিং ধুলিসাৎ হয়ে গেল।

Friday, February 8, 2019

February 08, 2019

গত এক বছরে ১৬২ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে নিম্ন আদালত


২০১৮ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬২ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত দু’দশকের হিসাবে এক বছরে এতগুলি ফাঁসির আদেশ কোনও দিনই হয়নি। সম্প্রতি নয়াদিল্লি জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে বারতে মৃত্যুদন্ডের বিষয়ে সমীক্ষা চালাতে গিয়ে এই রিপোর্ট উঠে এসেছে। 

    বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে ভারতীয় মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস বিষয়ে একটি বিশেষ বিভাগে গবেষণা করছেন অধ্যাপক মৈত্রেয়ী মিশ্র। তিনি বলেছেন, ২০০০-২০১৫ সাল পযর্ন্ত ৫ শতাংশের নিচে মৃত্যুদন্ডের হার ছিল। দেশের মোট অপরাধী যারা পিনরাল কোর্ডের ধারায় অধিযুক্ত, সেই সংখ্যার নিরিখে এই সমীক্ষাটি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের হিসাব অতীতের যাবতীয় রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। ২০১৮ সালের আইনী নথি বলছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের উচ্চ ন্যায়ালয়ে ৫৫ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে। এই ৫৫ জনের মধ্যে ৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। এই ৫৫ জন মৃত্যুদন্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মধ্যে ২৪ জন যৌন নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত।

    ভারতের সমস্ত প্রদেশের মধ্যে ২০১৮ সালে সবথেকে বেশি মৃত্যুদন্ডের রায় শুনিয়েছে মধ্যপ্রদেশের একাধিক দায়রা আদালত। সেখানে ২২ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ মধ্যপ্রদেশে ২০১৭ সালে মাত্র ৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। সুতরাং সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে প্রায় সাড়ে তিনশো শতাংশেরও বেশি মৃত্যুদন্ডের আদেশ মধ্যপ্রদেশ রাজ্য আইন দপ্তর দিয়েছে। একই চিত্র কর্নাটকেও। সেখানে ২০১৭ সালে মাত্র দু’জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। 

    আর এক বছরের মধ্যে সেই সংখ্যাটা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৫-এ। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাডুতে অবশ্য চিত্রটা একটু আলাদা। সেখানে ভারতীয় দন্ডবিধির চরম সাজাপ্রাপ্তের সংখ্যা গত এক বছরে কমেছে। মহারাষ্ট্রে ২০১৭ সেখানে ২২ জনকে মৃত্যুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল, ২০১৮ সালে তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে ১৮ জনকে ফাঁসির সাজা শুনতে হয়েছিল। আর গত বছর সংখ্যাটা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-এ। তামিলনাডুতে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ২০১৭ সালে ১৩ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল আর ২০১৮ সালে তা ১২-তে নেমেছে।

    ২০০৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পযর্ন্ত সুপ্রিম কোর্টের কাছে হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ১২টি মৃত্যুদন্ত সংক্রান্ত মামলা চলছিল। বিভিন্ন সমযের পরিপ্রেক্ষিতে এই ১২টি মৃত্যুদন্ডের মামলার মধ্যে ১১টিতেই চুড়ান্ত সম্মতি দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালায়। যার মধ্যে আজমল কাসভের ফাঁসির মামলাও রয়েছে। নিম্ন আদালতগুলিতে কেন মৃত্যুদন্ডের সংখ্যা বাড়ছে তাই নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন নয়াদিল্লির জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা রুচি চৌধুরী। পসকো আইনের ৩৬৫, ৩৬৬ (ক), ৩৭৬ ধারাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন রুচি। তিনি বলেছেন, ‘যে ১৬২ জনের ফাঁসির আদেশ বিভিন্ন রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলি দিয়েছে, তার সিংহভাগই শিশুদের ওপর শারীরিক নিগ্রহের জন্য।’

    ভারতীয় আইন ব্যবস্থায় মৃত্যুদন্ড নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচাপতি কুরিয়ান জোসেফ। হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের মুখ্য বিচারপতি থাকাকালীনও তিনি মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তিন তালাক বিরুদ্ধে রায় দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টিকারী জোসেফ বলেছিলেন, ‘মৃত্যুদন্ড কোনও দিন কোনও সমাজের অপরাধকে বদলে দিতে পারে না। তাই এটি কখনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসাবে পরিগণিত হতে পারে না। আমি নিজে ফাঁসি বা যেকোনও ধরনের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আমৃত্যু প্রতিবাদ করব।’ 

    সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম প্রবীণ আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘নিম্ন আদালত কাউকে ফাঁসির আদেশ দিলে সেটা সর্বোচ্চ হয় না। উচ্চ আদালত আসামীর আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, কোন ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, আসামীর পূর্বে কোনও অপরাধ প্রবণতা ছিল কিনা, এমনকী জেলে তার আচরণ ইত্যাদি একাধিক বিষয়ে বিচার করে তবেই সিদ্ধান্ত নেন।’

    উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিশুদের ওপর শারীরিক নিগ্রহের অপরাধে অভিযুক্তদের চুড়ান্ত শাস্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

Thursday, February 7, 2019

February 07, 2019

বিশ্ব শান্তির অভিনব বার্তা দুই ধর্মগুরুর


বরাবরই তিনি নিয়মতন্ত্রের বেড়াজালে আটকে থাকতে অভ্যস্ত নন। কখনও রাজপথে এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করেন তিনি। কখনও আবার নিজের বক্তৃতার মাঝে শিশুদের দাপাদাপিকেও হাসি মুখে সহ্য করেন তিনি। ভ্যাটিকান সিটির কড়া নিয়মশৃঙ্খলা প্রথম থেকেই মানেননি খ্রীস্টিও ধর্মাবলম্বীর সর্বোচ্চ শ্রদ্দার পোপ ফ্রান্সিস। ধর্ম নিয়ে সমস্ত রকম গোড়ামির বিরুদ্ধে তিনি। এমন উদারপন্থী পোপ খ্রীষ্টধর্মের ইতিহাসে আগে কখনও এসেছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। আর তাই সৌদি আববের যুবরাজ শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আলকে আমন্ত্রণ করে ভ্যাটিকানে এনেছিলেন। আবার সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে তিনি নিজেই ছুটে গিয়েছেন মুসলিম সাম্রাজ্যে। 

    আর সেখানে গিয়ে বিশ্বশান্তি কামনা মিশরের গ্র্যান্ড ইমাম আল আলজহার-শেখ-আহমেদ-আল তায়েব’কে পবিত্র চুম্বন করে শপথ নিলেন যুদ্ধ বিদ্ধস্তদের রক্ষা করতে হবে। আবুধাবিতে দুই সম্প্রদায়ের দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের মিলনে ধরা দিল বিশ্বশান্তির এক অভিনব চিত্র। পোপ প্রান্সিস এবং ইমাম আল তায়েব যৌথভাবে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে একটা চুক্তিতে সহ করলেন। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘যুদ্ধ অরাজকতা, অবিচারের শিকার সব মানুষই-মানুষ। তাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। সকলের জন্য সমান সহমর্মিতা বোধ নিয়ে বিশ্বের সমস্ত প্রান্তে কাজ করতে হবে। আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছি, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে কোনওরকম ভাবে অত্যাচারিত মানুষের মধ্যে বিভাজন করা হবে না। কোথাও সন্ত্রাস, রক্তপাত এবং হিংসা হতে দেওয়া যাবে না।’ 

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ধর্মযুদ্ধেরও আশঙ্কা করছেন দুই সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুরা। বিশেষত ইজরাইল এবং প্যালেস্তাইনের দ্বন্দ্বে প্রতিবেশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষষের মধ্যে সম্পর্কে যে অবনতি হচ্ছে সেই কথা অকপটে স্বীকার করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। আবুধাবিতে সৌদি যুবরাজের উদ্যোগে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের সামনে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিলেন পোপ এবং ইমাম। সুন্নি সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ইমাম আল তায়ের শান্তি সম্মেলনে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের খ্রীষ্টান ভাই-বোনেরা আমাদের সহ নাগরিক, সহকর্মী। তাদের সঙ্গে অন্তরের যোগ বাড়াতে হবে।’ আর পোপ ফ্রান্সিসের মতে, ‘বিশ্বের কোনও জায়গা আলাদা করে কোনও সম্প্রদায়ের জন্য নয়। সর্বত্র সকলের অবাধ বিচরণ হওয়া উচিত।’ 

    প্রায় এক দশক আগে মিশরের সেনা অভ্যুত্থানের সময় বহু সমালোচিত হয়েছিলেন তায়েব। অতীতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের দায়িত্বও সামলেছিলেন তায়েব। কিন্তু সেই সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের এক শ্রেণির মানুষের মুখ থেকে তায়েবের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল ‘হয় ইসলাম, নয় মৃত্যু।’ কিন্তু সময় এখন বদলেছে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যুবরাজ বিন জায়েদ আল দুই ধর্মাবলম্বীর শীর্ষ ধর্ম গুরুদের পাশাপাশি রেখে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিলেন তা সত্যি অভিনব।


Wednesday, February 6, 2019

February 06, 2019

জাপানে আবার দেখা মিলল রিউগু, ফের সুনামির আতঙ্ক


২০১১ সালে জাপানের বিভিন্ন উপকুলের দেখা মিলেছিল ‘রিউগু নো সুকাই’ নামে এক বিশেষ ধরনের মাছের। জাপানিরা এই মাছকে সমুদ্র দেবতার দূত বলেই মনে করে। তাদের বিশ্বাস, সমুদ্র দেবতা যখন রুষ্ঠ হন, তখনই তিনি নাকি জল ছেড়ে ডাঙায় উঠে আসেন। আর তখনই বিপযর্য় দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে। 

    বৈজ্ঞানীক ভাবে যদিও এর কোনও ব্যাখ্যা মিলছে না জীববিদদের কাছে, তবুও সুনামির আতঙ্ককেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সমুদ্র বিজ্ঞানীমহল। ২০১১ সালে সুনামিতে জাপানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ‘র্সূয ওঠার দেশ’ এর মানুষেরা এখনও বিশ্বাস করেন, এই মাছ যদি পর পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে তাহলে সমুদ্র দেবতা রুষ্ঠ হয়েছেন বোঝা যায়। আর তখনই রুষ্ঠ দেবতার কোপে পড়ে গোটা দেশ। এখনও পযর্ন্ত জাপানের বিভিন্ন উপকূল জুড়ে মোট আটটি রিউগু মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার জাপানিরা যেহেতু এই মাছকে সমুদ্রের দেবতা বলে মনে করে তাই এই মাছ কখনওই খায় না তারা। 

    প্রায় ৩.২ মিটার লম্বা এই মাছের বাসস্থান টোয়ামা সাগরে। বিজ্ঞানীরা এই মাছকে ‘ওয়ার ফিশ’ বলে শনাক্ত করেন। সমুদ্রের উপরিতল থেকে ৮০০ কিংবা হাজার মিটার নিচে এই মাছ দেকা যায় বলে সমুদ্র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সমুদ্রের নিচে উষ্ণতার পরিবর্তন হলেই এই মাছ সমুদ্রের গভীর থেকে ক্রমশ উপরের দিকে উঠে আসতে থাকে। টোয়ামা সাগরে যে কটি রিউগু মাছ ধরা পড়েছে, সেই জেলেদের সঙ্গেও কথাবার্তা বলেছেন সমুদ্র বিজ্ঞানীরা। জেলেরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের উপরিবাগ থেকে মাত্র ১০০ মিটার নিচেই জেলেদের পাতা জালে ধরা পড়েছে রূপালি রঙের বিরল প্রজাতির এই মাছ। ধরা পড়া মাছগুলির কোনও কোনওটি আবার চার মিটারের বেশি লম্বা। সমুদ্রের নিচে উষ্ণতার পরিবর্তন ক্রমশ চিন্তায় ফেলেছে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের। তাদের আশঙ্কা যদি জলস্তরের উষ্ণতার এইভাবে পরিবর্তন ঘটে তাহলে পাত সঞ্চালন হতে বাধ্য। অর্থাৎ আবার একটি সুনামির আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জাপান এবং আমেরিকার সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা।

    যদিও জীববিজ্ঞানীরা এর পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যতা খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা সমুদ্রের তলদেশে উষ্ণতার পরিবর্তনকে দায়ী না করে সমুদ্র দূষণকেই দায়ি করেছেন। তারা বলেছেন, সমুদ্রের নিচে যেহেতু দূষণের মাত্রা বেড়েছে তাই জলের অম্ল এবং ক্ষারের তারতম্য ঘটছে। আর সেই জন্যই জলের গভীরতা ছেড়ে এই মাছ ক্রমশ উপরের দিকে উঠে আসছে। বিশ্বায়নের ফলে বিরল প্রজাতির ওয়ার ফিশের সংখ্যা ক্রমশ কমছে বলেও দাবি জীববিজ্ঞানীদের। 

    বিজ্ঞান যাই বলুক না কেন জাপানিরা এখনও রিউগু মাছের মড়ক দেখে আতঙ্কের প্রহর গুণছেণ। টোয়ামা উপকূলভাগ ছেড়ে দূরে সরে যাচ্ছেন ধীবর সম্প্রদায়ের মানুষরাও।

Tuesday, February 5, 2019

February 05, 2019

মাত্র ৫ হাজারে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি দিল্লির একটি সংস্থার


           পাঁচ হাজারি টিভি

ü  ১৩৬৬/৭৮৬ পিক্সেলের ডিসপ্লে
ü  ১৬.৯ আনুপাতিক পর্দার হার
ü  ডায়ানামিক রেশিও ১০০০০০০:১
ü  দুটি ১০ ওয়াটের স্পিকার
ü  ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যাম
ü  ৪ গিগাবাইটের স্টোরেজ
ü  দু’টি ইউএসবি পোর্ট রয়েছে

দেশের সবচেয়ে সস্তায় টেলিভিশন বানিয়ে রীতিমতো চমকে দিল দিল্লির একটি সংস্থা। ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভির দাম মাত্র ৫ হাজার টাকা। 
স্যামি ইনফরম্যাটিক্স নামে দিল্লির একটি সংস্থা এমন সস্তায় টিভি বানিয়েছে। গত বুধবার তাদের বানানো ৩২ ইঞ্চির এলইডি টিভি বাজারে এসেছে। যার দাম মাত্র ৮,৯৯৯ টাকা। এর পর অবশ্য ‘শিপিং কস্ট’ এবং জিএসটি রয়েছে। তবে বাড়ি পযর্ন্ত নিয়ে আসতে গ্রাহককে আরও কিছু টাকা গুনতে হবে।


ওই সংস্থার দাবি, অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তির এই টিভি ভারতের বাজারে সবচেয়ে সস্তা। ‘এসএম৩২কে ৫৫০০’ মডেলেরে এইচডি এলইডি টিভিটি সমস্ত ধরনের আধুনিক অ্যাপের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যাবে বলে সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে। সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩৬৬/৭৮৬ পিক্সেলের ডিসপ্লে এবং ১৬.৯ আনুপাতিক পর্দার হার, ডায়ানামিক রেশিও ১০০০০০০:১। এই টিভিতে দুটি ১০ ওয়াটের স্পিকার রয়েছে। আরও উচ্চমানের সাউন্ড শোনার জন্য রয়েছে এসআরএস ডলবি ডিজিটাল এবং ফাইভ ব্যান্ডের ইক্যুয়ালাইজার। 

টিভি নির্মাতা সংস্থার আরও দাবি এই টিভির সমস্ত ‘স্পেয়ার পার্টস’ তথা যন্ত্রাংশ এ দেশেই তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ এই টিভির মধ্যে ‘মেইড ইন চায়না গন্ধ নেই। সংস্থার দাবি, এই টিভির মধ্যে বিদেশি কোনও যন্ত্রাংশ নেই। বরং দেশীয় যন্ত্র ব্যবহারের ফলে ওই সব যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় ২০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, ভিতরের যন্ত্রাংশগুলি সব দেশে তৈরি হলেও টিভির প্যানেল দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

সংস্থার ডিরেক্টর অবিনাশ মেহতা বলেন, ‘আমরা দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই এই টিভি বানিয়েছি। সব কিছু ঠিক থাকলে এই টিভির বাজারে দারুণ সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। বহু সাধারণ মানুষ বাড়িতে একটি এলইডি টিভি রাখার খোয়াব দেখেন। হয়তো দামের জন্য সকলের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ বার সেই মানুষগুলি নিশ্চয়ই আমাদের টিভি কিনতে পারবেন। গ্রাম এবং শহরের বাজার ধরতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। আশা করছি এবার দেশের মানুষের ঘরে ঘরে ৩২ ইঞ্চির টিভি পৌঁছে যাবে। প্রশ্ন জাগে এত সস্তায় কী বাবে এই টিভি বেচে তারা কী ভাবে লাভ করবেন? অবিনাশ জানান, আমাদের পরিকল্পনাই হচ্ছে এই টিভি বিক্রি করে রাভ করা। গ্রাহক যখনই টিভি অন করবেন, কিছু বাণিজ্যিক বিজঞাপন আপনা থেকেই টিভির কোণায় ফুটে উঠবে। গ্রাহক চাইলে সেগুলি মুছেও দিতে দিতে পারেন। ওই বিজ্ঞাপন থেকে রোজগার বাড়বে আমাদের।

অবিনাশ জানিয়েছেন, তাদের এই অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে রয়েছে ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যাম ও ৪ গিগাবাইটের স্টোরেজ। এই টিভিতে আগে থেকেই ইনস্টল ও কনফিগার করা থাকবে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মতো কিছু অ্যাপ। এর পর গ্রাহক তার পছন্দ অনুযায়ী গুগল প্লে থেকে অন্যান্য টিভিও এবং অডিও অ্যাপ ইনস্টল করে নিতে পারবেন। এখানে ২ টি এইচডিএমআই এবং ২টি ইউএসবি পোর্ট রয়েছে। রয়েছে একটি অডিও-ভিডিও আউটপুট এবং ইনপুট।

নিশ্চয় ভাবছেন, কোন দোকানে এই টিভি পাওয়া যাবে? না দোকানে নয় এটি কেনার প্রাথমিক শর্ত হল একমাত্র অনলাইন থেকেই কিনতে হবে। এবং সেটি কেবল মাত্র অর্ডার করা যাবে ‘স্যামি’ (Samy) অ্যাপ থেকে। সেখানে টিভির দাম দেখানো হবে ৪,৯৯৯ টাকা। 

তবে সারা দেশের যে কোনও জায়গায় ডেলিভারির জন্য ‘শিপিং কস্ট’ হিসাবে দিতে হবে ১২০০-১৮০০ টাকা। সেই সঙ্গে লাগবে ১৮ শতাংশ জিএসটি। সব মিলিয়ে এই টিভির দাম পড়বে সাত থেকে আট হাজার টাকা। উল্লেখ্য, এখন বাজারে যে সমস্ত এলইডি এইচডি টিভি পাওয়া যায়, তার দাম শুরু হয় ১০ হাজার টাকা থেকে। স্যামি ইনফরম্যাটিক্স ২০১৬ সালের স্টার্ট আপ সংস্থা। ২০১৭ সাল থেকে তারা বাজারে টিভি বিক্রি শুরু করে।

Monday, February 4, 2019

February 04, 2019

স্কুল শিক্ষকের সৌরবিদ্যুতে চালিত বাইক এবার অভিনব আবিষ্কার


    জীবাশ্মহীন শক্তি
  Ø ছ’টি সানপাওয়ার প্যাকের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন
  Ø ৬০ কিলোমিটার ঘন্টা পিছু ছুটবে বাইক
  Ø দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা চার্জই যথেষ্ট
  Ø দিনে একবার চার্জেই ১০০ কিমি যাবে বাইক
  Ø মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচে তৈরি হয়েছে বাইকটি
  Ø জ্বালানি খরচের সঙ্গে দূষণও থাকবে না যানটিতে


পেট্রলের বদলে সৌরশক্তিতে বাইক চালনোর এক অভিনব কৃতিত্বের নজির গড়লেন পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শুভময় বিশ্বাস। বছর তিরিশের এই স্কুল শিক্ষকের বাইকটি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে। আর সেখান থেকেও সম্মানিত হয়েছেন শুভময়বাবু।

    হঠাৎ করে কেন এই ধরনের চিন্তভাবনা সেই নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পেট্রলের লাগাম ছাড়া মূল্য বৃদ্ধিতে যখন গাড়ি চালানেই দুষ্কর হয়ে উঠেছে, তখন নিখরচায় বাইক চালানোর জন্য তার এই অভিনব উদ্যোগ। পাড়ার একটি পুরোনো লোহার দোকান থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি অচল বাইক কিনেছিলেন তিনি।

    তবে প্রথম থেকেই বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার উদ্ভব ঘটেনি তার। পুরোনো বাইককে নতুন রূপে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। আর সেজন্যই স্থানীয় গ্যারেজেও যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও ফল মেলেনি। হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছিল তাকে। গ্যারেজের মালিকরা জানিয়ে দিয়েছিল, এই অচল বাইককে সচল করার মতো পদ্ধতি তাদের জানা নেই।

    কিন্তু তাতে হতাশ হননি তিনি। প্রায় গোটা চৌদ্দো খানা সোলার প্লেট কিনে নিজের কারিগরি দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন তিনি। শেষমেশ চারটি সোলার প্লেটেই দিব্যি চলতে শুরু করল শুভময়ের সাধের বাইক। এখন প্রতিদিনই ওই বাইকে করেই স্কুলে যান তিনি। তার দাবি ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দৌড়বে এই বাইক অথচ কোনও জ্বালানি খরচ নেই।

    নিজের বাড়ি থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ২২ কলোমিটার। দিনে যাতায়াতে প্রায় একশো টাকার কাছাকাছি খরচ হতো তার। তাছাড়া সময় মতো স্কুলেও পৌছতে পারতেন না তিনি। তাই সাধ ছিল নিজেই দু’চাকা চালিয়ে স্কুলে যাবেন। প্রথম দিকটা ভরসা ছিল সাইকেল।

    তারপর সাইকেলকে ছুটি দিয়ে বাইক কিনলেন। অকেজো বাইককে সচল করতে টানা প্রায় একমাস রাতে দু-তিন ঘন্টা পরিশ্রম করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইলেকট্রো ফিজিক্স, ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের স্নাতক স্তরের প্রযুক্তি বিভাগের একাধিক বইয়েরও সাহায্য নিতে হয়েছিল তাকে।

    সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি শুভময়ের। মাত্র চারটি ‘সান পাওয়ার প্যাক’ দিয়েই দিব্যি বাইক ছুটিয়ে চলেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় ‘সোলার বাইক’ দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়েছিল। প্রদর্শনীতে শুভময় জানিয়েছেন, দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা চার্জ দিলেই প্রায় ১০০ কিলোমিটার ছোটানো যাবে বাইকে। 

    বিজ্ঞান প্রযুক্তি মেলার সহকারী সম্পাদক অভিমুন্য বন্দ্যোপাধ্যায় প্রদর্শনীর সেরার সম্মান শুভময়ের হাতে তুলে দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘এই বাইক শুধু পকেট বাঁচাবে নয়, একই সঙ্গে পরিবেশও বাঁচবে।’

Saturday, February 2, 2019

February 02, 2019

রমরমিয়ে মৃতদের অ্যাকাউন্ট চলছে ফেসবুকে, শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা


ফেসবুক তো নয়, যেন ভার্চুয়াল গণকবর! ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য পাচারের মতো অভিযোগ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্যোশ্যাল মিডিয়ার গায়ে আগেই লেগেছিল। এ বার ভারতীয় সাইবার বিশেষজ্ঞদের শিরঃপীড়া বাড়াল, মার্ক জুকেরবার্গের সাধের ফেসবুকে মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট। সাইবার বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি দেখেছেন, শুধু ‘ফেবু’কে এক দোষ দিয়ে লাভ নেই, গোটা ডিজিটল প্ল্যাটফর্ম জুড়েই রমরম করছে মৃতদের অ্যাকাউন্ট। 

    সব মিলিয়ে কেবল ফেসবুকেই মৃতদের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কম-বেশি আট হাজার! প্রতিদিন এই সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন দিন আসছে যেদিন জীবিতদের চেয়ে মুতদের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ফেসবুকে বেড়ে যাবে।

    এ দেশের বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, ফেসবুকের বর্তমান গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের আলাদা গোপনীয়তা নীতি রয়েছে, যা ফেসবুকে নেই। তাই কোনও ফেসবুক গ্রাহকের মৃত্য হলেও তার অ্যাকাউন্টটি একই ভাবে ‘সচল’ থেকে যায়। 

    হয় সেই মৃত ব্যাক্তির নিকট কোনও আত্মীয় সেই অ্যাকাউন্টের দখল নেন অথবা সেটি পুরোপুরি হ্যাকারদের কব্জায় চলে যায়। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়ে এই মুহূর্তে প্রায় পাঁচ কোটি অ্যাকাউন্ট চলে গিয়েছে হ্যাকারদের দখলে। এর মধ্যে অধিকাংশ অ্যাকাউন্টের গ্রাহকই মৃত।

    জাতীয় সাইবার দলের অন্যতম শীর্ষকর্তা পবন দু্গ্গলের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যাবহার করেন এমন গ্রাহকের মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে তার অ্যাকাউন্টের দখন নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে অনুমতি নিতে হয়। 

    সাধারণ গ্রাহকের স্ত্রী-সন্তান বা কোনও নিকটাত্মীয় অথবা অভিভাবকের সেই অধিকার থাকে। এই প্রক্রিয়াকে সাইবার দুনিয়ায় বলা হয় ‘ডিজিটাল উত্তরাধিকার’। যেহেতু ফেসবুকের পলিসির ক্ষেত্রে কোনও জোরদার নিয়মকানুন নেই, তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অ্যাকাউন্ট অবৈধ ভাবে ‘জবরদখল’ হয়ে যায়।

    মৃত গ্রাহকের নাম ভাঁড়িয়ে অপরাধমূলক কাজ হয়েছে, এমন উদাহরণও কম নেই। পবন দুগ্গল জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে লগ ইন করা সম্ভব নয়। কোনও গ্রাহকের মৃত্যু হলে ই-মেইল করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। অনুমতি সাপেক্ষে তবেই অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। টুইটারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রায় একই রকম। কোনও গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট সচল থাকলে অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা রেখে দিয়েছে টুইটার। মৃত গ্রাহকের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় সে ক্ষেত্রে ওই টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাতে পারেন। তবে তার জন্য দিতে হয় সচিত্র পরিচয়পত্রের প্রমাণ। 

    মার্ক জুকেরবার্গের সহপাঠী অ্যারন গ্রিনস্প্যান সম্প্রতি দাবি করেছেন, ১০০ কোটি জাল অ্যাকাউন্ট রয়েছে ফেসবুকে, যা ফেসবুকের মোট গ্রাহকের প্রায় ৫০ শতাংশ।

    ‘রিয়্যালিটি চেক’ নামে ৭০ পাতার একটি রিপোর্টও পেশ করেছেন গ্রিনস্প্যান। সেখানে তিনি বলেছেন, নকল অ্যাকাউন্ট নিয়ে যে গ্রাহকদের কত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা এতদিন ফেসবুক স্পষ্ট করে জানায়নি। ফেসবুকের যত প্রোফাইল রয়েছে, তার ৫০ শতাংশই ভুয়ো।

    ওই জাল প্রোফাইলের মাধ্যমে ফেসবুকের অনেক গ্রাহকই প্রতারিত হয়েছেন। নকর খবর ছড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রশাসন পযর্ন্ত ভুয়ো ফেসবুকের ফাঁদে পড়েছে।